Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

সাগরকন্যা কুয়াকাটা

অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নেই তিন শতাধিক হোটেলে

Advertisement

Icon

নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নেই তিন শতাধিক হোটেলে

Advertisement

কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি হোটেলে উঠছেন পর্যটকরা। কক্ষের ভাড়া, সুযোগ-সুবিধা ও সৈকতের দূরত্ব বিবেচনা করে হোটেল বেছে নিচ্ছেন তারা। কিন্তু যে হোটেলে রাত কাটাচ্ছেন, সেখানে আগুন লাগলে কীভাবে বের হবেন, বাঁচার উপায় কী, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র কতটা কার্যকর-এসব বিষয় অনেকেরই অজানা।

কুয়াকাটায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পার্ক ছাড়া অন্য কোনো আবাসিক হোটেলের অনাপত্তি ছাড়পত্র নেই বলে জানালেন স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সাব্বির আহমেদ। অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে হোটেলগুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর কুয়াকাটার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বেশির ভাগ হোটেলের নেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি : অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ভবনের ধরন ও উচ্চতা অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের পাশাপাশি যা থাকা দরকার, কুয়াকাটায় এসবের কিছুই নেই। হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী স্বীকার করেন, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের পাশাপাশি বাধামুক্ত সিঁড়ি ও বহির্গমন পথ, আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগের ঘাটতি রয়েছে।

কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কানসাই ইন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নূরুল আমীন বলেন, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিয়মিত পরীক্ষা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, বেশির ভাগ আবাসিক হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের বাইরে। অগ্নিনিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা বেশি জরুরি।

হোটেলে নোটিশ দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস : কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, আগুন লাগলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও নির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করি। তবে হোটেলগুলোর তদারকির দায়িত্ব আমাদের স্টেশনের নয়। এ কাজ পটুয়াখালী থেকে করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সাব্বির আহমেদ বলেন, শুধু প্রেসিডেন্ট পার্ক ছাড়া অন্য কোনো আবাসিক হোটেলের অনাপত্তি ছাড়পত্র নেই। কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান।

নিরাপত্তা নেই পর্যটকের : মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছেন পর্যটক ও ব্যবসায়ী রাকিব হাসান। রোববার দুপুরে আবাসিক হোটেল কানসাইনে তার সঙ্গে কথা হয়। রাকিব বলেন, ‘হোটেলে ওঠার সময় কক্ষের ভাড়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুযোগ-সুবিধা দেখা হয়। কিন্তু আগুন লাগলে বের হওয়ার পথ কোথায়, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে কি না, এসব সাধারণত খেয়াল করা হয় না। হোটেল কর্তৃপক্ষের উচিত এসব বিষয় আমাদের জানানো।’

পর্যটকদের এমন অভিজ্ঞতার বিপরীতে হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর রয়েছে, এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি খোদ ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘অনুমোদনবিহীন ভবন নির্মাণে আমরা বাধা দিচ্ছি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। তবে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে সরকারি কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি।’

পটুয়াখালী জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা হোটেলগুলোকে সতর্ক করছি ও নোটিশ দিচ্ছি। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আটকা পড়েছেন ১৮ হাজারের বেশি যাত্রী টিকিট আছে ফ্লাইট নেই

টিকিট আছে ফ্লাইট নেই

নয় বছর পর কার্নিভ্যাল ছয় লাখ পর্যটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা

ছয় লাখ পর্যটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা

সাগরকন্যা কুয়াকাটা অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নেই তিন শতাধিক হোটেলে

অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নেই তিন শতাধিক হোটেলে

সুন্দরবনে ইকো-কটেক রিসোর্ট নেই কোনো ছাড়পত্র, চলছে ১০ বছর ধরে

নেই কোনো ছাড়পত্র, চলছে ১০ বছর ধরে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম