Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

প্রস্তাবিত পরিবর্তনই হবে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় উন্নয়ন

Advertisement

Icon

মো. মইনুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত পরিবর্তনই হবে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় উন্নয়ন

Advertisement

সম্প্রতি একটি দৈনিকের খবরে প্রকাশ ‘শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আসছে’। খবরটি দেখে খুশি হলাম। কিন্তু এর সঙ্গে মনে প্রশ্ন জাগল, পরিবর্তন কি শিক্ষার উন্নয়ন আনবে? আমার কাছে উন্নয়ন বলতে শিক্ষার মান এবং বিস্তৃতি বোঝায়। দক্ষিণ এশিয়ায় মান বিচারে আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের শিক্ষার মান সবচেয়ে খারাপ। আর দেশেও শিক্ষার ব্যাপারে মানের বিষয়টিই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষিত সচেতন মানুষের কাছে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

সরকার শিক্ষার বিস্তৃতিতে যতটা সফল হয়েছে, মানোন্নয়নে ততটা সফল হতে পারেনি। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্র মানের সমস্যা অতিশয় প্রকট। এতে অতিশয় দুর্বল মানের শিক্ষিতের হার আমরা বাড়াচ্ছি। তারা শিক্ষিত তথা জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে যেমন আত্মশক্তি এবং সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও ব্যর্থ হচ্ছে। গতানুগতিক বিষয় এবং সস্তা ডিগ্রি অর্জনের ফলে উচ্চশিক্ষিতদের একটি বড় অংশ বেকার থাকছে।

কিছুদিন আগে একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘উচ্চশিক্ষিতরাই বেশি বেকার। ৪০ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত চাকরি লাভে ব্যর্থ’। শিক্ষিত বেকার যুবকরা পরিবার ও সমাজের জন্য এক বিরাট বোঝা। অন্যদিকে পরিবার ও দেশ এদের শিক্ষাদানের নামে বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে। অথচ এর বিপরীতে কাম্য ফল পাচ্ছে না।

শিক্ষা অনেকটা স্তরে স্তরে সাজানো একটি ব্যবস্থা। এর শুরু প্রাথমিকে। এরপর মাধ্যমিক। মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক। উচ্চমাধ্যমিকের পর স্নাতক বা ডিগ্রি। তারপর স্নাতকোত্তর বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন। এরপর আরও উচ্চতর ডিগ্রি আছে। তবে তা সংখ্যায় স্বল্প। তবে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরেই শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়। আর আমাদের দেশে এ দুটো স্তরেই শিক্ষার মান দুর্বল থাকে। আর এ দুর্বল মানের শিক্ষা নিয়েই শিক্ষার্থীরা ওপরের স্তরে উঠতে থাকে।

ফলে খুব স্বল্পসংখ্যক ছাত্রই উচ্চ ডিগ্রির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উচ্চশিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন করতে পারে। বর্তমানে যা দেখা যায়, তা হল স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বিপুলসংখ্যক তরুণের জ্ঞান হাস্যকরভাবে নিম্নমানের। তারা শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষায়ও কোনো ভাব বা ধারণা প্রকাশ করতে পারে না। এর একটি কারণ হল, তারা উচ্চ স্তরে তথা ডিগ্রি বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন স্তরে যে বিষয়গুলো পড়েছে, তা ভালো করে বুঝেনি এবং বুঝেনি বলেই শিখেনি। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তর থেকেই তারা ভাষা ভালো করে শিখেনি।

ইংরেজি বিদেশি ভাষা এবং তাই কঠিন। কিন্তু বাংলা ভাষায়ও তাদের অধিকাংশের দুর্বলতা বেজায় দুঃখজনক। ডিগ্রি পর্যায়ে, তা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় হোক, অধিকাংশ পাঠ্যপুস্তক ইংরেজিতে। ইংরেজি ভাষায় জ্ঞানের দুর্বলতার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে না এবং পারলেও তা বুঝে পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আমি কিছু শিক্ষক পেয়েছি, যারা ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক বা টেক্সট বুকগুলো পড়ে বুঝতে পারে না। তাদের কেউ কেউ ইংরেজিতে প্রশ্ন করতে পারে না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অন্য বিষয়ের অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় আমার এ বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে যে, ভাষা (বাংলা ও ইংরেজি) এবং গণিতে দুর্বলতার মূল উৎস মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো। মাধ্যমিক স্তরে গণিত এবং ইংরেজি শিক্ষাদান বেজায় দুর্বল। ওই স্তরের অধিকাংশ স্কুলে ইংরেজি এবং অঙ্কের উপযুক্ত শিক্ষক নেই। তাই শিক্ষাদানও হয় না। এ সমস্যাটি বেজায় প্রকট গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে।

শহরের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। সেখানে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব যেমন কম, তেমনি উপরোক্ত বিষয়গুলোর শিক্ষকদের আয়-রোজগারও ভালো। শহরবাসী শিক্ষিত, সচেতন এবং সচ্ছল অভিভাবকরা তাদের সন্তানের পেছনে প্রাইভেট পড়ানো বাবদ প্রচুর অর্থ খরচ করে। সেটাই ওই শিক্ষকদের আয়-রোজগার ভালো হওয়ার কারণ। এ বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় জানে না, তা কিন্তু নয়।

‘শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আসছে’ বলে যে খবর দিয়ে লেখাটি শুরু করেছিলাম, তাতে খুব আশাবাদী হতে পারছি না। পাঠ্যক্রম (curriculum) এবং পাঠ্যসূচিকে (syllabus) উন্নতমানের করলেই উন্নতমানের শিক্ষায় কচি-কিশোররা শিক্ষিত হয়ে উঠবে, এটি আশা করা ঠিক হবে না। এসবকে বাস্তবায়ন করবে শিক্ষক। শিক্ষকই হল শিক্ষার মূল কারিগর। আমাদের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব অতিশয় প্রকট। এর একটি বড় কারণ আর্থিক।

অন্য আরেকটি কারণ সামাজিক। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এবং আয়-রোজগার খুবই সীমিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন মোটামুটি সরকারি। তারা সরকারি বেতন পায়; কিন্তু সে বেতনও খুব সন্তোষজনক নয়। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পদোন্নতি। ৩০-৩৫ বছর চাকরি জীবনে বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক মাত্র একটি পদোন্নতি যথা প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অবসর নেন। সন্তোষজনক পদোন্নতির সুযোগ না থাকলে কোনো চাকরি আকর্ষণীয় হতে পারে না। তাই উৎসাহের সঙ্গে উন্নত মনোবল নিয়ে কাজ করতে পারে না। এক ধরনের একঘেয়েমি এবং হতাশায় পেয়ে বসে।

অবস্থা আরও শোচনীয় মাধ্যমিক স্তরে। মাধ্যমিকের অধিকাংশ স্কুল বেসরকারি। বিগত কয়েক বছর ধরে এমপিওভুক্ত এসব স্কুলের শিক্ষক ১০ম গ্রেডের মূল বেতন বা Basic Pay এবং স্বল্প পরিমাণে কিছু ভাতা পায়। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম, প্রায় ৬০০-এর মতো। সেখানকার শিক্ষকরা শুরুতে ১০ম গ্রেডের বেতন পান। কিন্তু এদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পদোন্নতির নিদারুণ অভাব। অনেকেই ১৫ থেকে ১৮ বছর চাকরি করেও তারা পদোন্নতির মুখ দেখেন না।

সরকারের শিক্ষানীতিতে তাদের জন্য প্রথম শ্রেণির মর্যাদা এবং বেতনসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের একটি পদ সৃষ্টির সুপারিশ ছিল। সে আশা বহু বছর ধরেই দুরাশায় রয়েছে। সরকারের সব বিভাগে এবং অফিসে পদোন্নতি হয়। সচিবালয়ে উপসচিব এবং যুগ্ম সচিবরা তিন থেকে চার বছরে পদোন্নতি পায়। সরকারি স্কুলগুলোতে ১৫ বছরেও পদোন্নতি মিলে না। এমনকি সিলেকশন গ্রেডেরও সুবিধা নেই। এর ফলে এদের যেমন আছে আর্থিক অসচ্ছলতা, তেমনি আছে তীব্র মনঃক্ষুণ্নতা। এমন ক্ষোভ এবং দুর্বল মনোবলসম্পন্ন শিক্ষকদের কাছ থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষা আশা করা বৃথা।

তাছাড়া স্কুল শিক্ষকরা শুধু সরকারি অবহেলার শিকার নন, সমাজও এদের মর্যাদা দেয় না। সমাজে শিক্ষকরা ‘গরিব মাস্টার’ বলে অভিহিত এবং পরিচিত। সমাজের মতে মাস্টারদের না আছে টাকার জোর, না আছে ক্ষমতার জোর। মাস্টারদের ‘উপরি রোজগার’ তথা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ধনসম্পদ করার সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই সমাজে তারা ‘বেচারা’ গরিব মাস্টার অভিধায় অভিহিত। বিসিএস পরীক্ষায় মেধাক্রমে নিম্নপর্যায়ে থাকায় আমার এক ঘনিষ্ঠ পরিচিত তরুণ সরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষকের চাকরি পেয়েছে।

গত চার বছর ধরে তার বিয়ের চেষ্টা হচ্ছে। পাত্রী মিলছে না। অভিভাবক রাজি হয় না। অভিভাবক রাজি হলেও পাত্রী রাজি হয় না। কারণ পাত্র স্কুল মাস্টার। একই গ্রেডের পুলিশ বা ট্যাক্স-ভ্যাটের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হলে তারা বিবাহের প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহণ করত বলে ঘটকদের অভিমত। সামাজিক মূল্যবোধের এ দৈন্যদশা সমাজের সামগ্রিক অবক্ষয়েরই প্রকাশ। দেশে উন্নয়নের সর্ব ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে।

কিন্তু শিক্ষার মূল কারিগর যে শিক্ষক, তাকে অবহেলা করে শিক্ষার উন্নয়ন তথা মান বৃদ্ধি কী করে সম্ভব, তা আমাদের বোধগম্য নয়। যুগ যুগ ধরে অবহেলিত এবং বঞ্চিত শিক্ষকদের দিকে সরকারের সুদৃষ্টি কেন পড়ে না, সেটা বুঝে ওঠা মুশকিল। বিশেষ করে, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার দুর্বলতা দূর না করলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। ফলে উচ্চতর ডিগ্রি এবং উচ্চশিক্ষা অর্থপূর্ণ হবে না।

উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকট। লেকচারার বা প্রভাষক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়। সেখানেও অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা এবং স্বজনপ্রীতি প্রাধান্য পায়। তারপর বছর গুনে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিয়ম এখন আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে ৩৫-৪০ বছর চাকরি করে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই আন্তর্জাতিকমানের দূরে থাকুক, স্থানীয় স্বীকৃতমানের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ বা পুস্তক দেখাতে পারেন না।

এ ছাড়া ইদানীং দেখা যাচ্ছে পিএইচডি ডিগ্রির ছড়াছড়ি। অতি সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম একটি পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের ব্যবসা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ আছে। এ তথাকথিত পিএইচডি থিসিসগুলো হয় বিভিন্ন বইপুস্তক বা জার্নাল থেকে কাটিং-পেস্টিং করে অথবা ভারত থেকে চোরাই পথে এনে তার ওপর কিছু চিকিৎসা করে তৈরি হয়। ফলে এগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হয়ে থাকে। তবে গুটিকয়েক পণ্ডিত শিক্ষকের অধীনে কিছুসংখ্যক পিএইচডি থিসিস যে ভালোমানের হচ্ছে না, তা বলা যাবে না।

তবে বেশিরভাগই নিম্নমানের এবং মৌলিকতাহীন কাজ। অথচ একজন ডক্টরেটধারী ব্যক্তি তার বিষয়ে A very learned person বা একজন অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। এও শোনা যায়, নীলক্ষেত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুয়েকটি ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সার্টিফিকেট কিনতে পাওয়া যায়। এ ধরনের পিএইচডিরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন, তখন উচ্চশিক্ষার মানের যে অধঃপতন ঘটবে, তা বলাই বাহুল্য। উপরোক্ত সস্তা বা ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি বাদ দিলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বেশকিছু অনিয়ম বা দুর্নীতি চলছে।

সে ব্যাপারে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বেশকিছু কথা বলেছেন। এগুলো যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমানে বড় সমস্যা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যদিকে ছাত্রদের একটি বিপথগামী অংশ সরকারি দলের শিষ্য সেজে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এবং নানা অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে চলেছে। একজন ছাত্র মূলত জ্ঞান এবং ভদ্রতা অর্জনের সাধক। সরকারি দলের বশংবদ এ ছাত্রগোষ্ঠী তার বিপরীত সাধনাটি করে থাকে। কীভাবে মূর্খ হওয়া যায় এবং অপরাধ ও অভদ্রতায় পারঙ্গম হওয়া যায়, এটাই তাদের সাধনা বলে প্রতীয়মান হয়।

কয়েক মাসের পত্র-পত্রিকা খুঁজলে দেখা যাবে, বুয়েটে আবরার হত্যা, রাজশাহী পলিটেকনিকেলের অধ্যক্ষকে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের প্রভোস্ট বা হাউস টিউটরকে অপমান করা থেকে শুরু করে মহিলাদের উত্ত্যক্ত করা, ধর্ষণ, মাদকসেবন এবং মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি জাতীয় হেন অপরাধমূলক কাজ নেই, যা তারা করে যাচ্ছে না। কয়েক মাস আগে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তাদের সত্য এবং সততার পথে চলতে এবং মানুষের আস্থা অর্জনের তাগিদ দিয়েছিলেন।

কয়েকদিন আগে আবারও প্রধানমন্ত্রী তাদের সঠিক পথে চলতে বলেছেন। বলেছেন, সুন্দর আচরণের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে এবং সুশিক্ষা ও মেধার আলোকে আলোকিত হতে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এত উপদেশ এবং নির্দেশনা সত্ত্বেও তাদের স্বভাব-চরিত্র এবং আচার-আচরণের তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, এরা মূলত সন্ত্রাসী। এদের আদি এবং অকৃত্রিম স্বভাব হচ্ছে সন্ত্রাস এবং অপরাধমূলক কাজ।

ভাবতে অবাক লাগে, এসব জঘন্য এবং অপরাধমূলক কাজ চর্চা করার জন্য তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কী দরকার ছিল! আর ১০টা সাধারণ অপরাধীর মতো দেশের নানা স্থানে বিচরণ করলেই হতো। তাদের অভিভাবকরাই বা কী করে! বিপথগামী সন্তানদের নিয়ন্ত্রণে তাদের দায়িত্বও কম নয়। তাদের কষ্টের টাকা সন্তানকে সন্ত্রাসী বানানোর জন্য নিশ্চয়ই ব্যয় করেন না। করেন ‘মানুষ’ করার জন্য। এ ‘মানুষ’ কথাটিতে অভিভাবকরা সাধারণত বুঝেন তাদের সন্তানটি শিক্ষিত, ভদ্র এবং উপার্জনশীল হবে। লোকে ভালো বলবে। উপরোক্ত ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন’ যদি অভিভাবকদের প্রত্যাশিত ‘মানুষ’ উপহার দেয় এবং দেশ যদি সুনাগরিক পায়, তবেই সে পরিবর্তন সার্থক হবে। সে পরিবর্তনই হবে শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় উন্নয়ন।

মো. মইনুল ইসলাম : সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Advertisement

উন্নয়ন

Advertisement

আরও পড়ুন

হালফিল বয়ান চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা ও দক্ষিণ এশিয়া

চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা ও দক্ষিণ এশিয়া

স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বারবার কেন নির্বাহী কর্তৃত্বের কাছে পরাজিত

স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বারবার কেন নির্বাহী কর্তৃত্বের কাছে পরাজিত

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রস্তুতি ছাড়া এআই : লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রস্তুতি ছাড়া এআই : লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি

খেলাপি ঋণ : প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম

খেলাপি ঋণ : প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম