ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কার জরুরি
jugantor
সরকারি প্রণোদনার অর্থছাড় নিয়ে সংলাপ
ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কার জরুরি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও অর্থছাড় হচ্ছে না। নীতিমালার নানা জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত প্রণোদনার অর্থছাড়ের জন্য ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কার জরুরি। এ জন্য করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় শিল্প খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা। বুধবার এ সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব দাবি জানানো হয়েছে। সিটিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপের বিষয় ছিল: করোনা-পরবর্তী কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) অবস্থা এবং প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকারিতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাশেম খান। আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি সৈয়দ আসিফ ইব্রাহীম প্রমুখ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৭৮ লাখ কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) রয়েছে, যার ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতে গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পকারখানা জিডিপিতে ২৫ শতাংশ, রফতানিতে ৮০ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানে প্রায় ৫০ শতাংশ অবদান রাখছে। করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের সিএমএসএমই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতের জন্য সরকার বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় ৫৯ হাজার ২৯২ কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চার হাজার ১২০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। প্রণোদনার ৯৪ শতাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছাড় করায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত প্রণোদনার অর্থছাড়ের জন্য ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদেরকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় আনার সুযোগ নেই। জাতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিকল্প উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে ভ্যাট ও ট্যাক্সে ছাড় দেয়ার পাশাপাশি বাড়িভাড়া, ইউটিলিটি বিলের একটি অংশ ঘোষিত প্রণোদনা থেকে বহন করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে সম্পদভিত্তিক অর্থায়নের পরিবর্তে তারল্যভিত্তিক অর্থায়ন, ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায় ও অডিট প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাবান্ধব ঋণ কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দেন তারা। শিল্পমন্ত্রী বলেন, করোনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের সমস্যা মোকাবেলায় একটি সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। আর এই নীতিমালার আলোকে সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ নীতিমালা প্রণয়নে তিনি বেসরকারি খাত ও থিংক-ট্যাংকের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের চাকা সচল রেখে জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর কার্যকর বাস্তবায়নে তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে কো-লেটারেলের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বিবেচনায় প্রণোদনার অর্থ মঞ্জুরের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত সংজ্ঞা নির্ধারণ করার দাবিকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশন এ ধরনের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দেশে প্রকৃত শিল্পোদ্যোক্তার সংখ্যা নির্ধারণ এবং প্রণোদনার অর্থছাড় সহজ হবে। তবে কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি আলাদা সংজ্ঞা নির্ধারণ ফলপ্রসূ হতে পারে।

সরকারি প্রণোদনার অর্থছাড় নিয়ে সংলাপ

ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কার জরুরি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও অর্থছাড় হচ্ছে না। নীতিমালার নানা জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত প্রণোদনার অর্থছাড়ের জন্য ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কার জরুরি। এ জন্য করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় শিল্প খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা। বুধবার এ সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব দাবি জানানো হয়েছে। সিটিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপের বিষয় ছিল: করোনা-পরবর্তী কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) অবস্থা এবং প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকারিতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাশেম খান। আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি সৈয়দ আসিফ ইব্রাহীম প্রমুখ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৭৮ লাখ কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) রয়েছে, যার ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতে গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পকারখানা জিডিপিতে ২৫ শতাংশ, রফতানিতে ৮০ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানে প্রায় ৫০ শতাংশ অবদান রাখছে। করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের সিএমএসএমই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতের জন্য সরকার বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় ৫৯ হাজার ২৯২ কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চার হাজার ১২০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। প্রণোদনার ৯৪ শতাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছাড় করায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত প্রণোদনার অর্থছাড়ের জন্য ব্যাংকিং নীতিমালা সংস্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদেরকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় আনার সুযোগ নেই। জাতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিকল্প উপায়ে ক্ষতিগ্রস্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে ভ্যাট ও ট্যাক্সে ছাড় দেয়ার পাশাপাশি বাড়িভাড়া, ইউটিলিটি বিলের একটি অংশ ঘোষিত প্রণোদনা থেকে বহন করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে সম্পদভিত্তিক অর্থায়নের পরিবর্তে তারল্যভিত্তিক অর্থায়ন, ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায় ও অডিট প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাবান্ধব ঋণ কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দেন তারা। শিল্পমন্ত্রী বলেন, করোনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের সমস্যা মোকাবেলায় একটি সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। আর এই নীতিমালার আলোকে সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ নীতিমালা প্রণয়নে তিনি বেসরকারি খাত ও থিংক-ট্যাংকের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের চাকা সচল রেখে জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর কার্যকর বাস্তবায়নে তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে কো-লেটারেলের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বিবেচনায় প্রণোদনার অর্থ মঞ্জুরের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত সংজ্ঞা নির্ধারণ করার দাবিকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশন এ ধরনের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দেশে প্রকৃত শিল্পোদ্যোক্তার সংখ্যা নির্ধারণ এবং প্রণোদনার অর্থছাড় সহজ হবে। তবে কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি আলাদা সংজ্ঞা নির্ধারণ ফলপ্রসূ হতে পারে।