Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

লাল কেঁচোয় কৃষিতে বদল

বছরে ১২ মন জৈবসার উৎপাদনের স্বপ্ন সাজুর

Icon

হাবিবুর রহমান হাবীব, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

লাল কেঁচো দেখলে অনেকেরই গা ঘিন ঘিন করে, নাক সিটকান। অথচ সেই লাল কেঁচোকেই কৃষির সহায়ক শক্তিতে পরিণত করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের কৃষক সাজু মণ্ডল। রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখার চিন্তা থেকেই তিনি প্রায় চার বছর আগে শুরু করেছিলেন লাল কেঁচো দিয়ে জৈবসার উৎপাদন। শুরুটা পরীক্ষামূলক হলেও, ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করে তিনি এখন মানসম্মত ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সফল।

রাজারহাট সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া মৌজার মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা সাজু মণ্ডল (৪৫) কৃষিকাজের পাশাপাশি জৈবসার উৎপাদনের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতে আয়ের নতুন উৎস হিসাবে গড়ে তুলতে চান। জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসাবে জৈবসার ব্যবহারের বিষয়টি শুরুতে তার কাছে নতুন ছিল। কীভাবে কেঁচো পালন করতে হয়, কীভাবে জৈব উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে সার তৈরি করতে হয়-এসব বিষয়ে কাজ করতে করতেই তিনি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। একপর্যায়ে নিজের উৎপাদিত সার কৃষিজমিতে ব্যবহার শুরু করেন। এতে তিনি মাটির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদনে ইতিবাচক ফল পান।

সাজু মণ্ডল বলেন, ‘লাল কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত জৈবসার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের উৎপাদন ভালো রাখতে সহায়তা করে। বর্তমানে আমি উৎপাদিত সার নিজের কৃষিজমিতে ব্যবহার করছি। এর সুফলও পেয়েছি।’

এখন তার লক্ষ্য উৎপাদন আরও বাড়ানো। চলতি বছরে প্রায় ১২ মন জৈবসার উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তবে শুধু নিজের জমিতে ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না সাজু। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে জৈবসার উৎপাদন করে বাজারজাত করতে চান।

এতে একদিকে কৃষকদের জৈবসারের ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে তার পরিবারের আয়ও বাড়বে। সাজুর এই উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় অন্য কৃষকরাও। কৃষক আলামিন মিয়া বলেন, ‘আমি এই সার ব্যবহার করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে আমিও এই সার উৎপাদন করে নিজের জমিতে ব্যবহার করতে চাই।’

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’ তিনি জানান, ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কেঁচো জীবন্ত প্রাণী হওয়ায় তাদের বেঁচে থাকা, বংশবৃদ্ধি ও খাদ্য গ্রহণের গতি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপর নির্ভরশীল। তাই সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সাজু মণ্ডলের উদ্যোগের বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

তিন সরকারি মেডিকেলে গবেষণা দশজনে সাত প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক অবসাদে

দশজনে সাত প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক অবসাদে

লাল কেঁচোয় কৃষিতে বদল

লাল কেঁচোয় কৃষিতে বদল

হাত-পা বাঁধা প্রবাসীর লাশ ঝুলছিল গাছে

হাত-পা বাঁধা প্রবাসীর লাশ ঝুলছিল গাছে

বরিশালে এলপি গ্যাসের জন্য হাহাকার

বরিশালে এলপি গ্যাসের জন্য হাহাকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম