বিলীন হবে ২ হাজার হেক্টর এলাকা, পদ্মা-যমুনার ভাঙন নিয়ে সিইজিআইএসের পূর্বাভাস
jugantor
বিলীন হবে ২ হাজার হেক্টর এলাকা, পদ্মা-যমুনার ভাঙন নিয়ে সিইজিআইএসের পূর্বাভাস
১২ জেলার ১৬টি স্থানে ভাঙন ভয়াবহ পর্যায়ে যেতে পারে * বাস্তুহারা হবে ২৪ হাজার মানুষ * ৫৪শ’ কিলোমিটার সড়কপথ ৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাবে নদীগর্ভে

  মুসতাক আহমদ  

১৯ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী বছরের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৮৫ হেক্টর বা প্রায় ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারাতে পারেন। এ গোটা এলাকা ১২ জেলায় বিস্তৃত। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের মুখে পড়তে পারে যমুনা ও পদ্মা পারের পাঁচ জেলার মানুষ।

নদী ভাঙনে সড়ক, দোকানপাট, বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার এমনকি হাসপাতাল বিলীন হয়ে যেতে পারে ।

সরকারের ট্রাস্টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন জনস্বার্থে প্রকাশের লক্ষ্যে বুধবার অনুমোদন পেয়েছে।

জানতে চাইলে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম যুগান্তরকে বলেন, নদী ভাঙন থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ মুহূর্তে নড়িয়ায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ভাঙন রোধে কাজ করছেন। এভাবে বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। আমি নিজে ৪১ স্থানে সরেজমিন গিয়ে সমস্যা দেখেছি। দেশে ধারাবাহিকভাবে নদী ভাঙন কমে আসছে।

দেশে মূলত মে থেকে নদী ভাঙন শুরু হয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। গত কয়েক বছর শরীয়তপুরের নড়িয়ার প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বসতভিটাসহ অনেক অবকাঠামো নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

২০১৮ সালের ভাঙনে উপজেলার একমাত্র হাসপাতালের অর্ধেকের বেশি নদীতে চলে গেছে। এ কারণে ওই হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। উপজেলার মানুষ শুধু আউটডোর সার্ভিস পাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় নাগরিক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাজেশ চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, তখন সারা দেশে এ ভাঙনের ঘটনা আলোচিত হয়। এরপর সরকার ওই এলাকা রক্ষায় পদ্মা তীরে জিওব্যাগ ফেলে। এতে এখন সুরক্ষিত আছে হাসপাতাল। তবে গত বছরও কেদারপুরে ভাঙনে বেশ কিছু বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে।

সিইজিআইএসের ‘নদী ভাঙন পূর্বাভাস-২০২০’ এ বলা হয়েছে, এ বছর শুধু দেশের প্রধান দুই নদী অববাহিকা ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার ১৬টি স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। গত বছরও সংস্থাটি ২২ স্থানে ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এরমধ্যে ৮০ শতাংশ এলাকা ভেঙেছে।

২০১৮ সালে ২৯ স্থানে ভাঙনের পূর্বাভাস দেয়া। এর মধ্যে ২৫ স্থানই ভেঙেছে। পূর্বাভাসের ৮৬ শতাংশই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সিইজিআইএসের পূর্বাভাস মতে, এ বছর ১২ জেলার ১৬টি স্থানে ভাঙন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যেতে পারে। জেলাগুলো হচ্ছে- কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর ও মাদারীপুর। পূর্বাভাসে শরীয়তপুর বাদ দেয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, এবারের মৌসুমে ডিসেম্বর পর্যন্ত পদ্মা-গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পাড়ে ভাঙন চলতে পারে। এতে ৩৬৫ হেক্টর এলাকারবসতবাড়ি, ৫ হাজার ৪০০ মিটার জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ সড়ক, ৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ২৯টি মসজিদ, ৩টি হাটবাজার, ২টি সরকারি ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে।

সিইজিআইএসের অ্যাসোসিয়েটস্পেশালিস্ট সুদীপ্ত কুমার হোড় বলেন, ভূ-উপগ্রহের ছবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকার মাটির ধরন পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের ওপর গবেষণা করে এ ১৬ স্থান নদী ভাঙন ঝুঁকির স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তারা ভাঙনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে মানুষকে সতর্ক করার কাজ করে থাকেন। এবারে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী ও সিরাজগঞ্জে ২টি করে, টাঙ্গাইলে ২-৩টি ও মাদারীপুরের শিবচরে সবচেয়ে বেশি ভাঙন ঝুঁকিতে আছে।

মূলত পদ্মা, যমুনা ও গঙ্গার অববাহিকায় ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছে সিইজিআইএস। দেশের অন্যান্য শাখা ও ছোট নদীর ভাঙনের পূর্বাভাস এতে নেই। মেঘনা বিশেষ করে চাঁদপুর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত মেঘনার শাখা নদীগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে তেঁতুলিয়ার কারণে পটুয়াখালীর বাউফল, ভোলার বিভিন্ন স্থানে, লোহালিয়ার কারণে বাউফলের কালিশুরী, দুমকীর চরগরবদী, বরিশালে সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর কারণে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। এ নিয়ে তোলপাড় হয় না বলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থাও নেয়া হয় না বলে জানান স্থানীয়রা।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বিগত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সিইজিআইএসের পূর্বাভাস আমলে নিয়ে ভাঙন কবলিত স্থানগুলো রক্ষার্থে মৌসুমের আগেই ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল। মানুষ তাই প্রত্যাশা করে। তাহলে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না।

সিইজিআইএসের সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে পদ্মা, যমুনা ও গঙ্গার অববাহিকায় ৫৮১ বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি জেগে উঠেছে।

সিইজিআইএসের সদ্য অবসরপ্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএর) যাওয়া উপনির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরকারের নেতৃত্বে পূর্বাভাস পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিগত পূর্বাভাসের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। চিহ্নিত স্থানে লাল পতাকা লাগিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়।

বিলীন হবে ২ হাজার হেক্টর এলাকা, পদ্মা-যমুনার ভাঙন নিয়ে সিইজিআইএসের পূর্বাভাস

১২ জেলার ১৬টি স্থানে ভাঙন ভয়াবহ পর্যায়ে যেতে পারে * বাস্তুহারা হবে ২৪ হাজার মানুষ * ৫৪শ’ কিলোমিটার সড়কপথ ৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাবে নদীগর্ভে
 মুসতাক আহমদ 
১৯ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী বছরের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৮৫ হেক্টর বা প্রায় ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারাতে পারেন। এ গোটা এলাকা ১২ জেলায় বিস্তৃত। তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের মুখে পড়তে পারে যমুনা ও পদ্মা পারের পাঁচ জেলার মানুষ।

নদী ভাঙনে সড়ক, দোকানপাট, বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার এমনকি হাসপাতাল বিলীন হয়ে যেতে পারে ।

সরকারের ট্রাস্টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন জনস্বার্থে প্রকাশের লক্ষ্যে বুধবার অনুমোদন পেয়েছে।

জানতে চাইলে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম যুগান্তরকে বলেন, নদী ভাঙন থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ মুহূর্তে নড়িয়ায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ভাঙন রোধে কাজ করছেন। এভাবে বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে। আমি নিজে ৪১ স্থানে সরেজমিন গিয়ে সমস্যা দেখেছি। দেশে ধারাবাহিকভাবে নদী ভাঙন কমে আসছে।

দেশে মূলত মে থেকে নদী ভাঙন শুরু হয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। গত কয়েক বছর শরীয়তপুরের নড়িয়ার প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বসতভিটাসহ অনেক অবকাঠামো নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

২০১৮ সালের ভাঙনে উপজেলার একমাত্র হাসপাতালের অর্ধেকের বেশি নদীতে চলে গেছে। এ কারণে ওই হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। উপজেলার মানুষ শুধু আউটডোর সার্ভিস পাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় নাগরিক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাজেশ চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, তখন সারা দেশে এ ভাঙনের ঘটনা আলোচিত হয়। এরপর সরকার ওই এলাকা রক্ষায় পদ্মা তীরে জিওব্যাগ ফেলে। এতে এখন সুরক্ষিত আছে হাসপাতাল। তবে গত বছরও কেদারপুরে ভাঙনে বেশ কিছু বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে।

সিইজিআইএসের ‘নদী ভাঙন পূর্বাভাস-২০২০’ এ বলা হয়েছে, এ বছর শুধু দেশের প্রধান দুই নদী অববাহিকা ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার ১৬টি স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। গত বছরও সংস্থাটি ২২ স্থানে ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এরমধ্যে ৮০ শতাংশ এলাকা ভেঙেছে।

২০১৮ সালে ২৯ স্থানে ভাঙনের পূর্বাভাস দেয়া। এর মধ্যে ২৫ স্থানই ভেঙেছে। পূর্বাভাসের ৮৬ শতাংশই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সিইজিআইএসের পূর্বাভাস মতে, এ বছর ১২ জেলার ১৬টি স্থানে ভাঙন ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যেতে পারে। জেলাগুলো হচ্ছে- কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর ও মাদারীপুর। পূর্বাভাসে শরীয়তপুর বাদ দেয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, এবারের মৌসুমে ডিসেম্বর পর্যন্ত পদ্মা-গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পাড়ে ভাঙন চলতে পারে। এতে ৩৬৫ হেক্টর এলাকার বসতবাড়ি, ৫ হাজার ৪০০ মিটার জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ সড়ক, ৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ২৯টি মসজিদ, ৩টি হাটবাজার, ২টি সরকারি ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে।

সিইজিআইএসের অ্যাসোসিয়েট স্পেশালিস্ট সুদীপ্ত কুমার হোড় বলেন, ভূ-উপগ্রহের ছবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকার মাটির ধরন পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের ওপর গবেষণা করে এ ১৬ স্থান নদী ভাঙন ঝুঁকির স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তারা ভাঙনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে মানুষকে সতর্ক করার কাজ করে থাকেন। এবারে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী ও সিরাজগঞ্জে ২টি করে, টাঙ্গাইলে ২-৩টি ও মাদারীপুরের শিবচরে সবচেয়ে বেশি ভাঙন ঝুঁকিতে আছে।

মূলত পদ্মা, যমুনা ও গঙ্গার অববাহিকায় ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছে সিইজিআইএস। দেশের অন্যান্য শাখা ও ছোট নদীর ভাঙনের পূর্বাভাস এতে নেই। মেঘনা বিশেষ করে চাঁদপুর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত মেঘনার শাখা নদীগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে তেঁতুলিয়ার কারণে পটুয়াখালীর বাউফল, ভোলার বিভিন্ন স্থানে, লোহালিয়ার কারণে বাউফলের কালিশুরী, দুমকীর চরগরবদী, বরিশালে সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর কারণে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। এ নিয়ে তোলপাড় হয় না বলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থাও নেয়া হয় না বলে জানান স্থানীয়রা।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বিগত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সিইজিআইএসের পূর্বাভাস আমলে নিয়ে ভাঙন কবলিত স্থানগুলো রক্ষার্থে মৌসুমের আগেই ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল। মানুষ তাই প্রত্যাশা করে। তাহলে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না।

সিইজিআইএসের সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ লাখ ১৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে পদ্মা, যমুনা ও গঙ্গার অববাহিকায় ৫৮১ বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি জেগে উঠেছে।

সিইজিআইএসের সদ্য অবসরপ্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএর) যাওয়া উপনির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরকারের নেতৃত্বে পূর্বাভাস পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিগত পূর্বাভাসের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। চিহ্নিত স্থানে লাল পতাকা লাগিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়।