পুঠিয়ায় নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন
বন বিভাগকে ম্যানেজ করে সরকারি রাস্তার গাছ লুট
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার গাছ প্রকাশ্যে দিবালোকে লুট করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দেড় মাসে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের দুটি স্থানে দুই দফায় ১৪টি বড় সরকারি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছ লুটের সঙ্গে একজন কাঠ ব্যবসায়ী এবং আরেকজন শিক্ষক সম্পৃক্ত রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বন বিভাগকে অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে গাছ লুটের এ ঘটনা ঘটেছে। গাছ লুটের স্থির এবং ভিডিও চিত্রসহ একাধিক প্রমাণ থাকলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে এলাকাবাসীর সামনেই জিউপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারুর মোড় এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে থাকা ১০টি মেহগনি গাছ কেটে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। মতিউর সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে ‘ম্যানেজ’ করে মূল্যবান ১০টি গাছ কেটেছেন। এসব গাছের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। প্রত্যেকটির গড় মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
তবে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ‘সরকারি রাস্তার না, আমার জমির গাছ কেটেছি। স্থানীয় ভূমি অফিস এবং বন বিভাগের লোকজন এসে দেখে গেছেন। কেউ কিছু বলেননি। আর কাউকে টাকাপয়সা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
এদিকে একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপাড়া বাজারের পাশে ২১ অক্টোবর প্রকাশ্যে রাস্তার পাশের বড় ৪টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক আবু বাক্কার। এসব গাছের আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা। তবে এ ব্যাপারেও বন বিভাগ এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য শিক্ষক আবু বাক্কারকে ফোনে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আবু বাক্কার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। প্রকাশ্যে গাছ কেটে নিলেও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে পুঠিয়া উপজেলা বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাছ কাটার দুটি স্থানেই আমাদের অফিসের সহকারী ফয়েজ আলীকে পাঠিয়ে ছিলাম। এ ব্যাপারে সর্বশেষ আপডেট তথ্য আমার জানা নেই। আর অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে এর বেশিকিছু বলব না।’
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ‘গাছ কাটার অভিযোগ পেয়েছি। ২১ অক্টোবর যেখানে গাছ কাটা হয়েছে, সে স্থানটি পরিদর্শন করেছি। সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি সরকারি জায়গার গাছ কাটা হয়, তাহলে নিয়মিত মামলা হবে।’
