Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

গোয়ালন্দে পদ্মায় শিকার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ডলফিন-বাঘাইর

আইন আছে প্রয়োগ নেই

Icon

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে দেদার শিকার করা হচ্ছে ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ বাঘাইর মাছ ও ডলফিন বা শুশুক। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ অনুযায়ী এসব প্রাণী শিকার ও ক্রয়-বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই।

স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ক্রেতারা আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্য নিলামে এমনকি অনলাইনে এসব প্রাণী শিকার এবং ক্রয়-বিক্রয় করে চলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২ নভেম্বর সকালে উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে পদ্মা নদীর জেলে সেকেন সরদারের জালে ২৫ কেজি ওজনের একটি বাঘাইর মাছ ধরা পড়ে। মাছটি দৌলতদিয়া ঘাটের শিপন মণ্ডলের মৎস্য আড়তে এনে উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। সেখানে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মাছটি কিনে নেন। পরে বাঘাইর মাছটির ভিডিও তিনি তার শাকিল- সোহান মৎস্য আড়ৎ ফেসবুক পেজে শেয়ার দিলে কাতার প্রবাসী এক ব্যাক্তি ১৭০০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় মাছটি তার বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে ৩০ অক্টোবর ভোরে জেলে শরিফুলের জালে ধরা পড়ে ১৫-১৬ কেজি ওজনের একটি গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক। সকালে শুশুকটি দৌলতদিয়ার গাউছিয়া মৎস্য আড়তে তোলা হলে প্রকাশ্য নিলামে মাত্র ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। ক্রেতা জানান, শুশুক খাওয়া যায় না। এর তেল দিয়ে আমরা পদ্মা নদী থেকে বাছা, বাঘাইরসহ বিভিন্ন মাছ ধরে থাকি। স্থানীয় কয়েকজন জানান, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ এলাকায় বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই দু-একটা করে বাঘাইর মাছ ধরা পড়ছে। মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছে শুশুক। মাছগুলো প্রকাশ্য নিলাম ও অনলাইনে বিক্রিও করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো দিন আইনের প্রয়োগ ঘটাতে দেখি না।

গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট জানান, মৎস্য আইনে বাঘাইর ও শুশুক শিকারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী এ মাছ শিকার ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বন কর্মকর্তা এই আইনটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় আইনটি বাস্তবায়ন করবেন। এর বাইরে আমরা মাঝেমধ্যেই জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে সচেতন করে থাকি। গোয়ালন্দ উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ যুগান্তরকে জানান, বাঘাইর ও শুশুক শিকার এবং ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নদী এলাকায় ইতঃপূর্বে মাইকিং এবং কিছু পোস্টারিং করেছি। এছাড়া ইউএনও অথবা এসিল্যান্ড মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য তাদের বলে রেখেছি। তবে ২০২৬ সালে বাঘাইর মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার আদেশটি বাতিল করে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা যুগান্তরকে জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়ে সজাগ থাকতে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। এর বাইরেও যে কোনোভাবে তথ্য জানলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র কোটি টাকার ওয়াচ টাওয়ারে শুধু চার পিলার

কোটি টাকার ওয়াচ টাওয়ারে শুধু চার পিলার

গোয়ালন্দে পদ্মায় শিকার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ডলফিন-বাঘাইর

গোয়ালন্দে পদ্মায় শিকার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ডলফিন-বাঘাইর

পাবনা ক্ষেতলাল মান্দায় ছাত্রীসহ ৩ লাশ উদ্ধার

পাবনা ক্ষেতলাল মান্দায় ছাত্রীসহ ৩ লাশ উদ্ধার

নিয়ামতপুরে বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ

নিয়ামতপুরে বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম