Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে মানবেতর জীবন

Advertisement

Icon

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ফুলবাড়ীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। জীবন সংগ্রামে টিকতে না পেয়ে অন্যত্র চলে গেছে অসহায় পরিবারগুলো। অতি কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে কয়েক বছর আবাসনে থাকলেও তাদের নিজস্ব ঠিকানা না থাকায় বর্তমানে ফুটো-ফাটা মরিচা ধরা টিনের চালে পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে দিন-রাত কাটাচ্ছেন তারা। ঘরের বেড়া ও উপরের টিনগুলো মরিচা ধরে গেছে। ২০১৭ সালের ভয়াভহ বন্যায় কয়েকটি ব্যারাক দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যাওয়ার পরেও খোঁজ নেয়নি কেউ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ এভাবেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার সীমান্তঘেঁষা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিন্নমূল পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ২টি আবাসনের ১টিতে ১৬০ পরিবার ও অন্যটিতে ৮০ পরিবার। ধরলা নদীর পশ্চিমপাড়ে ৬০ পরিবার ও পূর্বপাড়ে ২০ পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ এবং দক্ষিণ চরগোরকমন্ডল এলাকায় ৫৫ পরিবারকে পুনর্বাসন ও স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য হস্তাস্তর করা হয় আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প (আবাসন) নামে। এখানে খাস জমির ওপর ঘর নির্মাণ করায় বসবাসের সুযোগ পায় ৩৭৫টি ভূমিহীন পরিবার। মাত্র ৪-৫ বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করেছেন। এরপর আস্তে আস্তে আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের টিনসেডের ঘরগুলোর চাল ফুটো, বেড়া ধসে পড়াসহ ঘরগুলোর সামনের উঠানে আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় একেবারে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘরের চাল ও টিনের বেড়া বড় বড় ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টির দিনে পানি তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। কেউ কেউ বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে টিনের ওপর পলিথিন দিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি টিউবওয়েল ও একটি টয়লেট নির্মাণ করা হলেও সংস্কারের অভাবে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ পলিথিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে কাঁচা টয়লেট বানিয়ে তা ব্যবহার করছেন। শত কষ্টের পরেও ভূমিহীন পরিবারগুলো দিনের পর দিন নিরুপায় হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আবাসনের বাসিন্দা জান্নাতী বেগম ও আসমা, মনোয়ারা জানান, আমাদের কথা কেউ শোনে না। অনেক কষ্টে আছি। বৃষ্টি হলেই পলিথিন টিনের ওপর দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। কারণ, আমাদের তো অন্য কোথাও থাকার জায়গা নেই। চরগোরকমন্ডল আবাসনের সভাপতি মোন্নাফ হোসেন জানান, ১২-১৪ বছর ধরে আবাসনটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগযোগ করেছি। প্রতিশ্রুতি দিলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে আবাসনের ঘরগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। চাল ফুটো হয়েছে। টয়লেটের টিনও নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টি ও শীত থেকে রক্ষা পেতে কোনো রকমেই টিনের চালে পলিথিন ও বেড়া দিয়ে ঘিরে কাঁচা টয়লেট বানিয়ে তা ব্যবহার করছি। অসহনীয় কষ্টের কারণে আমাদের দুটি আবাসনের ১৭৫টি পরিবার অন্য জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে। আমাদের জায়গা জমি নেই, তাই এখানে আছি। উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা যুগান্তরকে জানান, আবাসন ও গুচ্ছগ্রামগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পুঠিয়ায় নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন বন বিভাগকে ম্যানেজ করে সরকারি রাস্তার গাছ লুট

বন বিভাগকে ম্যানেজ করে সরকারি রাস্তার গাছ লুট

সাবেক স্বামীর ফেসবুকে পোস্ট কমলনগরে মামাকে পিটিয়ে হত্যা

কমলনগরে মামাকে পিটিয়ে হত্যা

মানিকগঞ্জের সব সড়ক উন্নয়ন করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী

মানিকগঞ্জের সব সড়ক উন্নয়ন করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী

চাঁদপুরে এক মাসও টিকেনি কোটি টাকার সড়ক

চাঁদপুরে এক মাসও টিকেনি কোটি টাকার সড়ক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম