ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ
নাটোরে ইউএনও অফিসে হামলা, সাংবাদিক লাঞ্ছিত
বাউফলেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল প্রকাশের পর বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় বাগাতিপাড়ায় ইউএনওর কক্ষে হামলা এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা হয়। কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলা ও লাইভ সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ক্ষমতাসীন দলর নেতারা নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সময় বেঁধে দিলেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পটুয়াখালীর বাউফলে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাটোর ও লালপুর : বুধবার বাগাতিপাড়ায় নিয়োগের ফল বাতিলের দাবিতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে মালঞ্চি রেলগেট থেকে মিছিলটি উপজেলা পরিষদে যায়। পরে দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা দরজা-জানালায় আঘাত, দরজায় লাথি ও ফুলের টব ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লালপুরেও ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাক ও লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহ আওয়ামী লীগের কর্মীদের সুযোগ দিয়েছেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম বাদ দিয়েছেন।
ঘটনার লাইভ সম্প্রচার চলা অবস্থায় স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসানকে ধাক্কা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। লালপুরে এনটিভির প্রতিনিধি সজিবুল হৃদয় ও মানবজমিনের প্রতিনিধি রশিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। বাগাতিপাড়ায় সাংবাদিক ফজলুর রহমান, মিজানুর রহমান, খাদেমুল ইসলাম ও এনটিভির সজিবুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলা হয়। চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধিকেও কাজে বাধা দেওয়া হয়। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানা বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং টাকা নিয়ে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু ও সাবেক সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ পাপ্পু ইউএনওর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ করেন।
বাগাতিপাড়ার ইউএনও দেবাশীষ বসাক ও লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহ অভিন্ন সুরে বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আন্দোলন হতে পারে তবে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে লাঞ্ছিত বা কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। এমনটি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাউফল (পটুয়াখালী) : ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক ইউনিয়নে ছয়টি পদের মধ্যে সমাজসেবা কর্মকর্তার চার আত্মীয়ের নাম রয়েছে। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহকারী পদের প্রাথমিক তালিকার ১ নম্বরে রাবেয়া বেগম এবং অপেক্ষমাণ তালিকার ২ নম্বরে ডালিয়া পারভিন রয়েছেন। সুপারভাইজার পদের চূড়ান্ত তালিকার ৪ নম্বরে মো. অলিউল্লাহ ইসলাম এবং অপেক্ষমাণ তালিকার ৭ নম্বরে ফারজানা আক্তারের নাম রয়েছে। চারজনই কাছিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সমাজসেবা পরিদর্শক তোফাজ্জল হকের আত্মীয় বলে অভিযোগ।
বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা গ্রামের মো. মাসুম হাওলাদারের নামও চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। ২০২৪ সালের একটি মাদক মামলায় পটুয়াখালীর আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হলেও সাজা বাতিলের আপিলের শুনানি হয়নি। ফলে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রয়েছে।
সাবেক সমাজসেবা পরিদর্শক তোফাজ্জল হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, মেধা যাচাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারও আত্মীয়তা বা পরিচয় যাচাই করা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে ছিল না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
