Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

Advertisement

Icon

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণ, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা, ভুক্তভোগীদের মামলা না নেওয়া, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া, টাকার বিনিময়ে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি তিন মাস আগে এই থানায় ওসি হিসাবে এলেও ইতোমধ্যে বিশ্বস্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি এসব অনিয়ম করেছেন। এরই মধ্যে ঘুস গ্রহণের এক অভিযোগে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহবুবুর রহমান ভৈরবে ওসি হওয়ার আগে এ জেলার কটিয়াদী থানায় ৪ মাস ও নিকলীতে ৩ মাস ওসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কটিয়াদীতে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে তাকে নিকলীতে বদলি করা হয়। এরপর ২৮ জুলাই তদবির করে ওসি মাহবুবুর রহমান ভৈরব থানায় আসেন। অভিযোগ উঠেছে, ভৈরবে এসে তার বাড়ি বগুড়ায় এবং এক প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে তিনি প্রচার করেন। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলীর আস্থাভাজন বলে জানা গেছে। জানা যায়, মাহবুবুর রহমান ভৈরবে যোগদানের পর অন্যদের বদলি করিয়ে এবং নিজের বিশ্বস্তদের এই থানায় যোগদান করানোর মাধ্যমে ছয় সদস্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ওসি ছাড়া ওই বলয়ের পাঁচজন হলেন-কনস্টেবল মুন্সি আনিস, এসআই শক্তিপদ মৃধা, এসআই আসিবুর, কম্পিউটার অপারেটর কনস্টেবল মোকাররম ও ওসির বডিগার্ড কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে দীর্ঘদিন চাকরি করা এসআই শক্তিপদ মৃধাকে সবকিছু দেখভালের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন ওসি। শক্তিপদ মৃধাকে সহযোগিতার জন্য সঙ্গে যুক্ত করছেন এসআই আসিবুরকেও।

কনস্টেবল শফিকুল ইসলামকে দিয়ে ওসি মাদক কারবারিদের থেকে মাসোহারা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি তালিকা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে। ওই তালিকায় কোন কারবারি কত টাকা দেন, তাও উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি ভৈরবে ব্যাপক হারে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। তবে এ থানায় ছিনতাইয়ের মামলার পরিবর্তে নেওয়া হয় জিডি। এ ছাড়া ওসির বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সংঘর্ষের ঘটনায় আকবরনগর গ্রামের ছাবু মিয়ার ছেলে আব্দুল আলীম নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অথচ তিনি দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

৩ অক্টোবর শহরের কমলপুরে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার কাছ থেকে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঘটনার পর ওসি মাহবুবুর রহমানকে প্রত্যাহারের আদেশ হলেও তা তদবির করে ঠেকানো হয়। ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোনো এক অভিযোগে মুন্না বোম্বাই চানাচুর ফ্যাক্টরিটির মালিক রহমান মিয়ার ছেলে মুন্নাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিকালে ওসির নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওসি ছুটিতে ছিলেন। এর মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়ন মিয়া নামে এক ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর করেন মাহবুবুর রহমান। তিনি এসআই শক্তিপদ মৃধার মাধ্যমে বগুড়ায় গিয়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে স্বাক্ষর আনেন ওসির। ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য শহরের কমলপুর নিউটাউন এলাকার মাহিয়া কম্পিউটার, সিটি কম্পিউটারসহ নির্দিষ্ট ৪টি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব দোকানে সরকারি ফির বাইরে আরও ২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যার ভাগ ওসিকে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

৫ অক্টোবর বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ আরিয়ান খুলুদ নামে এক আসামিকে আটক করে ভৈরব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ওইদিন রাত ১২টার দিকে রহস্যজনক কারণে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরবিহীন একটি রিকলের ভিত্তিতে আসামিকে ছেড়ে দেন ওসি মাহবুবুর রহমান। এ ঘটনায় ঘুস গ্রহণের বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ওসি এসব পোস্ট মুছে ফেলার জন্য একাধিক ব্যক্তিকে অনুরোধ করেন।

স্থানীয়রা এসব অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদকের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। কাজ করতে গিয়ে ভুলত্রুটি হতে পারে। থানায় যোগদানের পর থেকে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। ঘটনাগুলো তদন্তে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য এএসপি মো. আবু মুছা জানান, ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা অভিযোগগুলো তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ হতে পারে। এরপর আমরা এসপির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ১০ লাশ হস্তান্তর, ধ্বংসস্তূপে মিলল আরেক কঙ্কাল

১০ লাশ হস্তান্তর, ধ্বংসস্তূপে মিলল আরেক কঙ্কাল

২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন সেন্টু হাজংয়ের স্বীকৃতি না পেলে কী আসে-যায়!

স্বীকৃতি না পেলে কী আসে-যায়!

কক্সবাজারে মাটি খুঁড়তেই বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন

কক্সবাজারে মাটি খুঁড়তেই বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম