Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

Advertisement

Icon

মেজর (অব.) মনজুর কাদের

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

Advertisement

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট, শি জিনপিং বর্তমান বিশ্বের সেরা নেতা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মতামত প্রকাশ করছেন। তার অসাধারণ নেতৃত্ব, সততা, কঠোর শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং চীনের জন্য একটি স্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা বজায় রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করে তিনি অবাক করে দিয়েছেন সবাইকে। শি নেতা হিসাবে নিজের ভাবমূর্তি এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যিনি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দেশের স্বার্থ ও শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান

তার নেতৃত্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত সরকারের অধীনে পুঁজিবাদের উন্মেষ ঘটায় দুর্নীতির যে বীজ চীনের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বাসা বেঁধেছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা। এর আওতায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে তাদের পদচ্যুত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি তার দুর্নীতি মোকাবিলা করার সদিচ্ছা প্রমাণ করে-এমনকি রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। ব্যক্তিগত দুর্নীতির ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত অনমনীয় এবং ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা ও মিতব্যয়িতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। তার রাজনৈতিক ব্যবস্থাও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

একশ কোটিরও বেশি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন

চীনের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় একটি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অসাধারণ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় পারদর্শী শি চীনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের বলিষ্ঠ কর্তৃত্ব বজায় রেখেছেন এবং নিজেকে এমন একজন নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যিনি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় লক্ষ্যের ভিত্তিতে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আচরণ

তার শান্ত-নম্র উপস্থিতি, সংযত আচরণ এবং জনসমক্ষে গম্ভীর থাকার ভঙ্গিমা বলে দেয়, তিনি চাপের মুখে সহজে বিচলিত হন না। তিনি আত্মবিশ্বাস ও কর্তৃত্বের সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেন।

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বোঝাপড়া

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ বা অন্য প্রধান শক্তিশালী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় শি-কে সহজে বিচলিত হতে দেখা যায় না। রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, তার কূটনীতিতে একটি প্রধান বিশ্বশক্তি হিসাবে গণ্য হওয়ার বিষয়ে চীনের দৃঢ় সংকল্প ফুটে ওঠেছে। আক্রমণাত্মক এবং সংঘর্ষমূলক জনকূটনীতি চীনের দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক বা নমনীয় কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে, দেশটির জাতীয় স্বার্থরক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে কড়া ভাষায় জবাব দেওয়ার লক্ষ্যে মূলত ২০২০-এর দশকের শুরুতে ‘ওল্ফ কূটনীতি’র কৌশলের উত্থান ঘটে শির পরামর্শে।

দারিদ্র্য বিমোচন লড়াই

গত কয়েক দশকে চীনে চরম দারিদ্র্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়া দেশটির মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সামাজিক পরিবর্তন ঘটেছে। শি-র নেতৃত্বে দারিদ্র্য বিমোচন একটি প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে এবং সরকার ২০২০ সালে গ্রামীণ দারিদ্র্য নির্মূলের ঘোষণা দেয়। মানুষের আয় বাড়ায় অভ্যন্তরীণ ভোক্তার চাহিদা পূরণ করতে শিল্পকারখানায় উৎপাদন আরও বেড়েছে।

চীনের সম্মান ও ক্ষমতায় সজাগ শি জিনপিং

শি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, অন্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল কোনো দুর্বল জাতির মতো চীনের আচরণ কখনো করা উচিত নয়। তিনি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি, অধিকতর প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ভূমিকা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। তার প্রত্যাশা হলো, চীন যেন একটি মহান সভ্যতা ও বিশ্বশক্তি হিসাবে বিশ্বব্যাপী গণ্য হয়।

নাস্তিকতা

শির মধ্যে ধার্মিক মানুষের সব গুণাবলি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তিনি নাস্তিকতায় বিশ্বাস করেন। এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বৈপরীত্য। তার আনুষ্ঠানিক আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষ ও মার্ক্সবাদী। তবুও তার মধ্যে রয়েছে অনেক গুণ-যেমন শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, সাহস, দেশসেবা, দৃঢ় সংকল্প এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনমনীয়তা-সেগুলো এমন সব গুণ, যা অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষও পুণ্য বা সদ্গুণ হিসাবে বিবেচনা করেন।

তবে সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো, চীনের ‘হাউজ চার্চ’ বা ঘরোয়া গির্জাগুলোর প্রতি আচরণের ক্ষেত্রের বিষয়টি অনেকেই উপেক্ষা করতে পারেন না। চীনা সরকার অনিবন্ধিত প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মসভাগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে; সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে হাউজ চার্চের নেতা ও সদস্যদের গ্রেফতার, আটক এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সরকারের চীনা ধাঁচে রূপান্তরের নীতি ধর্মীয় শিক্ষা ও আচার-অনুষ্ঠানকে আরও নিবিড়ভাবে পার্টির নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উইঘুরে মুসলিমদের প্রতি আচরণ

২০১৪ সালে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিংয়ের প্রশাসন ‘সহিংস সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান’ নাম দিয়ে এক কর্মসূচি শুরু করেন, যার আওতায় শিনচিয়াং অঞ্চলের ওপর ব্যাপক নজরদারি ও নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। জাতিসংঘের একটি কমিটি গণমাধ্যমকে জানায়, ২০১৭ সাল থেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শিনচিয়াং প্রদেশের সেক্রেটারি চেন ছুয়াংগুওর নেতৃত্বে সরকার আনুমানিক ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরবাসীকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করে তাদের ‘কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নামে পরিচিত বন্দিশিবির ক্যাম্পে রাখা হয়। চীন বলেছে, তাদের বন্দি করে রাখা হয়নি, বরং তাদের মধ্যে আধুনিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে, অন্যভাবে বলতে গেলে, যাকে বলা হয় ‘মগজ ধোলাই’।

চীনকে কেন যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দিচ্ছে

১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দুটি সমাজতান্ত্রিক দেশ-চীন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মতাদর্শগত বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। একসময় ওয়াশিংটন বুঝতে পারে, চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একই কমিউনিস্ট শিবিরে থাকলেও তাদের স্বার্থ অভিন্ন নয়। যুক্তরাষ্ট্র এ বিভাজনকে সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে এবং কূটনৈতিকভাবে এ বিরোধ কাজে লাগাতে শুরু করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঐতিহাসিক নথিতেও বলা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধের সময় চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে মস্কোর ওপর বৃহত্তর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

১৯৭১ সালের জুলাইয়ে হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে বেইজিং সফর করেন এবং চৌ এনলাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের মাধ্যমে এ গোপন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি পরিচালিত হয়। এরপর ১৫ জুলাই ১৯৭১ প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ঘোষণা করেন, তিনি চীন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফর এবং সাংহাই কমিউনিক প্রকাশের মাধ্যমে সম্পর্কোন্নয়ন প্রকাশ্য রূপ পায়। এর কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নকে স্নায়ুযুদ্ধের ময়দানে এককভাবে লড়তে হয় এবং ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজয় বরণ করতে হয়।

বাণিজ্য যুদ্ধ : নতুন স্নায়ুযুদ্ধ

২০১৭ সালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের শুরু হলে তা নতুন স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীন ও রাশিয়া বন্ধুত্ব গড়ে তুললে বিপাকে পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তাই ১৯৫৮-৭১-এর মতো পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়া খানের রেপ্লিকা খুঁজতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র পেয়ে যায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে। এ সামরিক অফিসারের মাধ্যমে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত নিবিড় ও কৌশলগত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক উদ্যোগের কারণে তাকে হোয়াইট হাউজের অন্যতম বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান যেমন হেনরি কিসিঞ্জারকে সহায়তা করেছিলেন, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে নতুন করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দৃশ্যপটে উপস্থিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে চীনকে সরিয়ে আনার জন্য সব গুঁটি চালাচালি করছে।

অস্বাভাবিক প্রটোকল

সাধারণত ডোনাল্ড ট্রাম্প বিমানবন্দরে গিয়ে বিদেশি নেতাদের স্বাগত জানান না। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রম পদক্ষেপটি নেন। ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে বিমান অবতরণের পর চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সেখানে লাল গালিচা বিছিয়ে ও গার্ড অব অনার দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং আকাশে দুটি বি-১ বোমারু বিমান বিশেষ মহড়া (ফ্লাইওভার) প্রদর্শন করে। কোনো রাষ্ট্রীয় সফরের সময় কোনো নেতাকে ট্রাম্পের এভাবে স্বাগত জানানোর ঘটনা এটিই প্রথম; আবার এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে শি-র এটিই প্রথম ওয়াশিংটন সফর।

তাহলে এ বাড়তি আয়োজনের কারণ কী

রয়টার্স, বিবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, এ সফরের মাধ্যমে ওয়াশিংটন মূলত কী অর্জন করতে চাইছে :

১. বাণিজ্য ক্ষেত্রে সাফল্য : শি-র অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার শুল্কসংক্রান্ত সমঝোতা বা ‘যুদ্ধবিরতি’র (যা ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল) মেয়াদ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার আশা করছে; তবে তিনি এ-ও স্বীকার করেন, চীনের কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি বা ত্রুটি ছিল।

২. রেয়ার আর্থ (বিরল খনিজ) : চীনের কাছ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য চীনের আরও বেশি পরিমাণে কেনা-এগুলো হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যে।

৩. স্থিতিশীলতা : ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে উভয়পক্ষ যখন জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এ সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় কোনো যুগান্তকারী সমঝোতার আশা কম থাকলেও উভয় নেতাই দেখাতে চান, তাদের মধ্যকার সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে।

বন্ধুত্ব স্থাপনের নতুন কৌশল

ট্রাম্প শি জিনপিংকে একজন ‘মহান নেতা’ ও ‘বন্ধু’ হিসাবে অভিহিত করেছেন। সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬-এ হোয়াইট হাউজে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ড, যুদ্ধবিমানের মহড়া এবং প্রায় ৫০০ সেনাসদস্যের উপস্থিতি ছিল। এরপর ওভাল অফিসে আলোচনা এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়; উল্লেখ্য, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে এটি ছিল মাত্র দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভোজসভা। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়টি নিয়ে কিছু রিপাবলিকান প্রশ্ন তুলেছেন।

শি জিনপিংয়ের জন্য ট্রাম্পের এ লাল গালিচা সংবর্ধনা কি একটি বিচক্ষণ ব্যবসায়িক কৌশল, নাকি তিনি বেইজিংকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সুবিধা দিয়ে ফেলছেন?

বহু দেশের রাজনীতিতে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কিন্তু শি জিনপিং ধর্ম নিয়ে কোনো রাজনীতি করেন না-তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো চীনকে পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা। সেজন্য তিনি মাও সে তুং এবং দেঙ শিয়াও পিং-এর মতো নিজস্ব চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, যা অপ্রতিরোধ্য। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধার ও স্নায়ুযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য ১৯৭১ সালে বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেমন চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, তখন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় ছিলেন। বর্তমান স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় রয়েছেন, তাই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেজর (অব.) মনজুর কাদের : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ-সদস্য

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ আনছেন শি জিনপিং

আত্মসমীক্ষার রাজনীতি : ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী

আত্মসমীক্ষার রাজনীতি : ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী

সাক্ষাৎকার মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা: অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার

মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা: অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার

হুন্ডির দুষ্টচক্র ভাঙতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

হুন্ডির দুষ্টচক্র ভাঙতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম