জীবনের সব সঞ্চয়ে করা বাড়িতেও শান্তি মেলেনি
সাজ্জাদের ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রমে
জাহিদ রিপন, ফরিদপুর
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ট্রাক চালিয়ে জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে স্ত্রীর নামে কেনা জমিতে নির্মাণ করেছিলেন বাড়ি। আশা ছিল স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জীবনের শেষ সময়ে এ বাড়িতেই কাটাবেন সুখে-শান্তিতে। কিন্তু স্ত্রীর কটু কথা সইতে না পেরে নিজের করা বাড়ি ছাড়েন সাজ্জাদ হোসেন (৭০)। পরিশেষে ঠাঁই মেলে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার সরকারি শান্তি নিবাসে (বৃদ্ধাশ্রম)। সেই থেকে প্রায় ৯ বছর যাবৎ থাকছেন এই প্রবীণদের নিবাসে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাটাতে চান এখানেই। এ নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি তেমন আক্ষেপ অভিযোগ-অনুযোগ নেই বলে জানালেন তিনি।
সাজ্জাদ হোসেনের জন্ম ১৯৫৬ সালের দিকে সিলেটে। বাবার চাকরির সুবাদে সাজ্জাদ হোসেন চলে আসেন ফরিদপুরে। সেখানে জন্ম হয় তার ৩ ছেলে তানজির হোসেন, তানভীর হোসেন ও তাজবীর হোসেন এবং মেয়ে সুরাইয়া, সুলতানা, লাকি ও ইতি। সব ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের পর চার মেয়ে স্বামীর বাড়িতে সংসার করছেন। আর ছেলেদের মধ্যে এক ছেলে থাকতেন বাড়িতে। স্ত্রী হামেদা বেগম নারগিসকে নিয়ে ফরিদপুর শহরতলীর বদরপুর এলাকার নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন সাজ্জাদ হোসেন।
হঠাৎ একদিন সাংসারিক সামান্য কথা-কাটাকাটি নিয়ে স্ত্রী নারগিস তার স্বামী সাজ্জাদ হোসেনকে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতে বলেন। সেই কথা সইতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে অভিমানে নিজের টাকায় গড়া বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে আসেন শহরে। এরপর কয়েকদিন এদিক ওদিক ঘুরে চেয়ে-চিন্তে খাবার জুটে। এরপর ট্রাকচালক সমিতির সহায়তার ঠাঁই মিলে শহরের টেপাখোলা এলাকার শান্তি নিবাসে। সেই থেকেই প্রায় ৯ বছর যাবৎ থাকছেন এই শান্তি নিবাসে।
শান্তি নিবাসের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এখানকার খাবারের মান অনেক ভালো। বাসার খাবারের চেয়ে অনেক ভালো খাবার পেয়ে থাকি। তাছাড়া এখানকার সবাই আন্তরিক। এখানে থাকতে কোনো সমস্যা হয় না। তবে অনেকটা অভিমানের সুরে বলেন, আমার মেয়েরা মাঝেমধ্যে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলেও ৩ ছেলে কোনো খোঁজখবর রাখে না। তাই তিনি সন্তানদের কথা বললে ছেলেদের কথা বলতে চান না।
এ বিষয়ে সেইফ হোম এর কর্মকর্তা তাহসিনা জামান যুগান্তরকে বলেন, শান্তি নিবাসে ধারণক্ষমতা ৫০ জনের হলেও বর্তমানে নারী-পুরুষ মোট ১২ জন রয়েছেন। এখানের নারী-পুরুষের সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
