বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিটিটিসি’র প্রতিবেদন
রমজানের আগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি
ছোলা আমদানি বেড়েছে প্রায় সাতগুণ * খেজুরের শুল্ক সহজ করার উদ্যোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। রমজানের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশা করছে সরকার। আমদানি বাড়লেও সাধারণ ভোক্তার জন্য বাজার কতটা স্বস্তিদায়ক থাকবে, তা নির্ভর করছে পণ্যের সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, শুল্ক ও ব্যবসায়ীদের বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর। সম্প্রতি রাজধানীর বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সোমবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) উপস্থাপিত তথ্যে আমদানি বৃদ্ধির চিত্র উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে সভায় রমজানে সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি-শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
ছোলা আমদানি বেড়েছে প্রায় সাতগুণ : বিটিটিসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে হয়েছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। এ সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ ৮ লাখ ১০ হাজার টন। ইফতারে বহুল ব্যবহৃত ছোলা আমদানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছরের একই সময়ে ১২ হাজার টন ছোলা আমদানি হলেও এবার হয়েছে ৮২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬.৮ গুণ। ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। এছাড়া মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এই সময়ে ডালের এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টন। খেজুর আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার টনে, গত বছর ছিল ৪ হাজার টন।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা বাজারে ডিমের দাম ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭-৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় নেমেছে।
বড় দানার মসুর ডালের দামও গত এক মাসে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। তবে বাজারের অন্য চিত্রও রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর খুচরা বাজারে ছোলা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে সরকারি হিসাবে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
রমজানে খেজুরের সরবরাহ ও দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি হয়। তাই সব ধরনের খেজুরে একই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রয়োগের পরিবর্তে প্রকৃত গুণগত মান ও আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা কার্যকরের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমদানিকারকরা জানান, প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন শুল্কায়ন, বিকল্প পরিবহণ পথের বাড়তি ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। তাই আমদানি ব্যয় ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিটিসি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
