জাতীয় শিক্ষাক্রমের আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন
Advertisement
ড. আবদুস সাত্তার মোল্লা
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষ অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। প্রকৃতি-প্রদত্ত এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিকশিত হওয়ার মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা।
শিক্ষা সব সম্ভাবনার সমন্বিত বিকাশ (Harmonious Development) সাধন করে মানুষকে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে, বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে এমনভাবে বাঁচতে ও বাড়তে অভ্যস্ত করে যেন পরিবেশের কোনো উপাদান অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সব উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে, প্রত্যেকটি উপাদানকে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদা দান করার মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠলে মানুষের নিজের অধিকার প্রাপ্তিও নিশ্চিত হয়। প্রকৃত শিক্ষা তাকে সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ, মননশীল, জ্ঞানী, সৃজনশীল এবং জীবনধারণের জন্য নিজ মেধা ও প্রবৃত্তি অনুযায়ী কর্মে নিয়োজিত হওয়ার জন্য দক্ষ ও যোগ্য করে তোলে।
মানবজাতির আদিতে শিক্ষা ছিল অনানুষ্ঠানিক এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও গুরুজনদের অনুকরণ-নির্ভর। কিন্তু আধুনিক শিক্ষা আনুষ্ঠানিক যার ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে করা হয়। দেশব্যাপী এরকম শিক্ষার জন্য দরকার হয় শিক্ষার উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন পদ্ধতি- এই চারটি প্রধান উপাদান সংবলিত এক মহাপরিকল্পনার। এর নাম শিক্ষাক্রম।
এরূপ শিক্ষাক্রম প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য জাতীয়ভাবে কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকার তৈরি করে থাকে। জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার এবং দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার চাহিদা পরিবর্তিত হয়; তাই শিক্ষাক্রমের অবিরত (Continuous) উন্নয়ন প্রয়োজন হয়। শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও বাস্তবায়ন সাধারণত ১০-১২ বছরের ব্যবধানে করা হয়। প্রথমবার তৈরি করা এবং পরিমার্জিত উভয় প্রকার শিক্ষাক্রমই শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে হয়। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ভিত রচনাকারী প্রস্তুতিপর্ব।
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ৫-৬ বছর বয়সের শিশুদের ৫১-৫২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হিসাব পাওয়া যায়; এখন সেটি ৯৮ শতকরায় উন্নীত হয়ছে। তখন প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ছিল শতকরা ৪০ ভাগের ওপর; এখন সেটি ২০ ভাগের নিচে। সুতরাং সংখ্যার দিক থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় বিপুল উন্নয়ন ঘটেছে। কিন্তু এখনও প্রায়ই শোনা যায় ‘শিক্ষার মান নেমে যাচ্ছে’। কথাটি শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে নয় (দেশের সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে বুয়েটের এবারের র্যাংক ১৮৯৫), মাধ্যমিক, এমনকি প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও মানের এই অধোগতির ‘প্রমাণ’ হাজির করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় যেখানে ৯৭-৯৮ শতাংশ পাস করে সেখানে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে (National Students Assessment) ২০১৫ ও ২০১৭ সালের ফলাফলে দেখা যায় গড়ে মাত্র ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করেছে।
যোগ্যতা অর্জনে এরূপ নিম্নহার দেখে তো শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে চিন্তিতই হতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা প্রমাণ মাপকাঠি দিয়ে মেপে বলি, ওরা যোগ্যতা অর্জন করেনি; আমরাই আবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় কী দিয়ে মেপে বলি অধিকাংশ পাস করেছে? মাপকাঠির এ সমস্যা শুধু শিক্ষার্র্থীদের জ্ঞান ও যোগ্যতা মাপতে নয়, প্রায় সর্বত্রই আমাদের মাপে ভুল হচ্ছে! সুতরাং মাপকাঠি ঠিক করে মাপটা সঠিক করে নেয়া জরুরি। সঠিক মাপে যোগ্য লোকদের যথাযোগ্য স্থানে বসিয়ে তাদের হাতেও ‘প্রমাণ কাঠি’ ধরিয়ে দিয়ে সবকিছু ঠিকভাবে মাপার ব্যবস্থা করতে হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের করণীয় কী? তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাস্তর চতুর্থ শ্রেণিতে শেষ হতো; ১৯৫৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন তার ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষাস্তর পঞ্চম থেকে অষ্টমে উন্নীত করার সুপারিশ করে। দেশের পরবর্তী সব শিক্ষা কমিশন এবং কমিটি এই প্রস্তাব বহাল রেখেছে। তাহলে কি শিল্পের ফরোয়ার্ড লিংকেজের মতো আমরা প্রাথমিক শিক্ষাস্তর যত উপরে তুলতে পারব, এই স্তরের শিক্ষায় ততই উন্নতি হবে? বিশ্বের ১৮২টি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (৮৭টি) দেশে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ছয় বছর।
অধিকাংশ উন্নত দেশ, এমনকি এশিয়ার উন্নত দেশ জাপান, চীন, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের সবক’টিতে প্রাথমিক শিক্ষা ষষ্ঠ শ্রেণিতে শেষ হয়। সুতরাং সামর্থ্য তৈরি করতে পারলে আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ এক বছর বাড়াতে পারি, এর চেয়ে বেশি বাড়ানোর কোনো দরকার হবে না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির প্রস্তুতিপর্বে ‘শিশু শ্রেণি’ বা ‘ছোট ওয়ান’ নামে একটি শ্রেণি সব সময়ই ঐচ্ছিক হিসেবে ছিল। স্বাধীন দেশে কয়েক বছরের মধ্যেই জার্মানির ফ্রেডরিক ফ্রয়েবল-প্রবর্তিত কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার আদলে ‘কেজি স্কুল’ শিক্ষার স্ফুরণ ঘটে। কিন্তু ‘শিশু শ্রেণি’ বা কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার কোনোটাই এতকাল দেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’-এ প্রথমবারের মতো দুই শ্রেণির আনুষ্ঠানিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের নীতি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম অনুসারে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ২০১৫ সাল থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখন কি শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের মতো প্রাক-প্রাথমিক দুই শ্রেণির করতে পারলে প্রাথমিক শিক্ষার বেশি উন্নয়ন হবে? প্রস্তুতি ভালো হলে একটু উন্নয়ন তো ঘটতেই পারে। কিন্তু যে কোনো পরিকল্পনায় বাস্তবায়নক্ষেত্রের সামর্থ্য (Capacity) বিবেচনায় নিতে হয়। সামর্থ্য ও প্রস্তুতির অভাবে অনেক উৎকৃষ্ট পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা এখনও মাত্র তিনটি করে। এসব স্কুলের এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠের ব্যবস্থা দুই শিফটে করা হয়। সব স্কুলে অন্তত চারটি শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না করে দুই শ্রেণির প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন করা যাবে না। আবার অন্তত চারটি শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো প্রাথমিক শিক্ষাস্তর ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীত করা যাবে।
বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশনের (১৯৭২-’৭৪) মূলনীতির অনুসরণে দেশে প্রথমবারের মতো প্রণীত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রাথমিক স্তরে বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। দ্বিতীয় আবর্তনের প্রাথমিক শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ১৯৯১ সালে শেষ করে বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৯২ সালে (প্রথমটির ১৫ বছর পরে)। প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের তৃতীয়বারের পরিমার্জন ২০০২ সালে শেষ করে ২০০৩ সাল থেকে বাস্তবায়ন করা হয় (দ্বিতীয়বারের ১১ বছর পর)। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম ২০১২ সালে চতুর্থবার পরিমার্জন করে তৃতীয় আবর্তনের ১০ বছর পর ২০১৩ সাল থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু মাত্র ৭-৮ বছর পর এবার প্রাথমিক শিক্ষাক্রম পঞ্চমবারের মতো পরিমার্জন করা হচ্ছে। তাহলে কি যত ঘন ঘন শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা যাবে, মানের ততই উন্নয়ন হবে? এবার শিক্ষাক্রম একটু আগে পরিমার্জন করার অবশ্য দুটো প্রধান উদ্দেশ্য আছে : ১. জাতিসংঘ-ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (২০১৬-২০৩০) বিধৃত শিক্ষাবিষয়ক লক্ষ্যগুলো (এসডিজি-৪) অর্জনের চেষ্টা এবং ২. বিশ্বব্যাপী স্কুল শিক্ষাকে যোগ্যতাভিত্তিক করার ঢেউকে ধারণ করা।
শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। শিক্ষাক্রমে কী কী বিষয় পাঠের ব্যবস্থা থাকবে, শিক্ষাক্রম কখন এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে- এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। চলমান প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে সব শ্রেণিতেই ৮-৯টি বিষয় বা শিখনক্ষেত্র (Learning Areas) নির্ধারিত আছে। এগুলো হচ্ছে- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ধর্ম, পরিবেশ (প্রাকৃতিক ও সামাজিক), শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং সঙ্গীত। প্রতিটি শিখনক্ষেত্রের জন্য পৃথক শিক্ষক নির্দেশিকাও রয়েছে। কিন্তু বিস্তৃত (Broad-based) এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার পাঠ্যপুস্তক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য মাত্র তিনটি (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) করে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে হঠাৎ পাঠ্যপুস্তকের সংখ্যা হয় ছয়টি। সেখানে ধর্ম এবং ‘পরিবেশ পরিচিতি’র জন্য বিজ্ঞান ও সমাজ (‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’) বিষয়ের পৃথক পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। পাঠ্যপুস্তক ছাড়া শুধু শিক্ষক নির্দেশিকা দিয়ে যেসব বিষয় পড়ানোর কথা সেগুলোতে শিক্ষাক্রমের প্রত্যাশা (Intention) কতটা পূরণ হয় তাতে সন্দেহ আছে। প্রথম শ্রেণিতে বাংলা ‘ভাষা’ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা যে জ্ঞান অর্জন করে তা দিয়ে সহজেই বাংলায় লিখিত পরিবেশ সম্পর্কিত ‘ভাব’ নিয়ে একটি সমন্বিত পাঠ্যপুস্তক দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাঠ্য করা যায়। তাতে দুটো প্রধান কাজ হয়। ১. শিক্ষাক্রমের নিচ থেকে উপরের শ্রেণিতে বিষয়বস্তুর ক্রমশ বৃদ্ধির (Spiral Model) নীতি অনুসরণ করা হয়, ২. শিক্ষার্থীদের পরিবেশ শিক্ষার জন্য শুধু শিক্ষকের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয় না।
একই শিক্ষাস্তরে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন সর্বনিম্ন শ্রেণি থেকে শুরু করতে হয়। দেশে প্রাক-প্রাথমিক বা ‘শিশু শ্রেণি’কে জাতীয় শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করায় এখন প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন সেখান থেকেই শুরু করতে হবে; দুই শ্রেণির শিক্ষাক্রম একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে চাইলে প্রথম বছর ‘শিশু’ ও প্রথম শ্রেণিতে তা করা যায়। শিক্ষাস্তরের শুরু- ‘শিশু শ্রেণি’ বাদ দিয়ে উপরের কোনো শ্রেণি থেকে বাস্তবায়ন শুরু করা ঠিক নয়। প্রাক-প্রাথমিক এক বছর নাকি দু’বছরের হবে তার সিদ্ধান্ত নিতে না পারার জন্য শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে দায়ী নয় যে, তারা বাস্তবায়নের ধারাক্রমে বিপর্যয়ের শিকার হবে। আর বাস্তবায়ন শুধু পাঠ্যপুস্তক দিয়ে করা যায় না; শিক্ষক নির্দেশিকা তৈরি করে শিক্ষকদের কাছে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের বৈশিষ্ট্য নিয়ে শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ দিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করতে হয়।
বিশ্বব্যাপী স্কুল শিক্ষাকে যোগ্যতাভিত্তিক করার ঢেউয়ের কথা বলা হয়েছে। ‘যোগ্যতা’ কোনো আনকোরা বিষয় নয়। এ শব্দটি আগে শুধু পেশাভিত্তিক (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, গাড়ি চালনা ইত্যাদি) দক্ষতার জন্য ব্যবহৃত হতো। ইদানীং শিক্ষার সব উদ্দেশ্যকেই ‘যোগ্যতা’ নাম দেয়া হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, শিক্ষাক্রম যোগ্যতাভিত্তিক করা হলে শিক্ষার মান হঠাৎ বিপুলভাবে বেড়ে যাবে। বাংলাদেশে ১৯৯২ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম চলে আসছে। তাতে তো শিক্ষার মান বিপুলভাবে বেড়ে যায়নি! বাস্তবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করানো সব সময়ই শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল। পেশাভিত্তিক যোগ্যতার একটি জরুরি উপাদান হচ্ছে, দক্ষতা পুরোপুরি অর্জন করা (Mastery Learning)। পেশায় পটুত্ব অর্জনের জন্য অনেকবার অনুশীলন করার দরকার হয়। শিক্ষার মান বাড়ানোর এটি একটি উপায় বটে। ‘যোগ্যতা’য় অন্তর্ভুক্ত আর একটি উপাদান হচ্ছে- সব শিক্ষার্থীর ব্যক্তিক বিভিন্ন চাহিদাকে বিচেনায় নেয়া; এতে শিক্ষা অন্তর্র্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হয়। ‘যোগ্যতা’য় অন্তর্ভুক্ত তৃতীয় উপাদানটি হচ্ছে শিক্ষার্থীর শিখনের সার্বক্ষণিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দান করে সব শিক্ষার্থীর দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রায় একই মানে উন্নীত করা। এসব করতে পারলে শিক্ষার সত্যিকারের মানোন্নয়ন সম্ভব। এর জন্য দরকার হবে প্রশিক্ষিত ও নিবেদিত শিক্ষক এবং সেরূপ শিক্ষা পরিবেশ।
ড. আবদুস সাত্তার মোল্লা : শিক্ষা গবেষক এবং বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার সদস্য
