বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল ছিনতাইয়ের ঘটনা
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রকাশ্যে দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো সারা বছর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। তবে বছরের শেষ ভাগে শুরু হয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই। অক্টোবরে তিন দিনের ব্যবধানে একটি মোটরসাইকেলসহ ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পর পর একই কায়দায় এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় শহরজুড়ে দেখা দেয় ডিবি পুলিশ আতঙ্ক।
এ বছরের ২ অক্টোবর দুপুরে নগরীর রাণীবাজার এলাকায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন ফেরদৌসি বেগম নামে এক নারী। দুই যুবক অভিনব কৌশলে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। তদন্তে নেমে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এক ছিনতাইকারীর ছবিও সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু ছিনতাইকারীদের এখনও ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, ছিনতাইকারীর ছবি সংগ্রহ করে দেশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমেও ছবি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছিনতাইকারীদের সন্ধান মেলেনি। মামলাটির এখনও তদন্ত চলছে। ছিনতাইকারীদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাণীবাজারের এ ছিনতাইয়ের ঘটনার তিন দিনের মাথায় নগরীর উপকণ্ঠ মাহেন্দ্রা এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ডিবি পুলিশের স্টিকার লাগানো পোশাক পরেই ছিনিয়ে নেয়া হয় একটি জুট মিলের সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। তল্লাশির নামে থামানো হয়েছিল জুট মিলের ওই পিকআপ ভ্যানটি। এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলাটির তদন্ত করছেন মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের পর মতিহার থানা পুলিশ সন্দেহভাজন দু’জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু তারা স্বীকারোক্তি দেয়নি। মাহেন্দ্রার ওই ছিনতাইয়ের পর বগুড়ায় একই কায়দায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আমরা ধারণা করছি, এ দুটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে একই চক্রের সদস্যরা জড়িত। তাই বগুড়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার ছয়জনকে মতিহার থানার মামলাতেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এখন তিনি ওই ছয় আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। এ জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে বগুড়ার আসামিদের বাইরে আর কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তদন্ত কাজও শেষ হয়নি বলে জানান ডিবি পুলিশের ওসি হুমায়ুন কবীর। মাহেন্দ্রার চাঞ্চল্যকর এ ছিনতাইয়ের দু’দিন আগে জেলার পবা উপজেলার কসবায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে শরিফুল ইসলাম রাজিব নামে এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়া হয়। এই ছিনতাইকারীদের হাতেও ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। ক’দিন পর একই কায়দায় নগরীর ভেড়িপাড়া মোড়ে সাদ ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন। এর আগে জুলাইয়ে নগরীর ডাবতলা এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গরু ব্যবসায়ী রুহুল আমিন নয়নের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় ২০ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে একই কায়দায় নগরীর দুই সতীনের মোড় এলাকায় আবদুল হালিম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা। আলাদা আলাদা এসব ঘটনায় মামলা হলেও টাকা এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার আল আমিন হোসাইন বলেন, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইগুলো করেছে। কিন্তু রাজশাহীতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই তারা মনে করছেন, অন্য জেলা থেকে এসে ছিনতাইকারীরা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ছিনতাইকারীদের দাপট রুখতে নগরীতে স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি আরও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাতের অভিযান। তাতে কমেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
