বাকৃবি গবেষকের সাফল্য
প্লানটেইন ঘাস খাইয়ে ব্রয়লার মাংস উৎপাদন
Advertisement
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুরগিকে প্লানটেইন ঘাস থেকে তৈরি ‘বাউ-প্লান্টিভ’ খাইয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। গবেষকদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের ড. মোহাম্মদ আল-মামুনের নেতৃত্বে সহযোগী গবেষক হিসাবে রয়েছেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক। গবেষণায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত রয়েছেন।
প্লানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করেছেন গবেষকরা। অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসাবে প্লানটেইন ঘাস ব্যবহারের মাধ্যমে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ ও অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ মুরগির মাংস উৎপাদন প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে বাউ-প্লান্টিভ। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্লানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খামারে ব্যবহারের সম্ভাব্য একটি দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছেন গবেষকরা।
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ-এর অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্লানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, প্লানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব। ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্লানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধটি ‘পোলট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসাবে আমরা প্লানটেইন নিয়ে গবেষণা করেছি। বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয়েছে এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বেড়েছে। মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ে এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়েছে। গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউজেও প্লানটেইন চাষ করেছি। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্লানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। প্লানটেইন ঘাস বাজারজাতকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ কোম্পানি, ফিড মিল, পোলট্রি শিল্প, এনজিও ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, ব্লাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
