Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

স্বদেশ ভাবনা

উপজেলা নির্বাচন : ইসির আশা পূরণ হবে কি?

Advertisement

Icon

আবদুল লতিফ মন্ডল

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা নির্বাচন : ইসির আশা পূরণ হবে কি?

Advertisement

১৮ এপ্রিল আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গাজীপুর জেলার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ‘ভোটার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনে প্রার্থীরাই ভোটকেন্দ্রে ভোটার নিয়ে আসার ব্যাপারে বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন। বিগত দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা বেশি ছিল। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগ থাকবে বলে আমাদের ধারণা’ (যুগান্তর, ১৯ এপ্রিল)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই অতি আশা পূরণের সম্ভাবনা কতটুকু তা আলোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

প্রথমে দেখা যাক নিকট অতীতে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার কেমন ছিল। আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অব্যবহিত আগের অর্থাৎ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ সালের ১০ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার প্রতিবাদে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি এবং তার সমমনা দলগুলো ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে। পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ৪৭৩টি উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৩২০টিতে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। এর মধ্যে ১১৫ জনই নির্বাচিত হন বিনা ভোটে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান-তিনটি পদেই একক প্রার্থী থাকায় ৩৩টি উপজেলায় কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩৯.৪২ শতাংশ। সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬০.৯৫ শতাংশ। প্রায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৭৫টি উপজেলায় মোট ভোটারের ৬৭.৬৯ শতাংশ ভোট দিয়েছিল।

২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়রের শূন্যপদে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৮টি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৮টি নবগঠিত ওয়ার্ডে অর্থাৎ দুই সিটি করপোরেশন মিলে ৩৬টি নবগঠিত ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নির্বাচন বর্জন করে। কমিশন ঘোষিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রধান আকর্ষণ ডিএনসিসি মেয়র পদে নিবন্ধিত ভোটারদের ৩১.৫০ শতাংশ ভোট দেয়। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে গড়ে ২৭.১৫ শতাংশ ভোট পড়ে।

কোনো নির্বাচনে, তা জাতীয় বা স্থানীয় যে পর্যায়েই অনুষ্ঠিত হোক, ভোটার উপস্থিতি নির্ভর করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের ওপর। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোর কোনো একটি নির্বাচনে অংশ না নিলে সে দলের সমর্থকদের ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটাই স্বাভাবিক। দেশের জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে তিনটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এগুলো হলো পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এসব নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটপ্রাপ্তির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে মোট ৭৫টি দল-জোট এবং ৪২৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ নির্বাচনে মোট যে ভোট পড়ে, তার ৩০.৮১ ও ৩০.০৮ শতাংশ পায় যথাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ মোট ভোটের ৬১ শতাংশ যৌথভাবে পায় এ দুটি দল। অবশিষ্ট ৩৯ শতাংশ ভোট পায় ৭৩টি দল ও ৪২৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। জাতীয় পার্টি ১১.৯২ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকে। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে মোট ৮১টি দল-জোট এবং ২৮১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ নির্বাচনে মোট যে ভোট পড়ে, তার ৩৭.৪৪ ও ৩৩.৬১ শতাংশ পায় যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। অর্থাৎ মোট ভোটের ৭১ শতাংশ যৌথভাবে পায় এ দুটি দল। বাকি ২৯ শতাংশ ভোট পায় ৭৯টি দল ও ২৮১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অবশ্য জাতীয় পার্টি ১৬.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকে। ২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৪টি জোট এবং ৪৬৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচনে মোট যে ভোট পড়ে, তার ৪০.৯৭ ও ৪০.১৩ শতাংশ পায় যথাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ মোট ভোটের ৮১ শতাংশের বেশি যৌথভাবে পায় এ দুটি দল। বাকি ১৯ শতাংশ ভোট পায় ৫২টি দল ও ৪৮৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামী ৪.২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে আসে।

আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বর্জন করা কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি। বিএনপির শাসনামলে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ বেশ কিছুসংখ্যক দল অংশগ্রহণ না করায় ওই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি। অনুরূপভাবে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং সমমনা ৮টি দল বর্জন করায় ওই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ দেড় ডজনের মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বর্জন করায় অংশগ্রহণমূলক হয়নি। দশম সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এবং এতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ২০২৩ সালের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানি এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর দাবি না মানায় নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপিসহ ১৭টি দল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে সরকারি দল নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলের সদস্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেয়। ‘ডামি’ নির্বাচন হিসাবে পরিচিতি পাওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ১১টি আসন বাদে বাকি সব আসনে শাসক দল আওয়ামী লীগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জয়লাভ করে। এ নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মানদণ্ড’ মেনে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতে, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে পারেনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের চর্চা নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য হলেও নির্বাচনে তা সীমিত ছিল। এ নির্বাচনে ৪১.৮ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে ইসি দাবি করেছে।

বিএনপি ও সমমনা দুই ডজনের বেশি রাজনৈতিক দল ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসাবে পরিচিত এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর বেশিরভাগই উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগ কাউকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ফলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও কার্যত আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ হতে যাচ্ছে। এদিকে বিএনপি তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জারিকৃত বার্তায় বলেছে, কেউ দলের নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, বিএনপি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েই বসে থাকবে না, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলটি জনগণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করবে। জামায়াতে ইসলামীও তাদের নেতাকর্মীদের আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং কেউ দলের নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

উপরের বর্ণনার মাধ্যমে যা বলতে চাওয়া হয়েছে তা হলো, বিএনপি ও তার সমমনা কমবেশি দুই ডজন রাজনৈতিক দল ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এ নির্বাচন মূলত আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উপস্থিতির হার এবং বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার বিবেচনায় নেওয়া হলে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ হতে পারে। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ‘শতকরা ৮০ ভাগ থাকবে’ বলে ইসির আশা একটি দুরাশা মাত্র। ইসির এরূপ অতি আশা পোষণ না করাই যুক্তিযুক্ত হবে।

আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

[email protected]

Advertisement

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

Advertisement

আরও পড়ুন

জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার

জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

আত্মসমীক্ষার রাজনীতি : ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী

আত্মসমীক্ষার রাজনীতি : ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী

সাক্ষাৎকার মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা: অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার

মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা: অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম