Logo
Logo
×
   

আনন্দ নগর

ইতিহাসের দোরগোড়ায় ‘মাইকেল’

সেলিম কামাল

সেলিম কামাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইতিহাসের দোরগোড়ায় ‘মাইকেল’

এক বিলিয়ন-এর মাইলফলক ছুঁতে প্রয়াত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’র আর মাত্র সাড়ে আট মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু এরইমধ্যে জাফর জ্যাকসন অভিনীত এ সিনেমাটি বক্সঅফিসে এক বিশাল মাইলফলক ছুঁয়েছে, যা এটিকে নিয়ে গেছে ইতিহাসের দোরগোড়ায়। সিনেমাটির সর্বশেষ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, এটি এমন একটি অঙ্কের এতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে-যা এর আগে কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিক অর্জন করতে পারেনি। জাপানে ‘মাইকেল’র প্রদর্শনী সিনেমাটিকে ১ বিলিয়ন ডলারের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। বক্স অফিস মোজো’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ জুলাই পর্যন্ত মাইকেল বিশ্বব্যাপী ৯৯১.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সিনেমাটি অভ্যন্তরীণভাবে ৩৭১.২ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৬২০.১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। জাপানে ১২ জুনের মুক্তি আন্তর্জাতিক মোট আয়ে ২৪.৪ মিলিয়ন ডলার যোগ করেছে। সর্বকালের সেরা বক্সঅফিস কালেকশনে সেরা পঞ্চাশে প্রবেশেরও হাতছানি দিচ্ছে সিনেমাটি।

মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব এবং খ্যাতির শিখরে ওঠার কাহিনি নিয়ে নির্মিত এ জীবনীমূলক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আমেরিকান নির্মাতা অ্যান্তনি ফুকুয়া। ২০২৫ সালের জুনে পুনঃচিত্রগ্রহণের পর সিনেমাটির নির্মাণ বাজেট ছিল মাত্র ১৫৫ মিলিয়ন থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। জাফর জ্যাকসন তার চাচা মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং জুলিয়ানো ভালদি তার তরুণ বয়সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। পার্শ্ব অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন কোলম্যান ডোমিঙ্গো, নিয়া লং, মাইলস টেলার এবং লরা হ্যারিয়ার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জাফর এবং ভালদি উভয়েই সিনেজগতে অভিষিক্ত হন। সিনেমাটি আমেরিকায় আয় করেছে ৯৭.২ মিলিয়ন ডলার-যা জীবনীমূলক সংগীতধর্মী সিনেমার ক্ষেত্রে একটি অনন্য রেকর্ড। এটি ২০১৫ সালের ‘স্ট্রেট আউটটা কম্পটন’-এর পূর্ববর্তী ৬০.২ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে, ‘মাইকেল’ ১২১.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী এর মোট উদ্বোধনী আয় দাঁড়ায় ২১৮.৮ মিলিয়ন ডলার। ১৪ জুন, ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী ৯১১.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে ‘বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডি’কে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ আয়কারী সংগীতধর্মী জীবনীমূলক সিনেমার স্থান দখল করে। এরপর ২৮ জুন এটি ক্রিস্টোফার নোলানের অস্কারজয়ী ‘ওপেনহাইমার’র ৯৭৫ মিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী জীবনীমূলক সিনেমা হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, এটি লায়ন্সগেটের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হিসাবে ‘দ্য হাঙ্গার গেমস : ক্যাচিং ফায়ার’কেও ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’র পর ‘মাইকেল’ ২০২৬ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার মর্যাদা পেয়েছে।

সিনেবোদ্ধারা বলছেন, কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয় গান এবং সিনেমায় সেগুলো হুবহু পরিবেশনার ঢং ‘মাইকেল’ সিনেমাটিকে দর্শকপ্রিয়তার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। তবে মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে এটিই প্রথম সিনেমার মর্যাদা পেলেও এর আগে তার জীবনী নিয়ে তিনটি নাটক প্রদর্শিত হয়েছিল টিভিপর্দায়। ১৯৯২ সালে ক্যারেন আর্থার নির্মাণ করেছিলেন ‘দ্য জ্যাকসন্স : অ্যান আমেরিকার ড্রিম’ নামের মিনি সিরিজ। এরপর ২০০৪ সালে অ্যালেন ময়লি নির্মাণ করেছিলেন টিভিফিল্ম ‘ম্যান ইন দ্য মিরর : দ্য মাইকেল জ্যাকসন স্টোরি’। ২০১৭ সালে নির্মিত হয়েছিল আমেরিকান বায়োগ্রাফিকাল টিভিফিল্ম ‘মাইকেল জ্যাকসন : সার্চিং ফর নেভারল্যান্ড’। এগুলোর প্রতিটিই দারুণভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মাইকেল’ দুর্দান্ত ব্যবসা করে সংগীতবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .