Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

আকুর বিল পরিশোধ

রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়নের ঘরে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়নের ঘরে

Advertisement

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বরের আমদানি বিল বাবদ ১২৭ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমে ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী, রিজার্ভ ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মেজবাউল হক জানান, আকুর বিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন (১২৭ কোটি) ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। তাই এখন মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে।

আন্তর্দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আকুর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ি বছরজুড়ে ডলার সংকটের সঙ্গে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কম ছিল। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে বছরের শেষ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বিভিন্ন আর্থিক সহযোগী সংস্থার ঋণ পাওয়ায় রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছিল। নতুন বছরের শুরুতে আকুর বিল পরিশোধের কারণে আবারও রিজার্ভ কমেছে।

জানা যায়, গত বছর শেষে মোট রিজার্ভ বেড়ে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার হয়েছিল। আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। সারা বিশ্বে প্রচলিত ও বহুলব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ ছিল ২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার; এটি কমে হয়েছে ২০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু প্রকৃত বা দায়হীন রিজার্ভ আরও কম, যা প্রকাশ করে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে দায়হীন রিজার্ভ আছে ১৭ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্রতিমাসে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো কঠিন হবে।

প্রকৃত রিজার্ভ হলো আইএমএফ-এর এসডিআর খাত, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে রাখা ডলার ও আকুর বিলের জন্য জমা থাকা ডলার বাদ দিয়ে যে হিসাব হয় সেটি। এর বাইরে রিজার্ভের আরও দুটি হিসাব রয়েছে। এর একটি হলো মোট রিজার্ভ, আরেকটি আইএমএফ-এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রক্ষিত রিজার্ভ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে রিজার্ভ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, সেদিক থেকে বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। তিনি জানান, ‘নিট বা গ্রস উভয় হিসাবেই বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) রিজার্ভের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে, সেটা পূরণ করতে পারিনি।’

এদিকে আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি থাকায় আমদানি ব্যয় কমেনি। এছাড়া করোনার পর বৈশ্বিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চ থেকে দেশে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করে, যা এখনো অব্যাহত। এ সংকট দিনদিন বাড়ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ সূচকের ধারাবাহিকতা কমছে। তবে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগের কারণে দ্রুত ডলার সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর থেকে রিজার্ভ কমে এ পর্যায়ে নেমেছে। এর আগে ধারাবাহিকভাবে যা বাড়ছিল। ১০ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছর আগে ছিল ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে বেড়ে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছায়। ওই বছর ৮ অক্টোবর ৪০ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে। এরপর তা বেড়ে ক?রোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ রেকর্ড গড়ে ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। ওইদিন রিজার্ভ ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৮০৪ কোটি ডলারে উঠে যায়। এরপর ডলার সংকটে গত বছর থেকে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে।

বাজারে ডলার সংকট কাটাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ থেকে ধারাবাহিক ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) প্রথম ছয় মাসে ৬৭০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সময়ে বাণিজ্যিক কিছু ব্যাংক থেকে এক বিলিয়ন ডলারের মতো কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল। আর আগের অর্থবছরে ডলার বিক্রি করেছিল ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

শিক্ষকতা পেশা মর্যাদা সংকটে

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

দুর্গোৎসব ঘিরে সতর্ক বিএনপি

গলাচিপায় ম্যানগ্রোভ প্রকল্প এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংস চারশ গাছ

এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংস চারশ গাছ

আপন ভাইদের নৃশংসতা চাপাতি দিয়ে ২ হাত বিচ্ছিন্ন মামলা না তোলায় খাবার বন্ধ

চাপাতি দিয়ে ২ হাত বিচ্ছিন্ন মামলা না তোলায় খাবার বন্ধ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম