Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ডাকসুর এক বছর

কাটেনি শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা

Advertisement

Icon

সাদ আদনান রনি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাটেনি শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা

Advertisement

হলের খাবার আগের মতোই আছে। চিকিৎসাকেন্দ নিয়েও অভিযোগ কাটেনি। আবাসনের জন্য এখনো অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। অথচ এক বছর আগে নির্বাচিত ডাকসুকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল-দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে ব্যাপক অগ্রগতি হবে। মেয়াদের শেষ সময়ে তাই শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন-নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা বদল আনতে পেরেছেন?

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে জয় পায়। ১২টি সম্পাদকীয় পদের ৯টিতে জয়ী হন প্যানেলটির প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগে ‘৩৬ জুলাই’-এর সঙ্গে মিল রেখে ৩৬ দফার ইশতেহার দিয়েছিল তারা। নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী খাবার, চিকিৎসা, পরিবহণ এবং নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন ছিল প্রতিশ্রুতির মধ্যে।

এক বছর পর ডাকসু নেতৃত্ব বলছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা চেষ্টা করেছেন কিন্তু অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। প্রশাসন বলছে, বাজেট, আইন ও নীতিমালা মেনে কাজ করতে হয়। আর শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, প্রশাসনের কাছে দাবি জানানোর পর সেই দাবি আদায়ে ডাকসু কী করেছে?

উদ্যোগ আছে, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও আছে : দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাকসু সভা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিক্ষার্থী সেবামূলক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ছাত্র সংসদকে আবার কার্যক্রমে ফেরানো-শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম যুগান্তরকে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, প্রত্যেকটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। খাবারের মান বৃদ্ধি ও আবাসন সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নিলেও প্রশাসনের গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ইশতেহারের বাইরেও নারী হলগুলোতে নিরাপত্তা গেট ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডাকসুর প্রাপ্য বাজেট পাওয়া যায়নি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতায় অনেক কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

আবাসন সংকট রয়ে গেছে : পূর্ণাঙ্গ আবাসন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি ছিল শিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ইশতেহারে। একজনের রুমে ২ জন, ৪ জনের রুমে ৮ জন বরাদ্দ পেয়ে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের কক্ষ ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নতুন হল নির্মাণ কিংবা আসন সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের হাতে থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল-ডাকসু এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও অগ্রগতি জানতে চাইবে। তবে এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান ডাকসু নেতৃত্ব থেকে আসেনি।

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও শামসুন্নাহার হল সংসদের জিএস সামিয়া মাসুদ মমের মূল্যায়ন, ডাকসুকে এক কথায় সফল বা ব্যর্থ বলা যায় না। প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও কয়েকজন সম্পাদক শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী কাজ করেছেন। তবে সব সম্পাদক ও সদস্যের কাজ সমানভাবে দৃশ্যমান ছিল না। মমের অভিযোগ, শুরুতে হল সংসদগুলোর সঙ্গে ডাকসুর যোগাযোগ ভালো থাকলেও পরে বিশেষ করে নারী হলগুলোর ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়। কখনো ডাকসু নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে হলে কার্যক্রম চালিয়েছে, অথচ হল সংসদের প্রতিনিধিরা সে বিষয়ে আগে জানতে পারেননি।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তি-উদ্বেগ রয়ে গেছে : অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও রোকেয়া হল সংসদের সদস্য মুনতাহা ইসমাইল এশার মতে, ডাকসুর মেয়াদে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের ওপর জোরজবরদস্তি কিংবা গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতিও চালু হয়নি। মুনতাহা বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাস থেকে ভবঘুরে উচ্ছেদ এবং রাস্তার পাশের ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের কাছে নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, রাতের ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলো, হয়রানির অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জরুরি সহায়তার বিষয়গুলোও জড়িত। এসব ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিবর্তন আশানুরূপ হয়নি বলে দাবি তার। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ডাকসু নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতাকেও দায়ী করেন তিনি।

খাবারের মানে স্থায়ী উন্নতি হয়নি : নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী খাবারের প্রতিশ্রুতি ছিল শিবিরসমর্থিত প্যানেলের ইশতেহারে। কিন্তু হল ও ক্যাম্পাসের ক্যানটিনে খাবারের দাম, পুষ্টিমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়ে গেছে। নিয়মিত তদারকি, প্রকাশ্য মূল্যতালিকা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার স্থায়ী পদ্ধতি কতটা গড়ে উঠেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ সাব্বির বলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হওয়া এবং ছাত্র সংসদের এক বছর

কার্যক্রম চালানো ইতিবাচক। তবে খাবারের মানে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে কি না, সেটি দেখতে হবে। তার মতে, এক দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি খাবারের মান উন্নয়ন ও খাদ্যে ভর্তুকির মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।

শিক্ষক মূল্যায়ন ঘিরে ডাকসু-প্রশাসন দ্বন্দ্ব : সম্প্রতি শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও পেশাদারত্ব মূল্যায়নে ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ ীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু জানায়, শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ইমেইল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে লগইন করে শুধু নিজ বিভাগের শিক্ষকদের কোর্সের কাঠামো, শিক্ষাদান পদ্ধতি, আচরণ ও পেশাদারত্বের মতো মানদণ্ডে রেটিং দিতে পারবেন। পরীক্ষামূলক চালুর দুই দিনেই প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন। তবে ডাকসুর এই উদ্যোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের দাবি, শিক্ষক মূল্যায়ন ডাকসুর এখতিয়ারে পড়ে না, এর জন্য নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। ডাকসু জানিয়েছে, শিক্ষকদের পাঠদানের মানোন্নয়ন ও কার্যকর ফিডব্যাকের জন্যই এই ব্যবস্থা। প্রশাসনের কাছে এক বছর ধরে দাবি জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ডাকসু এটি চালু করেছে। তবে এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন পর্ষদ হয়ে বিষয়টি সিন্ডিকেটে গেছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মূল্যায়ন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসনকে বাদ দিয়ে ডাকসুর আলাদা মূল্যায়ন শুরু করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

‘অসহযোগিতা’ মানতে নারাজ উপাচার্য : ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম যুগান্তরকে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, প্রতিটি বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আবাসন সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ইশতেহারের বাইরেও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা গেট ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার আয়োজন এবং ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও অসংখ্য কাজ করেছি। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে যে জিমনেসিয়াম তৈরি করা হয়েছে, প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে এখনো সেটি উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে কেন্দ্রীয় মাঠের দুই কোটি টাকার সংস্কারকাজও শুরু করা যায়নি। পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্যও প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা চেয়ার আঁকড়ে বসে থাকতে চাই না। দ্রুত তফসিল ঘোষণা করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই নেতৃত্ব দিতে পারেন। ডাকসু নেতাদের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন, নীতিমালা ও বাজেট মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একটি প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তরের প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। ডাকসুর সভাপতি হিসাবে তিনি অসহযোগিতা করেননি বলে দাবি করেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হলে হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়ার পথে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

হলে হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়ার পথে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সাদিক কায়েমকে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

সাদিক কায়েমকে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

ডাকসু নির্বাচনসহ ১৪ দাবি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরডিএসের

ডাকসু নির্বাচনসহ ১৪ দাবি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরডিএসের

ছাড়পোকা দমনে ডাকসুর ব্যয় ৩২ লাখ, যে ব্যাখ্যা দিলেন যুবায়ের

ছাড়পোকা দমনে ডাকসুর ব্যয় ৩২ লাখ, যে ব্যাখ্যা দিলেন যুবায়ের

ছারপোকা দমনেই খরচ ৩২ লাখ, হিসাব নিয়ে যা বললেন ডাকসু ভিপি

ছারপোকা দমনেই খরচ ৩২ লাখ, হিসাব নিয়ে যা বললেন ডাকসু ভিপি

বাংলাদেশে হঠাৎ কেন আলোচনায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ?

বাংলাদেশে হঠাৎ কেন আলোচনায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ?

আরও পড়ুন

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা সব হারানোর শঙ্কায় বাদ পড়া প্রার্থীরা

সব হারানোর শঙ্কায় বাদ পড়া প্রার্থীরা

জেলা জজ পদায়ন নিয়ে বিচারাঙ্গনে অসন্তোষ

জেলা জজ পদায়ন নিয়ে বিচারাঙ্গনে অসন্তোষ

যুগান্তরে খবর প্রকাশের দুই বছর পর বেরোবিতে আট কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিলের নির্দেশ

বেরোবিতে আট কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিলের নির্দেশ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সভা আজ ক্যাডারভুক্ত হতে যাচ্ছেন এলজিইডি’র প্রকৌশলীরা

ক্যাডারভুক্ত হতে যাচ্ছেন এলজিইডি’র প্রকৌশলীরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম