Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

কুমিল্লার বুড়িচং সীমান্ত

মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

পুলিশ বিজিবির নাকের ডগায় চলছে রাজত্ব

Advertisement

Icon

আবুল খায়ের, কুমিল্লা

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তজুড়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক। আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মিয়া ওরফে হানুর নেতৃত্বে পরিচালিত এই ‘হানু সিন্ডিকেট’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই সীমান্ত পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ভারত থেকে ইয়াবা, গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল, চোরাই মোবাইল থেকে শুরু করে শাড়ি-থ্রিপিস ও আতশবাজির অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সীমান্ত থেকে শুরু করে নগর পর্যন্ত পুলিশ বিজিবি নাকের ডগায় এ চক্রের সদস্যরা মাদক চোরাচালান নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা আত্মগোপনে থাকলেও এই সিন্ডিকেটের প্রধান হানিফ মিয়া ওরফে হানু পলাতক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করেছে। হানু বর্তমানে মাঠের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আঁতাত করে এই অবৈধ কারবার পরিচালনা করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলার পাহাড়পুর-বেলবাড়ী গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া ওরফে হানু এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা। স্থানীয়দের তথ্যমতে, হানুর এই বিশাল নেটওয়ার্কে কাজ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। চক্রের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হানুর বড় ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা মানিক মেম্বার, করুনাপুর গ্রামের জালাল মিয়া, খারেরার হান্নান মিয়া, লোহাইমুড়ি এলাকার কৃষক লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম হৃদয়, আনন্দপুর গ্রামের রফিজ মেম্বার, ছয়গ্রামের নাছির উদ্দিন, মীরপুরের মো. গাজী, ভবেরমোড়ার মোবাইল নাছির, বাড়েশ্বরের মাছ খলিল, কামরুল হাসান এবং জামাল হোসেন প্রমুখ। তাছাড়া এসব গডফাদারদের একেকজনের সঙ্গে বেশ কয়েকজন করে ক্যারিয়ার রয়েছে। হানু সিন্ডিকেটের অভিনব কায়দায় মাদক পাচারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুড়িচং সীমান্তের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বড়জ্বালা, খারেরা, শঙ্কুচাইল, বাকশীমুল, জামতলা, চড়নল, জগৎপুর, পাচোড়া, বাড়েশ্বর, লড়িবাগ, আনন্দপুর, ঘিলাতলী, নজুপুড়া, মীরপুর এবং উত্তরগ্রাম পয়েন্ট। প্রতিদিন এসব পথ দিয়ে কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালানের পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। পরে তা কুমিল্লা শহর ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করা হয়। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এই চক্রটি বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগসাজশে নিয়মিত মাসোহারা বা বখরা দিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লড়িবাগ এলাকার বাসিন্দা আব্বাস আলী বলেন, আমাদের বুড়িচং সীমান্তের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করছে হানু সিন্ডিকেট। প্রকাশ্য দিবালোকে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান দেশে প্রবেশ করছে।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, আমি এই সিন্ডিকেটের কোনো সদস্যকে চিনি না, তাদের নামও শুনিনি। যেহেতু বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তাই খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৫৮ বছরেও কাটেনি লিফটম্যান সংকট শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

কুষ্টিয়ায় রাসায়নিক সারের বিকল্প কেঁচো কম্পোস্ট ঘরে ঘরে জৈব সার কারখানা

ঘরে ঘরে জৈব সার কারখানা

কুমিল্লার বুড়িচং সীমান্ত মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আ.লীগের হানুর সিন্ডিকেট

রাকসুর এক বছর ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

ইশতেহারের ২৪ দফার কিছুই হয়নি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম