খুলনায় দখল বাণিজ্য
খাসজমি দখল করে মার্কেট প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ
বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৩৫ জন মিলে এ মার্কেট নির্মাণ করছিল
Advertisement
আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনার রূপসা উপজেলার পালেরবাজার এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে ৩৫টি দোকানঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রথম দিকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বিরত রাখার চেষ্টা হলেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যায় তারা। একপর্যায়ে প্রশাসন কঠোর হলে কাজ সাময়িক বন্ধ করা হয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৩৫ জন মিলে একতলা আধাপাকা ও টিনশেড ঘরগুলো নির্মাণ করছে। দুই-একজন আওয়ামী লীগ নেতাকেও ভাগ দেওয়া হয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন চেয়ে নথি পাঠিয়েছেন ইউএনও। তবে নির্মাণকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করতে নানা পর্যায় থেকে প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দখলবাজদের মধ্যে পালেরবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা তাঁতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আজম লোটাস, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বকুল, একই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইজারাদার, খুলনা জেলা ইটভাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নাসির ফকির ও সাধারণ সম্পাদক বাবু শেখ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী শেখ আবুল কালাম এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিরু মোড়ল রয়েছেন বলে জানা গেছে। কথা হয় শ্রীফলতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেটির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, রূপসা উপজেলার ৩৪ নম্বর হোসেনপুর মৌজায় সরকারি মালিকানাধীন জমিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী লোটাস গং কর্তৃক অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ‘মিস কেস নম্বর ২/২০২৬ (রূপসা) উচ্ছেদ নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থাপনা নির্মাণের সময় উপজেলা প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জমির দখল সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
এই প্রতিবেদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এটি আসলে পালের বাজার উপজেলার একটি বড় মোকাম। প্রধান সড়কের দুপাশে প্রায় দুইশ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়কের পাশে আঠারোবাঁকি নদী। এই নদীর তীরেই সরকারি জমি দখলে নিয়ে প্রায় অর্ধশত দোকান তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও জায়গা দখল করে আওয়ামী লীগ নেতারা পাকা ও আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা একযোগে প্রায় ৩৫টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অধিকাংশ দোকানঘর নির্মাণের কাজ শেষের পথে। প্রথম দিকে প্রশাসন কাজ বন্ধ করার জন্য মৌখিক নির্দেশ দিলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। প্রশাসনের কথায় কর্ণপাত না করে বিএনপি নেতা লোটাস গংরা মার্কেট তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। গত মাসে সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। একই সঙ্গে উক্ত দোকানঘরগুলো অপসারণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিকতা।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, সরেজমিন পদির্শন ও কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে উক্ত জমিগুলো সরকারি মালিকানাধীন। সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল কতিপয় ব্যক্তি। আমরা জানতে পেরে তা বন্ধ করে দিয়েছি। একই সঙ্গে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানোর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। অনুমতি পেলে উচ্ছেদ করা হবে।
তবে দখলের বিষয়টি এড়িয়ে জেলা তাঁতি দলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আজম লোটাস বলেন, পুরো মার্কেটের অর্ধেক দোকান খালের জমিতে নির্মিত। এভাবেই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। প্রশাসন ইজারা দিলে আর সেটি অবৈধ হয় না। সেটাও করছে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এসব রটাচ্ছে।
