সুন্দরবনে ইকো-কটেক রিসোর্ট
নেই কোনো ছাড়পত্র, চলছে ১০ বছর ধরে
Advertisement
শওকত আলী বাবু, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুন্দরবনের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়ায় (ইসিএ) অবৈধভাবে ১০ বছর ধরে চলছে ‘বাদাবন ইকো-কটেক’ নামে একটি রিসোর্ট। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদমারী গ্রামের এই রিসোর্টের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন। কাঠ, বাঁশ ও গোলপাতা দিয়ে তৈরি রিসোর্টের তিনটি ঘরে ৩৫-৪০ জনের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এমন দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও এতে নেই ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণের ছাত্রপত্রও।
দেশি-বিদেশি ইকো-ট্যুরিস্ট এখানে অবস্থান করলেও নেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা। এ ছাড়া এর যেখানে সেখানে ঝুলে আছে বৈদ্যুতিক তার। এসব কারণে যে কোনোভাবে আগুন লাগলে এটি মুহূর্তেই হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুকূপ।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো রিসোর্টটি বন্ধে ১০ বছরেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার বন্ধের নোটিশ দিয়েই দায়িত্ব সেরেছে।
বাগেরহাট পরিবেশ অধদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশ এলেই অনুমোদনহীন বাদাবন ইকো-কটেকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক মো. আজিজুর রহমান জানান, রিসোর্টটি সুন্দরবনের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে ইসিএ এলাকায়। কাঠ, বাঁশ ও গোলপাতার মতো দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও এর ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণের কোনো ছাড়পত্র নেই।
রির্সোটটির মালিক মো. লিটন জমাদ্দার বলেন, আমার রিসোর্টে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই ঠিকই। তবে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে এটি চালাচ্ছি। চলতি বছর তিন বছরের রাজস্ব জমা দিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে তা নবায়নও করেছি। আর ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণের ছাড়পত্রের জন্যও কাগজপত্র জমা দিয়েছি।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ইসিএভুক্ত এলাকায় সম্পূর্ণ দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টটি পর্যটকদের জন্য কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
