চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল
টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নে তৈরি হচ্ছে পথ নকশা
বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস আজ: চার সদস্যের কমিটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে জানা যাবে দুই মাসে
Advertisement
হামিদ-উজ-জামান
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার অতীতের দুর্নাম ঘোচাতে চায় সরকার। কেননা ভুয়া এবং জনতুষ্টির মিথ্যা পরিসংখ্যান প্রকৃত চিত্র আড়াল করে এবং সঠিক পরিকল্পনা তৈরির প্রধান অন্তরায় সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে পরিসংখ্যান কাঠামো শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানের করতে গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথ নকশা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের কমিটি। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। টাস্কফোর্স সম্প্রতি পরিকল্পনা উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর খসড়া প্রতিবেদন দিয়েছিল টাস্কফোর্স।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি প্রতি পাঁচ বছর পরপর সদস্য দেশগুলো পালন করে থাকে। বাংলাদেশও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ বছর একসঙ্গে বিশ্ব পরিসংখ্যান ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৫ পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়নে আমরা আন্তরিক। ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চার সদস্যের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব, একজন অতিরিক্ত সচিব এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ। ২ মাসের মধ্যে এ কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেষ্টাতো আছে, দেখা যাক।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নাম বদলে ‘স্ট্যাটিস্টিকস বাংলাদেশ (স্ট্যাট)’ এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের (বর্তমান ডিজি) পদ পরিবর্তন করে চিফ স্ট্যাটিসটিশিয়ান করাসহ নানা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। এই স্বাধীন টাস্কফোর্সেরও প্রধান ছিলেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এর সদস্য সংখ্যা ছিল ১২ জন। প্রতিবেদনে একটি কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা হবে ৭ জন। এই কাউন্সিল পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি পরিসংখ্যান ব্যুরোতে চিফ স্টাটিশিয়ানের নিয়োগসহ ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়টি দেখবে। এছাড়া ব্যয় নিরীক্ষা তদারক করবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, তথ্যের গরমিল এবং যে কোনো তথ্য প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। এজন্য পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ সংশোধন করা হবে। সুপারিশে আরও বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী কর্মী নিয়োগের অপব্যবহার এবং দুর্বলতা দূর করতে সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষকে ষোলটি শাখায় সম্প্রসারণ এবং ৪৩৭টি নতুন উপজেলা-স্তরের পদ তৈরি করতে হবে। যাতে কার্যক্রমে স্থানীয় উপস্থিতি বৃদ্ধি পায় এবং ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিভাজন ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর করতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্যাডারভুক্ত করা হবে। এছাড়া পরিসংখ্যানবিদদের জন্য একটি একক, পেশাদার ক্যারিয়ারের পুল তৈরি করা হবে। বিবিএসের স্বায়ত্তশাসনের জন্য বাজেটে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া প্রকল্প সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জরিপগুলো রাজস্ব খাতে করতে হবে। এজন্য একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হবে একটি উপদেষ্টা কাউন্সিলও।
টাস্কফোর্স ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা কাজ করছি। দেখা যাক কতটা কী করা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন এই সরকারের সময়ে হবে কিনা সেসব বিষয়ে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।
বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস ও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের নানা আয়োজন : এবারে দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘সবার জন্যে মানসম্মত পরিসংখ্যান’। এ বিষয়ের মাধ্যমে মূলত মানসম্মত ও যথাযথ পরিসংখ্যান তৈরি ও প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দিবস পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার আয়োজন, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ এবং র্যালি আয়োজনসহ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিবিএস-এর উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
