দামে ফের কারসাজি
এক ডিম কিনতেই ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর ডিমের বাজারে সপ্তাহজুড়ে চলছে অস্থিরতা। গত বছরের মতো এবারও ডিমের দাম নিয়ে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। তাই, প্রতি হালি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারে কিনতে ডিমের ডজনের (১২ পিস) দাম পড়ছে ১৬৫ টাকা। আর পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে ১৭০ টাকা দিয়েই ক্রেতাকে এক ডজন ডিম কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ ভোক্তাকে একটি ডিম খেতে হলে গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকা।
প্রান্তিক ডিলার ও খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে করপোরেট কোম্পানি। তাই তাদের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে হুটহাট ডিম-মুরগির দাম বাড়ছে। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে দাম নিয়ন্ত্রণ যেমন সম্ভব হবে না, ডিম-মুরগির দামও বাড়তেই থাকবে।
সূত্র জানায়, সরকারি তদারকি না থাকায় পোলট্রি শিল্পে করপোরেটদের আধিপত্যের খেসারত দিচ্ছে জনগণ। এতদিন ন্যায্যমূল্য না পেয়ে প্রান্তিক খামারিদের অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের ৫০ লাখ প্রান্তিক উদ্যোক্তার অধিকাংশ খামারই এখন ব্যাংকের কাছে জিম্মি। কারণ, করপোরেট কোম্পানিগুলো চুক্তিভিত্তিক ফার্মিংয়ের নামে দাদন ব্যবসা করছে। কোম্পানিগুলো প্রান্তিক খামারিদের লোকসান করাচ্ছে। যেন তারা চুক্তিতে ফার্ম নিয়ে নিতে পারে। এছাড়া প্রান্তিক খামারিদের ডিম-মুরগি বাজারে এলেই দাম কমে যায়। তখন তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকায়। আর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায়। যা ৩ দিন আগে ছিল ১৫০ টাকা। আর গত বছর এই সময়ে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে বছরের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা।
নয়াবাজারে ডিমের ক্রেতা মো. মাহিম বলেন, একটি ডিম ১৫ টাকা দিয়ে কিনতে হবে তা ভাবাই যায় না। যদি এমন হতো যে বাজারে ডিম নেই, তাহলে মানা যেত। কিন্তু বাজারে ডিমের সরবরাহের কোনো অভাব নেই। আমাদের কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ডিমের আড়তে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল। এ সময় ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যে সামঞ্জস্য না থাকায় এবং ক্যাশ মেমো দেখাতে না পারায় এক ডিম ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আব্দুল জব্বার জানান, ডিম কেনা এবং বিক্রির মধ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা গেছে। ডিমের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ডিমের দামে নৈরাজ্য করায় তদারকি করে মূল্য সহনীয় করা হয়েছিল। অসাধুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় এবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে এটি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরও রয়েছে। ডিমের দাম কেন বাড়ছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিনা সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভালো বলতে পারবে।
