একে একে হারিয়েছেন ১০ সন্তান-স্বামী
ভাতা ও ঘরের জন্য ঘুরছেন অসহায় মাহফুজা বেগম
মুহসিন আল জাবির, হাতিয়া (নোয়াখালী)
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোলের একে একে ১০টি সন্তানকে নিজ হাতে কবরে শায়িত করেছেন, বছরখানেক আগে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছেন একমাত্র জীবনসঙ্গী স্বামীও। চরম শোক, নিঃসঙ্গতা আর নিদারুণ দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে এক জরাজীর্ণ টিনের ঘরে মানবেতর জীবন হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা মাহফুজা খাতুনের। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বিধবার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই; সরকারি স্থায়ী কোনো সামাজিক সুরক্ষার আওতায় না থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য আর অনাহার-অর্ধাহারেই দিন পার করছেন তিনি।
পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্জন জায়গায় অত্যন্ত ভাঙাচোরা, ঝরঝরে ও স্যাঁতসেঁতে একটি টিনের ঝুপড়িতে মাহফুজা খাতুনের বসবাস। ঘরের টিনগুলোতে মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুইয়ে পড়ার উপক্রম হয়। ছাউনি ও বেড়া প্রায় ধ্বংসের মুখে। বয়োবৃদ্ধ শরীরে এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত ঘরে একা বসবাস করা যে কোনো সাধারণ মানুষের জন্যই চরম ভীতি ও কষ্টের। যে কোনো দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় আশ্রয়টুকু ধসে পড়ার আতঙ্কে কাটে তার প্রতি মুহূর্ত।
চোখের জলে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বৃদ্ধা মাহফুজা খাতুন জানান, ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিয়মিত খাবার জোটানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো কোনো দিন প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে তরকারি বা রান্না করা খাবার দিলে তা খেয়ে ক্ষুধা মেটান। আর সাহায্য না পেলে মরিচ দিয়ে ভাত মেখে অথবা শুকনা খাবার খেয়েই দিন পার করেন। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আত্মীয়স্বজন বা আশপাশের মানুষের দেওয়া ফিতরা ও জাকাতের সামান্য অর্থ দিয়ে কয়েক মাস কোনোমতে চালিয়ে নেন। কিন্তু সেই সাহায্য ফুরিয়ে গেলে আবার অন্যের দরজায় হাত পাততে হয়।
বৃদ্ধা মাহফুজার অভিযোগ, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম দুঃসময়েও তিনি কোনো ধরনের স্থায়ী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা পাননি। তার নামে এখন পর্যন্ত কোনো বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড ইস্যু করা হয়নি।
