নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নাকি পুরোনো জটিলতা
ক্যাম্পাস তারুণ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডাকসুর প্রথম বছরের গল্প যেখানে শেষ হওয়ার কথা, সেখানেই শুরু হচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন-পরবর্তী নির্বাচন। বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ ৩৬৫ দিন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেই হিসাবে তাদের এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে এখন প্রশ্ন-পরবর্তী ভোট কবে? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা আছে। গতবারের নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই ধাপে ধাপে এগিয়েছিল। এবারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির গতি তুলনামূলক ধীর। এমনকি দৃশ্যমান হয়নি একেবারেই। এমন উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে। তবে ‘কোনো উদ্যোগই হয়নি’ বলা ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০ আগস্ট ২০২৬ পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রথম প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছে। সেখানে নির্বাচন আয়োজন, ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আবাসিক হলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়। কিন্তু প্রস্তুতিমূলক সভা আর নির্বাচনি তফসিল এক জিনিস নয়।
ডাকসু নেতৃত্বও এ নিয়ে প্রকাশ্যে চাপ তৈরি করেছে। সাদিক কায়েম বলেছেন, ১৪ সেপ্টেম্বর এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর তারা দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ও রূপরেখা চেয়েছেন। বিষয়টি ডাকসুর সভায় এজেন্ডা হিসাবে তোলা হলেও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখানেই ডাকসুর ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। নিয়মিত নির্বাচন না হলে একটি ছাত্রসংসদ ধীরে ধীরে ব্যক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। নিয়মিত নির্বাচন হলে ব্যালট হয়ে ওঠে জবাবদিহির সবচেয়ে সহজ ভাষা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছয় বছরের অপেক্ষার পর ব্যালট হাতে নিয়েছিলেন। সেই ব্যালট একটি নেতৃত্ব বেছে দিয়েছিল। একই সঙ্গে একটি প্রত্যাশাও তৈরি করেছিল। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব যেন আবার দীর্ঘ অনুপস্থিতির অন্ধকারে হারিয়ে না যায়।
এক বছর পর তাই ডাকসুর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সম্ভবত কে কত কাজ করেছেন, সেটিও নয়। প্রশ্নটি আরও মৌলিক। ব্যালট কি নিয়মিত এবং সময়মতো ফিরবে? কারণ ডাকসুর ইতিহাসে আন্দোলনের গল্প অনেক আছে। বিরতির গল্পও কম নেই। এবার শিক্ষার্থীরা হয়তো আরেকটি গল্প দেখতে চান, ধারাবাহিকতার গল্প। শুধু প্রত্যাশা থাকবে তাদের কথা বলার জন্য যে সংসদ, সেটিও যেন ইতিহাসের পাতায় ফিরে না যায়। ব্যালট থেকে জন্ম নেওয়া প্রত্যাশা আবার ব্যালটেই ফিরে আসুক। কারণ শেষ পর্যন্ত ডাকসু কোনো ভবনের নাম নয়, কোনো প্যানেলের নামও নয়। ডাকসু মানে শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব। আর প্রতিনিধিত্বের প্রাণ নিয়মিত নির্বাচন, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীর আস্থা।
