নারকোটিক্সের সেই মালেক ঘুরেফিরে বরিশালে
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে একাধিকবার বদলি হলেও ঘুরেফিরে আবার বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিতর্কিত পরিদর্শক মালেক তালুকদার। চাকরি জীবনের প্রায় ২০ বছর বরিশাল নগরীতে ছিলেন। গড়েছেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য, করেছেন অঢেল সম্পদ। নিরপরাধ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা তোলার ঘটনায় একাধিকবার বদলি হয়েছে তিনি। এক বছর আগে বরগুনা জেলায় গেলেও লবিং-তদবির করে আবার বরিশালে যোগদান করায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে নগরীজুড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বাসিন্দা বিতর্কিত পরিদর্শক মালেক তালুকদার বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে তার চাকরি জীবনের অধিকাংশ সময় কর্মরত ছিলেন। ১৭ বছর আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনামলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে করেছেন নানা অপকর্ম। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে গড়ে তুলেছেন অপরাধ সিন্ডিকেট। করোনাকালীন নগরীর কাউনিয়া এলাকার দুই যুবককে আটক করে হাতে ইয়াবা দিয়ে চালান নির্যাতন। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন ওই সময় যমুনা টেলিভিশনসহ একাধিক পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বদলি করা হয় পরিদর্শক মালেককে। তখন কক্সবাজার জেলায় বদলি করা হলে কয়েক মাস পরেই আবার বরিশালে যোগদান করেন এই বিতর্কিত কর্মকর্তা। ২০২৪ সালে বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক তরুণকে আটক করে পকেটে গাঁজা দিতে গেলে স্থানীয়রা দেখে ফেলেন। সে সময় মালেক তালুকদারসহ ওই টিমের সদস্যদের মারধর করেন ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
একাধিক সূত্রে জানা যায় বরিশাল নগরীর বৈদ্যপাড়ায় কোটি টাকা মূল্যের জমি কিনেছেন মালেক। এছাড়াও বরিশাল নগরী ও তার নিজ উপজেলা বাউফলে করেছেন অঢেল সম্পদ। বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিতর্কিত এরকম একজন কর্মকর্তার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবে নগরীর বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. হাসান মারুফ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু এখন জানলাম। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
