Logo
Logo
×

Advertisement

বাতায়ন

আত্মসমীক্ষার রাজনীতি : ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী

Advertisement

মোহাম্মদ হাসান শরীফ

মোহাম্মদ হাসান শরীফ

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মসমীক্ষার রাজনীতি : ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দৃষ্টিতে জামায়াতে ইসলামী

Advertisement

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী অন্যতম সুসংগঠিত একটি দল হিসাবে পরিচিত, একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিতও। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটির শক্ত উপস্থিতি রয়েছে। এ দলটিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কৌতূহলের শেষ নেই। এ প্রেক্ষাপটে এসেছে জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স।’ বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জামায়াতের অবস্থানের ওপর আলোকপাত করেছেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের প্রধান কৌঁসুলি হিসাবে দায়িত্ব পালন, লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালে দল থেকে পদত্যাগ, এবি পার্টি গঠনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা এ গ্রন্থটি কেবল কোনো রাজনৈতিক ইতিহাস বা আত্মজীবনী নয়, বরং এটি দলের ভেতরের এক থিংক-ট্যাংকের নিজ চোখে দেখা প্রামাণ্য দলিল এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের এক জবানবন্দি হিসাবে আলোচিত হচ্ছে। গ্রন্থটির ভূমিকায় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোবিজ লেখক সম্পর্কে যে বক্তব্যটি দিয়েছেন, গ্রন্থটি পাঠ করার সময় তাও বোঝা দরকার। তিনি লিখেছেন : ‘ব্যারিস্টার রাজ্জাক ছিলেন একজন প্রকৃত বহুমাত্রিক পণ্ডিত, যার গভীর ধর্মবিশ্বাস তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে চালিত ও প্রভাবিত করেছিল। ...জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসাবে তিনি একেবারে যথাযথভাবে মার্কিন সরকারের কাছে জামায়াতের অবস্থান জানাতেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে অনেক বার্তা গ্রহণ করতেন।’

সাত অধ্যায়ে বিভক্ত গ্রন্থটিতে জামায়াতের ঐতিহাসিক বিবর্তন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ভুল, নীতিগত অন্ধত্ব, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রচেষ্টা এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তাদের স্থবির রাজনৈতিক মডেলের একটি গঠনমূলক সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬৭ সালে তরুণ ছাত্র হিসাবে ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দিয়ে টানা ৩৩ বছর জামায়াতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন রাজ্জাক। ফলে গ্রন্থটিতে জামায়াতের সাংগঠনিক বিবর্তনকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করা তার পক্ষে সহজ হয়েছে।

ব্রিটিশ ভারতে ১৯৪১ সালে জামায়াত প্রতিষ্ঠার মোট ৭৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মধ্যে অখণ্ড বাংলা থেকে ছিলেন মাত্র একজন প্রতিনিধি (যার বাড়ি ছিল পটুয়াখালী জেলায়)। অথচ তখন বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলা ও কলকাতা ব্যাপকভাবে সচেতন ছিল। ততদিনে লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাব নিয়েও পুরো ভারতবর্ষে তোলপাড় চলছে। জামায়াত তার প্রতিষ্ঠার শুরুতেই রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়ায়নি। ১৯৫৭ সালে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি রাজনীতিতে অংশ নেওয়া শুরু করে। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে রাজ্জাক নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজ্জাক তার গ্রন্থে অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। আবার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়া তো দূরের কথা, উত্থাপনও করেননি। যেমন জামায়াত নেতাদের যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছিল, সারা দেশে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর নিপীড়নের স্ট্রিম-রোলার চালানো হয়েছিল, তার মধ্যেও জামায়াতের জনশক্তি জ্যামিতিক হারে কেন বেড়েছিল, তার ব্যাখ্যা দেননি। অথচ তিনিই হিসাব দিয়েছেন, ২০০০ সালের প্রথম দশকে রোকন সংখ্যা ছিল ১৪,৭০০ জন এবং সহযোগী সদস্য ছিল প্রায় ২০ লাখ। ২০২৩ সালে রোকন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩,০৪৫ জনে এবং সহযোগী সদস্য বেড়ে হয় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের ভূমিধস বিজয় কেন হলো, কিংবা গত সাধারণ নির্বাচনে জামায়াত এমন সাফল্য কীভাবে পেল, তার কোনো ইঙ্গিতও গ্রন্থটিতে পাওয়া যায় না। একইভাবে ১৯৭১ সালের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের মতো দলগুলো হারিয়ে গেলেও কোন মন্ত্রবলে জামায়াত আগের চেয়েও শক্তিশালী হলো, তা বোঝার কোনো উপায় নেই এই গ্রন্থে।

রাজ্জাকের মতে, জামায়াত নেতৃত্বের গৃহীত বেশ কয়েকটি নীতিগত ও মারাত্মক ভুলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ১৯৭১ সালের ভূমিকা। তিনি জামায়াতের আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক ভুলের কথা চিহ্নিত করেছেন। এর একটি হলো ১৯৬৬-এর ছয় দফার বিরোধিতা ও জনগণের মনস্তত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থতা। তার মতে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর সামরিক পদক্ষেপের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ছিল আরেকটি বড় ভুল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে জামায়াতের ওই সময়ের নেতা গোলাম আযম শুরুতে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শূরার সিদ্ধান্ত ছিল-‘সেনাবাহিনী আক্রমণ করলে বা একতরফা স্বাধীনতা ঘোষিত হলে জামায়াত নিরপেক্ষ থাকবে।’ কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাণ্ডব ও গণহত্যা শুরু করতেই জামায়াত ওই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক শক্তিকে সমর্থন দেয়। ব্যারিস্টার রাজ্জাক এটিকে জামায়াতের চরম অনৈতিক অবস্থান হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় সংঘটিত গণহত্যার বিরুদ্ধে জামায়াত কোনো উচ্চ নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কেবল নিরপরাধ মানুষকে হত্যা এবং ধনসম্পত্তি বিনষ্ট করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং নয় মাসের যুদ্ধজুড়ে এই তাণ্ডবলীলা অব্যাহত ছিল।’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপরাধ ও ধর্ষণ নিয়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় লেখেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা সমর্থন বা সঠিক প্রমাণ করা একেবারেই অসম্ভব। এই একটি পয়েন্ট-এবং কেবল এই একটি পয়েন্টেই-বিষয়টির ইসলামি দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় নিয়ে জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রদত্ত সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’ তিনি আরও আক্ষেপ করে লিখেছেন : ‘জামায়াত নেতৃত্বের কাছে কোনো ধরনের প্ল্যান বি ছিল না। জামায়াত পুরোপুরি ভ্রান্তভাবে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে গুলিয়ে ফেলেছিল। এটা ছিল মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ভুল।’

তার মতে, স্বাধীনতার পর ভুলের মুখোমুখি না হওয়া ও ক্ষমা না চাওয়া ছিল জামায়াতের আরেকটি ভুল। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে জামায়াত কেন ১৯৭১ সালের নিজেদের ভূমিকার যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারেনি এবং ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়নি, তা রাজ্জাকের কাছে বোধগম্য হয়নি। গ্রন্থটির বিবরণ অনুযায়ী, রাজ্জাক নিজে কয়েক দফায় জামায়াতকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। যেমন ১৯৯৪ সালে সুপ্রিমকোর্টে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব পুনর্বহালের পর একটি ক্ষমাপ্রার্থনার খসড়া প্রস্তুত করা হলেও গোলাম আযম কেবল দায়সারাভাবে বলেন, ‘অতীতে আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন’-যা ক্ষমাপ্রার্থনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। এছাড়া ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর রাজ্জাকের উদ্যোগে ক্ষমা চাওয়ার খসড়া তৈরি হলে তাতে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা সম্মত থাকলেও মতিউর রহমান নিজামীর অনমনীয়তায় তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এরপর ২০০৫ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটিতে প্রস্তাবটি আবার উঠলে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে (পাকিস্তান রক্ষা, ভারতভীতি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমা মানবে না-এই তিনটি যুক্তিতে) তা নাকচ হয়।

তিনি ২০১৬ সালের গোপন খসড়া বিবৃতি ও ২০১৯-এর পদত্যাগের কথাও উল্লেখ করেছেন। বইটিতে ২০১৬ সালের একটি অতি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড ও আইনি বিপর্যয়ের মুখে রাজ্জাক জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার কাছে এক গোপন খসড়া বিবৃতি জমা দেন। এ খসড়া বিবৃতিতে ২টি মূল প্রস্তাব ছিল। এর একটি ছিল, ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার ও ক্ষমাপ্রার্থনা। এতে ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। অপরটিতে দল পুনর্গঠন ও নাম বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছিল। এতে ‘জামায়াতে ইসলামী’ নামটি চিরতরে বিলুপ্ত করে একটি আধুনিক, নতুন ধারার রাজনৈতিক দল গঠন করার কথা বলা হয়েছিল। জামায়াতের প্রবীণ ও রক্ষণশীল নেতৃত্বের কারণে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ২০১৯ সালে যখন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি দল বিলুপ্ত ও নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে আসে, তখন হতাশ হয়ে রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করেন।

রাজ্জাক হতাশার সুরে লিখেছেন, বাংলাদেশে জামায়াত পরিচালনাকারী নেতাদের মাঝে সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদুদীর দূরদর্শিতা কিংবা রশিদ ঘানুচির মতো প্রজ্ঞার অভাব ছিল। তারা পেশাদার পরামর্শ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুযোগ জামায়াতের ভেতর সংকুচিত হয়ে পড়ে।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বইয়ে আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো বৈশ্বিক মডেল বনাম জামায়াতের স্থবিরতা। মুসলিম দুনিয়ার সফল ইসলামপন্থি আন্দোলনের রাজনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে জামায়াতের স্থবিরতার তুলনামূলক চিত্র বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্জাক দাওয়াতি সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগঠনকে আলাদা রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ইসলামি আন্দোলনের জন্য তুরস্ক, তিউনেসিয়া ও মরক্কো মডেল থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্জাকের যুক্তি, জামায়াত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষয়িষ্ণু ‘ইখওয়ানুল মুসলিমিন’ (মুসলিম ব্রাদারহুড) এবং বিশ শতকের পুরোনো মতাদর্শের গোলক ধাঁধায় বন্দি থেকে নিজেদেরকে একটি নাগরিক পার্টি হিসাবে গড়ে তুলতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

জামায়াতের কোনো নেতার পক্ষ থেকে দলের সমালোচনা করাটা বেশ বিরল ঘটনা। সাত দশকেরও বেশি দলের ভেতরের কোনো ব্যক্তিই প্রকাশ্যে জামায়াতকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। তাহলে তিনি কেন এ উদ্যোগ নিলেন? তিনি নিজেই জবাব দিয়েছেন এভাবে : ‘বাংলাদেশে ইসলামি আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আন্তরিক প্রত্যাশা নিয়েই আমি এই কঠিন দায়িত্বটি কাঁধে নিয়েছি। আমার দৃঢ়বিশ্বাস যে, তরুণ সমাজের অনেক কিছু দেওয়ার আছে এবং একটি সংস্কারকৃত জামায়াতই তরুণ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মূল হাতিয়ার হিসাবে কাজ করতে পারে।’

তিনি শেষ করেছেন এই বলে, ‘জামায়াতে ইসলামী এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির অবস্থান অনস্বীকার্য, কিন্তু এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দলটি তাদের এড়িয়ে চলা অতীতকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে কি না তার ওপর। টিকে থাকতে হলে দলটিকে সাহসিকতা, দূরদর্শিতা এবং পরিবর্তনের সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। জামায়াত এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত দলটির ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় ঝুলছে।’

নানা সীমাবদ্ধতা, সমস্যা নিয়েই ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। তারা ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে জাতীয় সংসদে ৬৮টি আসন লাভ করে এবং বিরোধী দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। বইটি প্রকাশিত হয়েছে তার মৃত্যুর পর। তিনি জামায়াতের এই সাফল্য দেখে যেতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছাত্র সংসদগুলোয় শিবিরের একচেটিয়া বিজয় সম্পর্কেও মন্তব্য করার সুযোগ পাননি। এ অবস্থায় প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, এই সাফল্যের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ভুলের দায় সুস্পষ্টভাবে স্বীকার না করার যে অবস্থান-তা কি জামায়াতকে আগামী দিনে দুর্বল করে রাখবে, নাকি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের চিরতরে দায়মুক্ত করে দিয়েছে?

মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম