টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড
পাঁচ জেলায় ১১ জনকে দাফন, শোকের মাতম
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ১১ জনকে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। লাশ দাফনকালে স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এলাকাবাসীও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। পরিবারগুলোয় ওঠে শোকের মাতম। এলাকাবাসী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে দাফনে হাজির হন। দাফন ঘিরে নামে শোকের ছায়া।
যশোরের মনিরামপুরে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। সাভারের আশুলিয়ায় জানাজা শেষে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তাকে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন একই পরিবারের ফারিহা কবির, তার ছোট ভাই নাফিস তেহামি এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর। তাদের সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়ে আগুনে প্রাণ হারান খালাতো বোন মেহজাবিন। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে স্বজনদের কাছে ১১টি লাশ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
মনিরামপুরে এক সারিতে চার কবর : বুধবার ভোরে বাড়িতে ফেরে নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিথর দেহ। শত শত মানুষের চোখের পানিতে জানাজা শেষে বুধবার বিকালে নাহিদের মায়ের কবরের পাশেই এক সারিতে চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। নাহিদের বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে। স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী (৩৬) এবং দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৭) ও মুনাইনা ইহানা (৩)।
সরেজমিন দেখা যায়, পৌর এলাকার মোহনপুরে নাহিদের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভিড় ছিল। সবাই শোকাহত পরিবারের সমবেদনা জানাতে এসেছেন। অনেকেই শেষবার লাশ দেখতে এসেছিলেন। পোড়া লাশ দেখে অনেকেই ভেঙে পড়েন। অবিলম্বে অবৈধ রিসোর্ট বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
নাহিদের বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার দুটি ছেলে। তার মধ্যে ছোট ছেলের পুরো পরিবার আজ মারা গেল। অনুমতিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোর কারণে আজ এই অবস্থা। সরকারের কাছে আবেদন, এসব রিসোর্ট যেন না থাকে।’
গলার লকেট দেখে মুক্তাকে শনাক্ত করেন স্বামী : রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কঙ্কাল শনাক্ত হয়। গলার লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন স্বামী। মুক্তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। বুধবার সাভারে জানাজা শেষে মঠবাড়িয়ার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নে দাদার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে টুপটুপ রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে পুলিশ কঙ্কালটি উদ্ধার করে। পরে গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন দেওয়ান ফয়সাল। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন মুক্তা।
ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিসসংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে লাশগুলো দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন ফারিহা কবির (৩৩), তার ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সি ছেলে ফাইজান নূর।
নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা কবির স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় থাকতেন। তার ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ত। ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। নাফিসের বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।
কসবা ও নাগরপুরে চিরনিদ্রায় তিনজন : ফারিহা কবিরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া তাদের খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দাফন করা হয়েছে। অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলা চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।
