জ্বালানি সংকট
খুলনার অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ
Advertisement
আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি সংকটে খুলনাঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং তীব্র হচ্ছে। নিয়মিত বিরতিতে লোডশেডিং দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে শহর ও গ্রাম। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের লোড ডেসপাস সেন্টারের তথ্যমতে, খুলনা অঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার ৭শ মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। যেমন সোমবার এ অঞ্চলের ভেড়ামারা জিটিটিপি, খুলনা ২২৫ সিসিপিপি, রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট, মোংলা ওরিয়ন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ ছিল। এর আগের দিন রোববার বন্ধ ছিল ৫টি কেন্দ্র। শনিবার বন্ধ ছিল ৬টি। শুক্রবার বন্ধ ছিল ৭টি কেন্দ্র। গত ১৫ দিনের উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গড়ে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রাখে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের প্রধান কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে-তেল ও গ্যাস সংকট।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার থেকে চাহিদা না দেওয়ায় প্রায় সময়ই আমাদের উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আমাদের কোনো জ্বালানি নেই।
এদিকে সরবরাহ ঘাটতির কারণে খুলনাঞ্চলের ২১ জেলার বেশির ভাগ এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিক্রয় ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) তথ্যমতে, খুলনা, বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় দিনে চাহিদা থাকে গড়ে সাড়ে ৬শ মেগাওয়াট। সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং বাড়ছে। রোববার সন্ধ্যার পর প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৯৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ৫৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১১৬ মেগাওয়াট। এ সময় খুলনা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫২৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ করা হয় ৪৪৭ মেগাওয়াট, ঘাটতি ছিল ৮১ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩১ মেগাওয়াট। এ জোনে ঘাটতি ছিল ৩৫ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় জেলাভিত্তিক ঘাটতির তালিকায় শীর্ষে ছিল খুলনা। জেলায় ঘাটতি ছিল ৩০ মেগাওয়াট। গত বুধবার দুপুর ১টার পর ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৬১ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ৫৬০ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং ছিল ১০১ মেগাওয়াট।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তেল বিদেশনির্ভর। এতে ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রচুর তেল খরচ হয়। গ্যাসের জোগানও কম। ফলে সংকট বাড়বেই। এই সংকট কমাতে সোলার সিস্টেমের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।
সরকার ব্যয় কমাতে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে মন্তব্য করে প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় ৯ টাকা। এ বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনম ওবায়দুল্লাহ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না হলে ঘাটতি থাকবে। লোডশেডিং হওয়াটা স্বাভাবিক। নানা সংকটে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। তবে এটা ঠিক হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
