হ্যালো...
দর্শকের প্রশংসাই আমার কাজের মোটিভেশন
Advertisement
সাহিদ আহমেদ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাবিলা নূর, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রী। নাটকে সাবলীল অভিনয়, চরিত্রে প্রাণবন্ত উপস্থাপনার কারণে অল্প সময়েই দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সিনেমায়ও দেখিয়েছেন কারিশমা। ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’র পর এবার সাই-ফাই রোমান্স ‘কানাভোলা প্যারাডক্স’-এ ‘উপমা’ হয়ে হাজির হচ্ছেন। এ সিনেমা ও সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি।
* এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে?
** এখন মূলত ‘কানাভোলা প্যারাডক্স’ সিনেমার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছি। চরিত্র নিয়ে ভাবছি। এখনো অবশ্য শুটিং শুরু হয়নি। প্রি-প্রোডাকশন স্টেজে আছি। শিগ্গির রিহার্সাল করব এবং এরপর শুটিং শুরু হবে।
* এ সিনেমার গল্প কিংবা আপনার চরিত্র কেমন?
** সিনেমাটির গল্প মূলত একটি সাইন্স ফিকশন ও রোমান্টিক ঘরানার। গল্পে আমার চরিত্রের নাম ‘উপমা’। তবে চরিত্রটি নিয়ে এখন বেশি কিছু বলতে পারছি না, কারণ এ গল্পের সাসপেন্স ও রহস্যটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
* এই চরিত্র আগের কাজগুলোর থেকে কতটা আলাদা?
** আগের সব কাজের থেকে এটি একদমই ভিন্ন। এতে চরিত্রের নানা বাঁক রয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন একটি কনসেপ্ট নিয়ে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে, এখানে টাইম ট্রাভেলের মতো বিষয় রয়েছে, যা চরিত্রের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।
* সিনেমাটি কবে মুক্তি পাবে?
** এটি ২০২৭ সালের কুরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা।
* কাজটি নিয়ে দর্শকদের কাছে কী প্রত্যাশা করেন?
** যেহেতু এটি বেশ ভিন্ন ঘরানার একটি কাজ, তাই আশা করব দর্শকরা পাশে থাকবেন। অনেক ভিন্ন এলিমেন্ট থাকলেও এটি দিনশেষে একটি সুন্দর রোমান্টিক গল্প, তাই দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।
* ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ ‘চিত্রা’ চরিত্রটির জন্য প্রশংসা পেয়েছেন, তবে প্রশংসার একটা চাপও থাকে। পরের চরিত্র বাছতে গিয়ে সেই চাপ কি টের পান?
** আমি এটাকে একেবারেই চাপ মনে করি না; দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়াটা একটা বড় আশীর্বাদ। শুরুর দিক থেকেই দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি, যা আমাকে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ও নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়। তাই প্রশংসাকে চাপ না ভেবে আমি এটিকে কাজের মোটিভেশন হিসাবে গ্রহণ করি।
* সিনেমার সাফল্যের পর কি এমন কোনো প্রস্তাব এসেছে যা শুনে নিজেই অবাক হয়েছেন?
** কতটুকু সফল হয়েছি জানি না, তবে প্রথম কাজের পরই বেশ কিছু ভিন্ন ঘরানার গল্পের প্রস্তাব পেয়েছি। তবে দিনশেষে তো সব প্রস্তাব ব্যাটে-বলে মেলে না। সবকিছু বিবেচনা করে সেরা গল্প ও চরিত্রটিকেই বেছে নেওয়ার ইচ্ছা থাকে।
* দেশের বাইরের কোনো প্রজেক্ট বা কোলাবোরেশন নিয়ে ভাবছেন?
** আপাতত দেশের কাজ নিয়েই ভাবছি। ইনফ্যাক্ট আমি যদি বলি, ‘কানাভোলা প্যারাডক্স’ আমার জন্য একটা ড্রিম কোলাবোরেশন বলা চলে। যেহেতু আমাদের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র পরিচালক তানিম নূর ভাইয়া এটা প্রযোজনা করছেন এবং সেইসঙ্গে পরিচালক স্বাধীন এবং সুস্ময়, দুজনই অত্যন্ত মেধাবী এবং তাদের প্রথম অভিষেক সিনেমা এটি। সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে এটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং খুবই ইন্টারেস্টিং একটা কোলাবোরেশন।
* গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন?
** গল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সব থেকে বড় বিষয় থাকে ভিন্নতা-যে ধরনের কাজ বা চরিত্রে দর্শক আমাকে আগে কখনো দেখেনি। আর দিনশেষে দর্শকদের প্রত্যাশা ও তাদের ভালো লাগাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।
* নাটক আপনাকে তারকা বানিয়েছে। এর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক এখন কেমন?
** নাটকের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন বলতে গেলে, অবশ্যই প্ল্যাটফর্মটাকে ভীষণ মিস করি। আমি সবসময় বলি, নাটকের জার্নিটাই আমাকে বড় পর্দায় কাজ করার জন্য কনফিডেন্স দিয়েছে। আমি যেসব নাটকের কাজ করেছি, তার প্রতিটা কো-স্টার, ডিরেক্টর, ক্রু মেম্বার-সবাই আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, যেভাবে সঙ্গে রেখেছেন, যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন, সেটাই আমাকে আসলে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বড় পর্দায় কাজ করার জন্য।
* ক্যারিয়ারের এ সময় এসে পেছনে ফিরে তাকালে কোন সিদ্ধান্তটাকে সবচেয়ে সাহসী মনে হয়?
** যে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেই সাহসের প্রয়োজন হয়। যখন আমার কাছে ‘তাণ্ডব’-এর অফার এসেছিল, সেটাও একটা নতুন সিদ্ধান্ত ছিল। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই নতুন কিছু বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটাই আমার কাছে সবচেয়ে সাহসী মনে হয়।
* ভক্ত-দর্শকদের জন্য কোনো বার্তা বা সুখবর আছে?
** আপাতত সুখবর বলতে ‘কানাভোলা প্যারাডক্স’ নিয়েই আছি। আশা করি প্রেক্ষাগৃহে যখন সিনেমাটি মুক্তি পাবে, দর্শকরা তা দেখবেন এবং উপভোগ করবেন।
