Logo
Logo
×

Advertisement

আনন্দ নগর

সিনেমা মুক্তির ক্যালেন্ডারে দীর্ঘ খরা

বছরের দুই ঈদ ঘিরে ঢালিউডে তৈরি হয় তারকাদের উপস্থিতি, বড় বাজেটের সিনেমা, প্রচারণা ও দর্শকের আগ্রহের সমাবেশ। কিন্তু উৎসব শেষ হলেই প্রেক্ষাগৃহে নতুন দেশীয় সিনেমার ধারাবাহিকতা দুর্বল হয়ে পড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মুক্তির চিত্রেও দেখা যাচ্ছে একই প্রবণতা। ঈদুল ফিতরে পাঁচটি এবং ঈদুল আজহায় আটটি সিনেমা মুক্তি পেলেও বছরের অন্য সময়ের অধিকাংশ সিনেমা বড় পরিসরে আলোচনায় আসেনি। জানুয়ারিতে দুটি সিনেমা দিয়ে শুরু হওয়া বছরটিতে এপ্রিলে ছিল মুক্তিশূন্যতা; অন্যদিকে মে মাসে একসঙ্গে সিনেমার ভিড়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে-ঈদনির্ভর এই মুক্তির সংস্কৃতি কি ঢালিউডের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? বিস্তারিত রয়েছে এ প্রতিবেদনে।

Advertisement

Icon

এফ আই দীপু

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ঢাকাই সিনেমা এখন ঈদকেন্দ্রিক। গত কয়েক বছর ধরে একমাত্র দুই ঈদের বড় বাজেট, বড় তারকাসমৃদ্ধ সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এ ছাড়া বছরের অন্য সময়গুলো থাকে ফাঁকা। যদিও বছরের অন্য সময়ও কিছু সিনেমা মুক্তি পায়। কিন্তু সেগুলো না থাকে আলোচনায়, না পায় ব্যবসায়িক সাফল্য। চলতি বছরটিও শুরু হয়েছিল নতুন সিনেমা দিয়ে। বছরের শুরুতে ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পায় আহমেদ হাসান সানির ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। এতে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ, আজাদ আবুল কালাম, এ কে আজাদ সেটু ও কেয়া আল জান্নাহ। এটি চব্বিশের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত। ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘ময়নার চর’-এ ছিলেন মামুন হাসান ইমন, সুশমী রহমান ও শিবা শানু। ফেব্রুয়ারিতে সালমান জসিম পরিচালিত ‘বরিশাইল্ল্যা পরী’ মুক্তি পায়; এতে অভিনয় করেছেন শিপন মিত্র ও প্রিয়া সরকার। তিনটি সিনেমার কোনোটিই বড় তারকাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক আয়োজন হিসাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারেনি।

এরপর মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে একসঙ্গে মুক্তি পায় পাঁচটি সিনেমা। তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ শরীফুল রাজ, সঞ্চিতা নূর, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও ইন্তেখাব দিনার অভিনয় করেন। আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স : ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’তে ছিলেন শাকিব খান, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, তাসনিয়া ফারিণ ও দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। রেদওয়ান রনির ‘দম’-এ অভিনয় করেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী। মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘রাক্ষস’-এ ছিলেন সিয়াম আহমেদ, সুস্মিতা চ্যাটার্জি ও শাতাফ ফিগার। রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’-এ অভিনয় করেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত ও মিশা সওদাগর। এ পাঁচ সিনেমার মধ্যে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’ ও ‘প্রিন্স’ দর্শক-আলোচনায় বিশেষভাবে জায়গা করে নেয়। তবে শাকিব খানের প্রিন্স নিয়ে ভক্তদের যে আশা ছিল, তা মেটাতে পারেনি সিনেমাটি। এটি নায়কের জন্য একটি ফ্লপ প্রজেক্ট ছিল।

এপ্রিলে নতুন দেশীয় সিনেমার মুক্তি না থাকলেও মে মাসে চিত্রটি উলটে যায়। এসময় মুক্তি পায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিনেমা; এর মধ্যে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আটটি সিনেমা আসে প্রেক্ষাগৃহে। এ তালিকায় ছিল আজমান রুশোর ‘রকস্টার’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’, সাইফ চন্দনের ‘মালিক’, সৈকত নাসিরের ‘মাসুদ রানা’, বদিউল আলম খোকনের ‘তছনছ’, ডি এ তায়েবের ‘অফিসার’ ও জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’। ‘রকস্টার’-এ শাকিব খান, সাবিলা নূর ও তানজিয়া জামান মিথিলা; ‘রইদ’-এ মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি; ‘মালিক’-এ আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম; ‘মাসুদ রানা’য় রাসেল রানা ও পূজা চেরী; ‘পিনিক’-এ আদর আজাদ ও বুবলী অভিনয় করেন। বড় তারকার উপস্থিতি ও প্রচারণা থাকলেও সব সিনেমা প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি।

ঈদের বাইরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে ছিল মিজানুর রহমান লাবুর ‘আতরবিবিলেন’, গাজী রাকায়েতের ‘মানুষটিকে দেখো’ এবং রাখাল সবুজের ‘সর্দারবাড়ির খেলা’। ‘আতরবিবিলেন’-এ অভিনয় করেন ফারজানা সুমি, রাশেদ মামুন অপু ও গোলাম মুস্তফা প্রকাশ। ‘মানুষটিকে দেখো’তে ছিলেন রাশনা শারমিন কেমি, তাহমিদ আরেফিন হক ও তারিক আনাম খান। ‘সর্দারবাড়ির খেলা’য় জিয়াউল রোশান, শবনম বুবলী, শহীদুজ্জামান সেলিম ও আজাদ আবুল কালাম অভিনয় করেন। কিন্তু এসব সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে পুরোটাই ব্যর্থ। অন্যদিকে মে মাসে মুক্তি পাওয়া ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এ ছিলেন হাসান জাহাঙ্গীর, মৌসুমী, জেবা জান্নাত ও কাজী হায়াৎ। সিনেমাটি ব্যবসায়িক সাফল্য তো দূরের কথা, আলোচনার চেয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক কামিয়েছে বেশ।

জুনে মুক্তি পায় আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-সংস্কৃতি, ছাত্ররাজনীতি ও ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি বিষয়বৈচিত্র্যের জন্য আলোচিত হয়। জুলাইয়ে প্রসূন রহমানের ‘শেকড়’-এ এফ এস নাঈম, আইশা খান, দিলারা জামান ও সমু চৌধুরী অভিনয় করেন। একই সময়ে ‘মাস্তুল’ ও ‘বাপজান’-এর মতো সিনেমাও মুক্তি পায়। আগস্টে আসে মাহফুজুর রহমান আপনের ‘বউ নিয়ে যুদ্ধ’, যেখানে অভিনয় করেন স্বাধীন, পুষ্পিতা, কাবিলা, মিজু আহমেদ ও অমিত হাসান; পাশাপাশি মুক্তি পায় আবুল কাশেম মণ্ডলের ‘ভালোবাসি হয়নি বলা’, অভিনয়ে শেখ রিফাত, নুসরাত জাহান তানিশা ও সাদিয়া আক্তার। সেপ্টেম্বরে ইভান মল্লিকের ‘লাভ ২৬’ মুক্তি পায়; এতে ছিলেন আরিয়ান খান, পূর্ণতা, শিবা শানু ও ডিজে সোহেল। এসব সিনেমার মধ্যে কয়েকটি নিজস্ব গল্প বলার চেষ্টা করলেও বাণিজ্যিক সাফল্য কিংবা ব্যাপক দর্শক-আলোচনা, কোনোটাই তৈরি করতে পারেনি।

অক্টোবরেও সিনেমা মুক্তি থেমে থাকেনি। ২ অক্টোবর কামরুজ্জামানের ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ প্রেক্ষাগৃহে আসে। এতে অভিনয় করেছেন আরিয়ান সারোয়ার, রাদিফা নারমিন, আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, কায়েস আরজু ও মৌ খান। ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মুক্তি পায় ‘স্নেহের বন্ধন’, ‘কাটপিস’ ও ‘চিরকুট’। ‘স্নেহের বন্ধন’-এ জয় চৌধুরী ও মৌ খান, ‘কাটপিস’-এ শিফাত আমিন শুভ ও রাফাহ নানজেবা তোরসা এবং ‘চিরকুট’-এ শ্যামল মাওলা, আজিজুন মিম ও কোয়াজি নওশাবা আহমেদ অভিনয় করেছেন। অর্থাৎ, ঈদের বাইরে মুক্তি একেবারে বন্ধ ছিল না; তবে এসব সিনেমায় তারকাখচিত আয়োজন ও ব্যাপক প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সিনেমা মুক্তিতে দীর্ঘ বিরতি প্রসঙ্গে প্রখ্যাত নির্মাতা শামীমুল ইসলাম বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক সিনেমা মুক্তি দেওয়া আর সারা বছর নিয়মিত সিনেমা দেওয়া এক বিষয় নয়। ঈদে আটটি সিনেমা একই দর্শক ও প্রেক্ষাগৃহের জন্য প্রতিযোগিতা করে; অথচ পরের মাসগুলোতে দর্শকের সামনে নতুন বিকল্প থাকে না। এতে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।’

প্রযোজনা ও প্রদর্শনব্যবস্থা নিয়ে তরুণ নির্মাতা ও প্রযোজক অনন্য মামুন বলেন, ‘শুধু বড় তারকা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি টিকবে না। প্রয়োজন পরিকল্পিত মুক্তির ক্যালেন্ডার, গল্পের বৈচিত্র্য, কার্যকর প্রচারণা, পর্যাপ্ত প্রেক্ষাগৃহ এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব। ছোট বাজেটের ভালো সিনেমাকেও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে।’

ঢালিউডের সংকট তাই শুধু সিনেমার সংখ্যা কিংবা ঈদে আটকে থাকার বিষয় নয়; সংকট নিয়মিত দর্শক তৈরি, মানসম্মত নির্মাণ, বিপণন ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তায়। বছরে দুই উৎসবে ব্যবসার আশা নিয়ে সিনেমা বানিয়ে বাকি সময় প্রেক্ষাগৃহ ফাঁকা রাখলে নির্মাতা, হলমালিক ও দর্শক-কেউই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবেন না। ইন্ডাস্ট্রিকে টেকসই করতে ঈদের বাইরেও আকর্ষণীয় সিনেমা মুক্তি, প্রতিযোগিতামূলক প্রদর্শনব্যবস্থা এবং সারা বছরের সুপরিকল্পিত সিনেমা-পরিকল্পনা জরুরি-এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সিনেমা মুক্তির ক্যালেন্ডারে দীর্ঘ খরা

সিনেমা মুক্তির ক্যালেন্ডারে দীর্ঘ খরা

টুকরো খবর আবুধাবিতে শাহরুখের সংগীত উৎসব

আবুধাবিতে শাহরুখের সংগীত উৎসব

প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন খায়রুল বাসার

প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন খায়রুল বাসার

পূজার আনন্দে ভাসছেন জয়া

পূজার আনন্দে ভাসছেন জয়া

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম