Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

রাকসুর এক বছর

ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে হতাশার সুর * দলীয় এজেন্ডায় ব্যস্ত ছিল রাকসু : ছাত্রদল * আগামীতে সুফল পাবেন শিক্ষার্থীরা : ভিপি-জিএস

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সাড়ে তিন দশক পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন হয়। ১২টি প্যানেলের অংশগ্রহণে হওয়া ওই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ রাকসুর ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি ও এজিএসসহ ২০টিতে জয়ী হয়। অন্যদিকে রাকসুতে জিএস পদে সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হন শিবিরের ডামি প্যানেল থেকে। শিবিরের ডামি প্যানেলের নাম ছিল ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল। আম্মারের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী সজীব বর্তমানে শিবিরের রাবি শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক। এছাড়া আম্মারও নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে শিবিরের সাথী পদ থেকে বহিষ্কার হন বলে জানা যায়।

এদিকে ২৬ অক্টোবর রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে ১২ মাসে ২৪টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিল শিবিরের প্যানেল। কৌশলী প্রচারে শিক্ষা, আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নানা বাহারি অঙ্গীকার করেছিল তারা।

তবে মেয়াদ শেষে রাকসু নিয়ে হতাশাই ফুটে উঠেছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাকসুতে জিতে ইশতেহার বাস্তবায়নের চেয়ে দলীয় এজেন্ডাতে অধিক মনোযোগী ছিল নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি রাকসু তহবিলের বিপুল অঙ্কের অর্থ তছরুপের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়েছেন তারা। তিন দশক পর রাকসুর চেহারা কেমন ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগী ছিলেন না রাকসু নেতারা। ফলে ইশতেহারের অনেক কিছুই হয়নি। যদিও সদ্য সাবেক রাকসু নেতাদের দাবি প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অতীতের যে কোনো রাকসুর চেয়ে বেশি কাজ করেছেন তারা।

শিবির প্যানেলের ইশতেহারের কী ছিল : রাকসু নির্বাচনের আগে ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’ শিরোনামে ইশতেহার প্রকাশ করে শিবিরের ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। এতে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, ছাত্রাবাসগুলোতে মানসম্মত খাবার, আবাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের ঘোষণা ছিল। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন অংশে রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা, নিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সব বৈষম্য দূর করা, জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং ১৬ জুলাইকে ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণার কথা ছিল ইশতেহারে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব প্রতিশ্রুতির কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

নুর আস শামস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, রাকসু নেতাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা এক বছর কি করলেন। শিক্ষা ও গবেষণায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলেছিল শিবির প্যানেল। তবে নিয়মিত গবেষণা বৃত্তির আওতায় মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের থিসিস প্রণোদনা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য কিছু কর্মশালার আয়োজন করে রাকসু। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এককালীন প্রণোদনাও দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রণোদনাপ্রাপ্তরা অধিকাংশই শিবিরের দলীয় বলয়ভুক্ত।

শিবির প্যানেলের ইশতেহারে ‘৭টি হ্যাঁ’ কর্মসূচিতে শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ, আবাসন সংকট নিরসন, মানসম্মত খাবার, নিরাপদ ক্যাম্পাস, তথ্যসেবা ও ডিজিটালাইজেশন, সব অংশীজনের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং সুচিকিৎসার অঙ্গীকার ছিল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি ও পরিবর্তন হয়নি। আগে যা ছিল সেভাবেই চলছে। অন্যদিকে ‘৭টি না’ কর্মসূচিতে হল দখল ও সিট-বাণিজ্য, ট্যাগিং এবং ফ্রেমিংয়ের রাজনীতি, সাইবার বুলিং ও শারীরিক নির্যাতন, মাদক ও ছিনতাই এবং সন্ত্রাস ও সহিংসতা বন্ধের কথা ইশতেহারে ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিবির আধিপত্য ধরে রাখতে কৌশলে সিট দখলে রেখেছে। কারও কিছু বলার নেই। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সন্ত্রাস দমনের কথা বলেও রাকসুর জিএস আম্মার ক্যাম্পাসে বারবার সহিংসতা চালিয়েছেন। কিন্তু রাকসু থেকে এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবাদ আসেনি। অনেক ক্ষেত্রে তারা আম্মারকেই সমর্থন দিয়েছেন।

কী বলছেন শিক্ষার্থীরা : রাবির তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ হাসান বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রাকসু কিছু দৃশ্যমান কাজ করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ বলেন, বিজয়ী প্যানেল ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা বিনতে আতিয়া বলেন, রাকসুর কাজ করার সুযোগ ছিল। শতভাগ আবাসিকতার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, সবকিছুই আগের মতোই রয়েছে।

এদিকে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদের প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর অভিযোগ করেন, শিবির প্যানেল জয়ী হওয়ার পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বদলে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিল। রাকসুর টাকায় দলীয় কর্মীদের এনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদের ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করতে পারেনি রাকসু।

রাকসু নেতারা যা বলছেন : সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, প্রতিটি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে রাবি প্রশাসনের অনুমোদন নিয়েছি। বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদের বিষয়। প্রশাসন সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। আম্মারের দাবি, আমি সফল না ব্যর্থ-তার চেয়ে বড় কথা অঙ্গীরকারগুলোর অনুমোদন নেওয়া। আগামীতে শিক্ষার্থীরা এগুলোর সুফল পাবেন। সদ্য সাবেক ভিপি শিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ইশতেহারে আমরা যেসব বিষয় বলেছিলাম, তার প্রায় সবই বাস্তবায়নের পথে আছে। রাকসু সচল থাকলে শিক্ষার্থীরা সামনে এসব সুফল পাবে আশা করি। তবে তিনি বলেন প্রশাসনের অসহযোগিতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৫৮ বছরেও কাটেনি লিফটম্যান সংকট শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

কুষ্টিয়ায় রাসায়নিক সারের বিকল্প কেঁচো কম্পোস্ট ঘরে ঘরে জৈব সার কারখানা

ঘরে ঘরে জৈব সার কারখানা

কুমিল্লার বুড়িচং সীমান্ত মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

রাকসুর এক বছর ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম