ক্যারিয়ারে অনেক বড় ভুল করতে যাচ্ছিলাম: অধরা খান
Advertisement
আনন্দনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অধরা খান। ২০১৮ সালে ‘নায়ক’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে পথচলা শুরু। এরপর ‘মাতাল’, ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’, ‘সুলতানপুর’ দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন। বর্তমানে এ অভিনেত্রী অবস্থান করছেন কানাডায়। দেশটিতে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি পেয়েছেন বছরখানেক আগে। সেখানেই ব্যস্ত হয়েছেন পেশাগত কাজ নিয়ে। কাজ করছেন অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও এবং নেটফ্লিক্সসহ হলিউডের একাধিক প্রজেক্টে। কিছুদিন আগে সেখানে ‘ভায়োলেন্স’ নামে একটি বাংলাদেশি সিনেমায় অভিনয়ের কথা জানিয়েছিলেন। অবশেষে এ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এ নায়িকা। একইসঙ্গে বলেছেন, ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ভুল করতে যাচ্ছিলেন তিনি। সময় থাকতেই সেখান থেকে সরে এসেছেন। অধরা বলেন, ‘সিনেমাটিতে অভিনয় করার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। শুরুতে ভেবেছি, দেশের প্রজেক্ট, করা যায়। কিন্ত পরবর্তী সময়ে পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়াই। নির্মাতাকে বিষয়টি জানিয়েছে বেশ আগেই, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় অবশেষে আমি নিজেই অবস্থান পরিষ্কার করলাম।’
এতদিন কেন নীরব ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নায়িকা বলেন, ‘আমি চাইনি আমার বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির চলমান শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক। তবে এ অভিজ্ঞতা শুধু মানসিক অস্বস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর কারণে আমাকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ প্রজেক্টের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সেসময় আসা বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের কাজ গ্রহণ করতে পারিনি। এর মধ্যে এমন কিছু কাজও ছিল, যেগুলো আমার বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নির্ধারিত সময়ে অন্য কাজের সুযোগগুলো গ্রহণ করতে না পারায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। একইসঙ্গে, পেশাগত প্রতিশ্রুতি ও সময়সূচি বজায় রাখতে না পারার কারণে কানাডায় আমার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে। কারণ, এখানকার বিনোদন জগতে পেশাদারত্ব, সময়ানুবর্তিতা এবং নির্ধারিত কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। তাই যথাসময়ে যোগাযোগ ও নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ার প্রভাব শুধু একটি প্রজেক্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; আমার অন্যান্য কাজের সুযোগ, পেশাগত সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপরও এর প্রভাব পড়েছে।’
তিনি জানিয়েছেন, ভায়োলেন্স সিনেমার শুটিংয়ের মাত্র একদিন আগে তার সঙ্গে নির্মাতার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। যা ছিল তার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।
এদিকে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল থেকেই তিনি কাজ করছেন নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর আলোচিত বেশ কিছু সিরিজে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার’র তৃতীয় সিজন, ‘ডলহাউজ’, টিভি সিরিজ ‘স্টারলিং পয়েন্ট, ‘বোস্টন ব্লু’ প্রথম সিজন, ‘ইন দ্য হার্ট অফ দ্য সি-আইথটস’, ‘ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস’ সিজন-২, ‘টেল মি লাইস’। ‘নেভারম্যান’ নামে একটি সিনেমায়ও কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে হলিউডের বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ নায়িকা। তিনি বলেন, চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা (এনডিএ-নন ডিসক্লোজার এগ্রিম্যান্ট) থাকায় আন্তর্জাতিক প্রজেক্টগুলো বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, যেসব কাজ পেয়েছি তার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। দেশের বাইরে কাজ করে কতটা তৃপ্ত? অধরা বলেন, ‘নিজের দেশের বাইরে গিয়ে অন্য দেশে এসে সেখানে এত অল্প সময়ে এতুটুক রিচ করাও আমার কাছে অনেক বড় বিষয়, যেখানে বিদেশে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই আমার ছিল না। কারণ, আমি দেশেই কাজ করে অভ্যস্ত ছিলাম।’
এদিকে দেশে অধরা খান অভিনীত দুটি সিনেমা বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর একটি হলো সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘দখিন দুয়ার’ এবং অন্যটি জাহিদ হোসেনের ‘ঋতুকামিনী’। এ সিনেমায় তিনি সজলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
