শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্মদিনে নানা আয়োজন
সাংস্কৃতিক রিপোর্টার
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চারদিকে উৎসবের আমেজ। গান, কবিতা, আবৃত্তি, নৃত্যসহ নানা আয়োজন। হাজার হাজার মানুষ এলেন। এলেন দেশের নানা অঙ্গনের বিশিষ্টজন। সঙ্গে করে আনলেন বুকভরা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। যাকে ঘিরে এ আয়োজন তিনি বাংলাদেশের অহঙ্কার মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রকর শাহাবুদ্দিন আহমেদ। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে রং-তুলির বদলে একাত্তরে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল চিত্রকরের হাতিয়ার। দেশ স্বাধীন করে পুনরায় তিনি ফিরে গেলেন তার চিত্রকলার ভুবনে। স্বদেশের প্রতি দায়বদ্ধ এই শিল্পীর ক্যানভাসে বারবার উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, মানবতা, নারী, গতি। মঙ্গলবার ছিল তার ৬৯তম জন্মদিন। বহু বছর পর দেশের মাটিতে জন্মদিন পালন করলেন তিনি। যেখানে সুহৃদদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন। শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ আয়োজন করে শিল্পী শাহাবুদ্দিন ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
সন্ধ্যা ছয়টায় শিল্পকলা একাডেমিতে আসেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন। ঢাকের বাদ্যি, নৃত্য আর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা এ শিল্পীকে। এতসব ভালোবাসায় আপ্লুত হয়েছেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বললেন সেই কথা- ‘আমি আজ আনন্দিত, আপ্লুত, উদ্বেলিত। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যেভাবে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম; তেমনিভাবেই আমাদের এক হয়ে থাকতে হবে। তাহলে আমাদের আর কেউ রুখতে পারবে না।’ শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল শিল্পী শাহাবুদ্দিন ৬৯তম জন্মদিন উদ্যাপন জাতীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বসে জন্মদিনের মূল অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান।
আনিসুজ্জামান বলেন, শাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের, সারা বিশ্বের। ছবিসূত্রে তিনি বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেছেন। তিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও দেশ তাকে সীমায় ধরে রাখতে পারেনি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, তিনি আমাদের অহঙ্কার। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক শিল্পী নানা অবদান রেখেছেন। শাহাবুদ্দিন বিশেষত্ব হচ্ছে, তিনি একাধারে শিল্পী এবং মুক্তিযোদ্ধা। ফেরদৌসী মজমুদার বলেন, যারা ছবি আঁকেন তারা বিধাতার আশীর্বাদপুষ্ট। আঁকিবুঁকি দিয়ে তারা বুঝিয়ে দেন মনের কথাগুলো। চিত্র সমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি আকাশকে আলিঙ্গন করেছিল। অনুষ্ঠানে শিল্পী শাহাবুদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় শিল্পকলা একাডেমি, আওয়ামী লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, কসমস গ্যালারি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, চারুশিল্পী সংসদ, নারায়ণগঞ্জ আর্ট কলেজ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা জানান সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত ম্যারি আনিক বোর্ডিন, শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, মাহমুদুল হক, নাট্যজন কেরামত মওলা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে ফোন দিয়ে শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে শুভেচ্ছা জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
জন্মদিনের আয়োজনের শুরুতেই শিল্পকলা একাডেমির যন্ত্রীর পরিবেশনায় ছিল অর্কেস্ট্রা। এরপর পশ্চিমবঙ্গে নির্মাতা অজয় রায়ের শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘কালার অব ফ্রিডম’। ‘অঞ্জলি লহ মোর’ গানের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন র্যাচেল এগনেস প্যারিস প্রিয়াঙ্কা। রেজওয়ানা চৌধুরী শিল্পী শাহাবুদ্দিন ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় কমিটির এ আয়োজনের অংশ হিসেবে গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজন করা হয় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এর পাশাপাশি দেশের প্রবীণ ও নবীন ১২ জন শিল্পীরা শিল্পী শাহাবুদ্দিনের প্রতিকৃতি আঁকেন। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন আবদুল মান্নান, আহমেদ শামসুজ্জোহা, মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, দুলাল চন্দ্র গাইন, মো. কামালুদ্দিন, মইজুদ্দিন লিটন, রতেœশ্বর সূত্রধর, আকেলতুগিন তুষার, আবদুস সাত্তার, সোহাগ পারভেজ, দিদারুল হোসেন লিমন ও বিশ্বজিৎ গোস্বামী। এসব শিল্পীর চিত্রকর্ম জাতীয় নাট্যশালার লবিতে প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও প্রদর্শিত হয় দেশের ১০ জন আলোকচিত্র শিল্পীর ক্যামেরায় শাহাবুদ্দিনের আলোকচিত্র।
