ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে’ হয়ে গেছে
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা মহিলার টিপসই নিয়ে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী নারী তার গ্রামের মসজিদ কমিটির কাছে বিচার দিয়েছেন।
উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের মোছাম্মৎ আছিয়া বেগমের (৪৩) স্বামী মারা যায় এক যুগ আগে। তার ঘরে পাঁচ সন্তান। তিন ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন। নাতি রয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর। বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব এলেও বিয়ে করেনি আছিয়া। দ্বিতীয় ছেলে আসাদুলকে প্রায় ৪ বছর আগে বিয়ে করানোর সময় প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছকে (৬২) উকিল শ্বশুর দেওয়া হয়। আত্মীয় সুবাধে প্রায়ই বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন তিনি। আব্দুল কদ্দুছ মাঝে মধ্যে স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তারের মাধ্যমে আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন।
মাস দেড়েক আগে আব্দুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে তার দোকানে নিয়ে আছিয়ার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট ছবি নেয়। কয়েকদিন পর খাতায় দুটি টিপসই নেয়। সম্প্রতি আছিয়া বেগম জানতে পারেন তার বিয়ে হয়ে গেছে। আবদুল কদ্দুছ একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে গ্রামে প্রচার করেন যে আছিয়াকে সে বিয়ে করেছে। পরে আছিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার দেন। সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামে ওই নারীর বাড়িতে সালিশ হয়। সালিশে নারীর মুখ থেকে বিস্তারিত শোনেন উপস্থিত লোকজন। অভিযুক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় বুধবার সালিশের পরবর্তী তারিখ দেওয়া হয়। আব্দুস ছাত্তারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। এরপর আর তিনি ফোন ধরেননি। অভিযুক্ত কদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী নারী আছিয়া বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে একদিন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেক দিন ফোন দিয়ে ছাত্তারের দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। এখন গ্রামে বলে বেড়াচ্ছে আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনি রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছি না। সমাজে ও মসজিদে বিচার দিয়েছি। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তার নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে হয়তো বা কেউ এই জালিয়াতি করেছেন। ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান, কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
