Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

প্রসিদ্ধ বৌদ্ধতীর্থ রাজবন বিহার

Advertisement

Icon

সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ বৌদ্ধতীর্থ স্থান রাঙামাটি রাজবন বিহার। এটি বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্মীয় প্রধান আধুনিক স্থাপত্য ও দর্শনীয় নিদর্শন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান রাঙামাটি শহরের মধ্যেই। যেখানে পদার্পণ ঘটেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ দেশি-বিদেশি বহুসংখ্যক বিখ্যাত ব্যক্তির।

প্রতিবছর আয়োজিত কঠিন চীবরদান উৎসবসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে কয়েক লাখ পুণ্যার্থী, বৌদ্ধভিক্ষু এবং দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর পদার্পণ ঘটে রাজবন বিহারে। জীবদ্দশায় বৌদ্ধধর্মীয় আর্যপুরুষ সর্বজনপূজ্য শ্রাবক বুদ্ধ মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের অবস্থানের কারণে এটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে। বনভান্তে ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের মোরঘানা নামক গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহামতি গৌতম বুদ্ধের পথ অনুসরণ করে ১৯৪৯ সালে গৃহত্যাগ করেন। সিদ্ধি লাভের পর ১৯৭৭ সাল থেকে স্থায়ীভাবে রাজবন বিহারে অবস্থান নেন। সেখানে ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি মহাপ্রয়ানের মাধ্যমে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।

রাজবন বিহার রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও সেখানে নেই শহরের যান্ত্রিক কোলাহল। কাপ্তাই হ্রদ পরিবেষ্টিত আর সবুজ বনানীর ছায়ায় ঘেরা এ রাজবন বিহারে বর্তমানে কয়েকশ বৌদ্ধভিক্ষু অবস্থান করেন। সেখানে প্রতিবছর প্রবারণা বা আশ্বিনী পূর্ণিমা শেষে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। এ সময় সেখানে সমাগম ঘটে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর। এ ছাড়া রাজবন বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমাসহ প্রতিটি পূর্ণিমা তিথি এবং প্রতি শুক্রবার নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয় মহাপুণ্যানুষ্ঠানের। ভিক্ষুসংঘের সেবায় এবং নানা উপলক্ষ্যে প্রতিদিন ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিনিয়তই দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু দর্শনার্থীর আগমন ঘটে রাজবন বিহারে। এতে প্রতিদিন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এ বিহারে।

রাজবন বিহার কর্তৃপক্ষ জানান, পরমপূজ্য বনভান্তে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহার থেকে রাজবন বিহারে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেন ১৯৭৭ সালে। তবে তার আগে ১৯৭৫ সাল থেকে রাজবন বিহারে অবস্থান শুরু করেন তিনি। এর আগে ১৯৭৪ সালে চাকমা রাজপরিবারের সম্মতিক্রমে কুমার কোকনাদাক্ষ রায়ের নেতৃত্বে সমর বিকাশ চাকমা, স্নেহ কুমার চাকমা, অরুণ চাকমা, ডা. হিমাংশু বিমল দেওয়ান, ডা. অদ্যুৎ কুমার দেওয়ান, সাবেক সংসদ-সদস্য মিসেস সুদীপ্তা দেওয়ান, বঙ্কিম চন্দ্র চাকমাসহ রাঙামাটির একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি রাঙামাটি রাজবন বিহারে স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য বনভান্তেকে আমন্ত্রণ জানাতে লংগদু তিনটিলা বন বিহারে যান। তখন বনভান্তের একমাত্র শিষ্য ও একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন শ্রীমৎ নন্দপাল ভিক্ষু (বর্তমানে মহাস্থবির)। তবে ওই সময়ে বনভান্তে রাঙামাটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে পরবর্তীতে নন্দপাল ভান্তের অনুরোধে রাঙামাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় ধর্ম প্রচারের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজবন বিহারে অবস্থানের সম্মতি দেন বনভান্তে।

এদিকে বনভান্তের রাঙামাটি আগমনের শুভ খবর জেনে রাজবন বিহার নির্মাণের জন্য রাজবাড়ির পশ্চিম দিকে ২৬ একর বিস্তৃত বিশাল ভূমি দান করার সিদ্ধান্ত নেন চাকমা রাজমাতা আরতী রায়। এতে ১৯৭৪ সালেই নির্মিত হয় রাঙামাটি রাজবন বিহার। এ সময় বনভান্তের অনুমতিক্রমে নন্দপাল ভান্তের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় রাজবন বিহারের প্রথম স্থাপত্য। বর্তমানে মন্দির, ভিক্ষুসংঘের আবাসিক ভবন, স্বর্গঘরসহ রাজবন বিহারে বহুসংখ্যক শৈল ভবন ও স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিশ্বশান্তি প্যাগোডা। এসবই বনভান্তের স্বর্গীয় অনুভূতির ভিত্তিতে স্থাপিত, যা বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্মীয় প্রধান আধুনিক স্থাপত্য ও নিদর্শন। রাঙামাটি সরকারি কলেজের সামান্য পরেই টিটিসি (কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) প্রবেশমুখ দিয়ে ঢুকে টিটিসি সড়ক হয়ে যাওয়া যায় রাজবন বিহার।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৫৮ বছরেও কাটেনি লিফটম্যান সংকট শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

কুষ্টিয়ায় রাসায়নিক সারের বিকল্প কেঁচো কম্পোস্ট ঘরে ঘরে জৈব সার কারখানা

ঘরে ঘরে জৈব সার কারখানা

কুমিল্লার বুড়িচং সীমান্ত মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

রাকসুর এক বছর ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম