খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ
শাহরিয়ার আলম সোহাগ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কালীগঞ্জের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে এলাকায় ড্রেন নির্মাণের অভিযাগ উঠেছে। সরকারি কাগজপত্রে সরকারি খাল উল্লেখ থাকলেও সেখানে ড্রেন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভা। এদিকে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের ফলে বর্ষাকালে পানির প্রবাহ কম এবং শহরে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোভিড-১৯ প্রকল্পের অধীনে সরকারি খালের ওপর দৈর্ঘ্যে ১৬৫ মিটার ও প্রস্থে আট ফুট ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করে কালীগঞ্জ পৌরসভা। এ ড্রেন নির্মাণে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। আর এ কাজের ঠিকাদার বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড করপোরেশনের নজরুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে কাজটি দেখাশোনা করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন। সরেজমিন বুধবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খালের মধ্যে শ্রমিকরা কাজ করছেন। সেখানে ড্রেন নির্মাণে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর মৌজার ১নং খতিয়ানের ২৫৫২ ও ২৬০১ দাগে সরকারি খাল উল্লেখ আছে। এর মধ্যে ২৬০১নং দাগের সরকারি খালে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। নিশ্চিন্তপুর মৌজার সরকারি ম্যাপেও খাল বলে ওই স্থানটি রয়েছে। সেখানে সরকারি খালের নামে সাড়ে ৩২ শতক জমি রয়েছে। খালটির প্রস্থ অনেক জায়গায় ১৫ থেকে ২০ ফুট ছিল। সেখানে এখন আট ফুটের ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খাল খননের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। কিন্তু কালীগঞ্জে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ খাল দিয়ে বর্ষার সময় চিত্রা নদীতে কয়েকটি গ্রামের পানি প্রবেশ করে। কিন্তু এ ড্রেন নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতা বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া বর্ষার সময়ে এ খালে যে পানির চাপ বাড়ে তাতে ড্রেন কোনো কাজেই আসবে না। সরকারের কোটি টাকা একদমই পানিতে যাচ্ছে। পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুক্তার হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এ খালটির অবদান অনেক। এ খাল দিয়ে পৌরসভার কয়েকটি গ্রাম ছাড়াও উপজেলার পশ্চিমের শিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের অন্তত ২৭টি গ্রামের পানি শহরের ভেতর দিয়ে চিত্রা নদীতে যায়। এ খালে ড্রেন নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হবেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, এটি তার লাইসেন্সে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু কাজ করেন। তিনি সম্পর্কে তার জামাই হন। এরপর তিনি পিন্টুর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। স্থানীয়ভাবে কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টুর শ্বশুরের লাইসেন্সে এ কাজ করা হচ্ছে। এ কাজ ছোট লাইসেন্সে হয় না। খালের বিষয়ে ঝামেলা হয়েছিল। এ কাজ করার আগে স্থানীয় এমপিসহ দুই গ্রামের লোকজন থেকে সিদ্ধান্ত হয়। পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাচান বলেন, যেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি পাবলিকের জায়গা। এলাকাবাসীর সঙ্গে বসে আলোচনা ও রেজুলেশন করে ড্রেন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পৌর নায়েব খোকন কুমার দাস বলেন, সরকারি নথিভুক্ত খাল হিসাবে আছে। ২৫৫২ ও ২৬০১নং দাগে সাড়ে ৩২ শতক জমি সরকারি খাল হিসাবে রেকর্ড রয়েছে।
পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌরসভার সার্ভেয়ার জানিয়েছেন খালের জায়গা রাস্তার মধ্যে চলে গেছে। এখন যে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি পাবলিকের জায়গায়। এমপি সাহেব, স্থানীয় জনগণ, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি সবাই এসে আলোচনা করে এ ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।’
