যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
র্যাগিং ইস্যুতে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের মারামারি
Advertisement
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের চার ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যরাতে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রোববার রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় আইপিই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও হাতাহাতিতে গড়ায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আল ফাহিম বলেন, রাত প্রায় একটার দিকে আমরা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ শহীদ মিনার থেকে শিক্ষার্থীদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাই। সেখানে গিয়ে কী হয়েছে জানতে চাইলে আইপিই বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম মিনহাজ জানান, এটি তাদের বিভাগের বিষয় এবং আমরা যেন সেখানে না থাকি। পরে আমরা চলে আসি। কিছুক্ষণ পর আবার চিৎকারের শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখি, প্রধান সড়কের দুই পাশে দুই দল শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। এক পাশে প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের এবং অপর পাশে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, প্রক্টর, পরিবহণ পরিচালক ও হল প্রভোস্টরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আইপিই বিভাগের প্রথম বর্ষের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাত একটার দিকে তাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ডেকে নেন। সেখানে প্রায় ১৮-২০ সিনিয়র শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে র্যাগিংয়ের মতো আচরণ করা হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয় বলে তারা জানান।
তারা বলেন, একপর্যায়ে তাদের সহপাঠী অনিককে একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন এবং তাকে রক্ষা করতে গেলে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ফুলের গাছের পাশ থেকে বাঁশ নিয়ে তাদের মারধর করেন। এর আগেও তাদের নিয়মিত র্যাগিং করা হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারারাত র্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
তবে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান মাহিন বলেন, আমরা রাতে আগে থেকেই শহীদ মিনারে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলাম। পরে প্রথম বর্ষের কয়েক শিক্ষার্থীকে এদিক দিয়ে যেতে দেখে তাদের ডেকে কথা বলি। একপর্যায়ে আমি প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে কথা বলার জন্য শহীদ মিনার থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে যাই। ফিরে এসে দেখি সেখানে মারামারি শুরু হয়েছে এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মারতে আসছেন।
বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, আমরা তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। একই বিভাগের জুনিয়রদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে দেখে বিষয়টি সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। অন্যদিকে, বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাত ১টার দিকে শহীদ মিনারে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলার খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। তাদের দাবি, সেখানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একত্র হয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। তারা হামলা ঠেকাতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এ বিষয়ে আইপিই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মো. সুমন রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা বিষয়টির সমাধান করেছি।
