Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

কক্সবাজারে উচ্ছেদ শুরু

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট

ভবনটি ভেঙে ফেলতে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল-কউক

Advertisement

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট

Advertisement

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবৈধ হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও প্রশাসন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রথম দিনেই উখিয়ার ইনানীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চারতলা ভবনবিশিষ্ট একটি রিসোর্ট। সোমবার দুপুরে ইনানী সৈকত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। কউকের নেতৃত্বে এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, এসআরবি ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

সকাল ১১টার দিকে ভবনটির সামনে খননযন্ত্র নিয়ে আসা হয়। দুপুরে ভবনের নিচতলা ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। পরে চারতলা ভবনের কাচ ভেঙে পিলার গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ভবনটি মেরিন ড্রাইভের ইনানী নৌবাহিনীর জেটির পূর্বপাশে রয়েল টিউলিপ এবং বে ওয়াচ হোটেলের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত।

কউকের কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিককে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযান চালানো হয়েছে। ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করেন তিনি। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয়তলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দোতলায় পর্যটকদের থাকার কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যে এটি চালু করার কথা ছিল। শহিদুল হকের দাবি, নোটিশের জবাব দিয়েছেন তিনি। ভবন নির্মাণের কাগজপত্রও রয়েছে তার কাছে। কিন্তু সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

মেরিন ড্রাইভে আড়াই হাজার স্থাপনা : কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের প্রায় ১ হাজার ৭০০টি নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তারকা মানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগের অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি। কউক চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও স্থাপনা না সরানোয় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মেরিন ড্রাইভে অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট-কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এ কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, কউকের অনুমোদন না থাকলে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনুমোদন পাওয়াও কঠিন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কাগজপত্র রয়েছে, কিন্তু সব অনুমোদন নেই, সেগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ব্যবসায়ীরা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টুপটুপ রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর অভিযান : গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভের পাশে অনুমোদন ছাড়া হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, মেরিন ড্রাইভে অনেক রিসোর্ট ও কটেজ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। অবৈধ হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে। দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে সরকার। কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, তাদের সমিতিতে ১৮৭ জন সদস্য রয়েছেন। সমিতির তালিকাভুক্ত অধিকাংশ হোটেল-গেস্ট হাউজের অনুমোদন আছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্র সম্পর্কে তার জানা নেই।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছেই

বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছেই

নবজাগরণের অগ্রদূত মুনশী মেহেরুল্লাহ

নবজাগরণের অগ্রদূত মুনশী মেহেরুল্লাহ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিটিটিসি’র প্রতিবেদন রমজানের আগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি

রমজানের আগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি

কক্সবাজারে উচ্ছেদ শুরু গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট

গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম