হাইকোর্টের নির্দেশনা আর এমপিদের চিঠিও বিফলে
রামগতি ও কমলনগরে চলছে ৭০ অবৈধ ইটভাটা
Advertisement
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে গড়ে উঠেছে অন্তত ৭০টি অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটা বন্ধে একাধিকবার হাইকোর্টের নির্দেশনা, স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলন এবং সংসদ-সদস্যদের চিঠি দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। প্রশাসনের এক দপ্তর আরেক দপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ ইটভাটাগুলো। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। পাশাপাশি কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। এদিকে, অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধের দাবিতে গত ১৬ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন। এরপরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে রামগতি উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল আলম হান্নান অবৈধ ইটভাটাগুলো উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগেও ২০২৫ সালে হাইকোর্ট থেকে ইটভাটাগুলো বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসন অভিযান চালালেও পরে আবার চালু করেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় প্রায় আট লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ধান ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হচ্ছে। ইট তৈরিতে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমছে। অন্যদিকে ইট পরিবহণকারী ট্রাক্টর-ট্রলির চাপে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনবহুল এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি ইটভাটা থাকায় শিশু-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম, আমজাদ হোসেন ও শফিকুর রহমান বলেন, ঋণ করে জমিতে ধান ও সয়াবিন চাষ করেও ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ধুলাবালিতে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। রিটকারী আশরাফুল আলম হান্নান বলেন, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট করে সব অনুমোদনহীন ও অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিধিবহির্ভূতভাবে নতুন ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। কমলনগর ইউএনও রাহাত উজ জামান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউকে ইটভাটা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। রামগতির ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ইটভাটা বন্ধে অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ পাঠান বলেন, সংসদ-সদস্যদের চিঠির বিষয়ে শুনেছেন, তবে তার কাছে এখনো চিঠি পৌঁছায়নি। শিগগিরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
