Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে ‘ক্ষুব্ধ মাদক সিন্ডিকেট’

আমার দুধের বাচ্চাকে কেন ভিকটিম ব্লেমিং করা হচ্ছে -ড. নাহিদা বেগম

Advertisement

আবুল খায়ের

আবুল খায়ের

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে ‘ক্ষুব্ধ মাদক সিন্ডিকেট’

Advertisement

কুমিল্লায় আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘ক্ষুব্ধ মাদক সিন্ডিকেট’। পরিবারের দাবি শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে খুন করা হয়নি। মাদকের বিরুদ্ধে অপ্রতিমের মায়ের কঠোর পদক্ষেপের কারণেই সালমানপুর এলাকার মাদকচক্র তাকে হত্যার নেপথ্যে মদদ জুগিয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর কৌশলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন হতে পারে বলে ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এদিকে অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগমের দাবি পূর্ববিরোধের কারণেই তার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার ছেলেকে একটা শ্রেণি অপবাদ দিচ্ছে।

ছেলে অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা বিভিন্ন প্রচারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা তার বাসায় দেখা করতে গেলে তিনি ক্ষোভের কথা জানান। নাহিদা বেগম বলেন, আমার দুধের শিশু, তাকে ব্লেমিং করা আমি কোনোদিন মেনে নেব না। আমার দুধের বাচ্চা, আমার ছেলে বোঝে না। তাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে বন্ধু বানিয়ে, সবার কাছে ভিকটিম বানিয়ে দিয়ে বলছে, ‘দেখো, ও আমাদেরই একজন সদস্য, ও আমাদের সঙ্গে খেলছে, ওর কারণে ও মরে গেছে’-আমি সেটা মানব না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার দুধের বাচ্চাকে কেন ভিকটিম ব্লেমিং করা হচ্ছে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে-সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী ও একমাত্র সন্তান অপ্রতিমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক মাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদকসেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮ কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় এসব মাদক নিয়ন্ত্রণে সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন ও আল আমিনের নাম উঠে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদকচক্র অপ্রতিমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এসব চিহ্নিত মাদক চক্রের ইন্ধন থাকতে পারে।

অনুসন্ধান বলছে, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসাবে ১৮ সেপ্টেম্বর ছবি তোলার প্রলোভন দিয়ে ঘাতক তুহিন তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় ঘাতক ফাহাদ-কামরুলরা তাকে হত্যার জন্য ওতপেতে থাকে। পরে শ্বাসরোধ করে এবং বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।

এদিকে পুলিশ বলছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই ঘাতকরা তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত চার ঘাতক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘাতকরাও আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে আদালতকে বলেছে। তাছাড়া পরিবারের দাবি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো ইস্যু রয়েছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

নিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, শুধু আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়নি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকার মাদক সিন্ডিকেট আমার ছেলেকে টার্গেট করেছে। তিনি বলেন, যারা নেপথ্যে থেকে হত্যাকাণ্ডের ইন্ধন জুগিয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একটা শ্রেণি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে এসব অপরাধী ছাড়া পেয়ে যেন আমার মতো অন্য বাবার বুক খালি করতে না পারে সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। এসব অপরাধীকে নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে। জেল থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতে তারা আরও খুনখারাবি করতে পারে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘাতকরা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অন্য বিষয়গুলোও আমরা খতিয়ে দেখছি। সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমরা আরও চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম