ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রাসেল ব্র্যান্ডের বিচার শুরু
Advertisement
আনন্দনগর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম দিন বুধবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে প্রসিকিউশন তাকে ‘নির্দয়’ ও ‘যৌন শিকারি’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণের তিনটি, যৌন নিপীড়নের তিনটি এবং অশালীন যৌন নিপীড়নের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারী ছয় নারীর দাবি, ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। তবে ৫১ বছর বয়সি এ অভিনেতা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রসিকিউশনের আইনজীবী রিয়েল কার্মি-জোনস কেসি আদালতে বলেন, অভিযোগকারী নারীরা একে অপরকে চিনতেন না এবং প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে অভিযোগ নিয়ে সামনে এসেছেন। তিনি বলেন, ব্র্যান্ডের যৌন আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল ও নির্বিচার। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি কখনো আকর্ষণীয় ও হাস্যরসিক আচরণ করতেন, আবার কখনো নিজের ইচ্ছা পূরণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ।
আদালতে তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগকারী নারী ১৯৯৯ সালে লেবার পার্টির একটি সম্মেলনে ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ব্র্যান্ড বলেন, ঘটনা ঘটে থাকলেও তার তা মনে নেই। তবে তিনি কখনো সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়াননি বলে দাবি করেন।
অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, এমটিভিতে কর্মরত এক নারীকে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তার বাহু চেপে ধরা, ২০০৪ সালে একটি পার্টিতে পরিচিত এক নারীকে যৌন নিপীড়ন এবং ক্যাপিটাল রেডিওতে আরেক নারীকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে জোরপূর্বক চুমু খাওয়ার অভিযোগ।
পঞ্চম অভিযোগকারী নারীর দাবি, ২০০৯ সালে ব্র্যান্ডের একটি অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয় হয়। প্রথমে সম্মতিতে ঘনিষ্ঠতা হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দীর্ঘদিন নিজেকেই দায়ী করেছেন বলে আদালতে জানানো হয়। ষষ্ঠ নারীর অভিযোগ, কাজের দায়িত্ব পালনের সময় ব্র্যান্ড তার কাছে ম্যাসাজ দাবি করে যৌন নিপীড়ন করেন।
বিচারের প্রথম দিন সাক্ষ্য দেন ব্র্যান্ডের সাবেক ফ্ল্যাটমেট মার্ক পিনেইরো। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে লেবার পার্টির সম্মেলনে এক নারীর সঙ্গে আচরণের বিষয়ে ব্র্যান্ড তাকে বলেছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং তিনি হয়তো ‘একটু বেশিই করে ফেলেছেন’। জেরার সময়ও পিনেইরো তার বক্তব্যের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
ব্র্যান্ডের দাবি, তিনি কখনো কারও সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়াননি। ২০২৩ সালে পুলিশকে তিনি অভিযোগগুলোর বিবরণকে একটি প্রামাণ্যচিত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর তৈরি বা কল্পিত বলে অভিহিত করেছিলেন। ছয় সপ্তাহ ধরে বিচার চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে স্ট্যান্ড-আপ কমেডি, টেলিভিশন ও রেডিও অনুষ্ঠান এবং ‘ফরগেটিং সারাহ মার্শাল’ ও ‘গেট হিম টু দ্য গ্রিক’-এর মতো হলিউড সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ব্র্যান্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পডকাস্টিংয়ে মনোযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন।
