বঞ্চিত রংপুর পেয়েছে গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর সফরে উজ্জীবিত বিএনপি
Advertisement
মাহবুব রহমান, রংপুর
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রংপুর সফর করায় দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। দলের ভেতরে ও বাইরে যে বিভাজনের রাজনীতি রংপুরে বিদ্যমান, তা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সুধরে নেয়ার প্রয়োজন বলে নেতাকর্মীরা অনুভব করতে শুরু করেছেন। বিগত সংসদ নির্বাচনের রংপুরের ছয়টি আসনই চলে যায় জামায়াত ও এনসিপির দখলে। এ নিয়ে নানা বিকর্ত থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতাকর্মীদের মাঝে নেতৃত্বের বিভাজনের বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রংপুরে বিএনপির জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা কমিটিতে যে উপদলীয় কোন্দল বা বিভাজন বিদ্যমান, তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের স্থানীয় পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃত্বের নানা উপদলীয় কোন্দলকে ভালো চোখে দেখছেন না। এতদিন রংপুরের উন্নয়নে সরকারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল নেতিবাচক। এখন সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দ, জেলার উন্নয়নে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ রংপুরের পূজামণ্ডপ দেখতে আসা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, সনাতন ধর্মের পিছিয়ে পড়া ছাত্রীদের আবাসন নির্মাণে আর্থিক বরাদ্দ। এ সবই রংপুরে বিএনপির রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের কাছে একটি নতুন আশাজাগানিয়া বার্তা বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরাসহ সুধিজন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী খুবই সাদামাটাভাবে বাসযোগে রংপুরে এসেছেন, যা এর আগে কখনো কোনো সরকার আমলে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায়নি। পথে পথে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, উপহার প্রদানসহ মানুষের সঙ্গে একাকার হওয়ার যে প্রবণতা তাও নজর কেড়েছে আমজনতার।
এ অবস্থায় রংপুর বিএনপির নেতৃত্ব রংপুরের রাজনীতি নিয়ে নতুন মূল্যায়ণ শুরু করেছেন। এত দিন রংপুর নিয়ে যে নেতিবাচক ভাবনা ছিল তা থেকে কিছুটা হতাশাও ছিল। সে সব নিয়ে এখন নতুন করে আশাজাগানিয়ার সুর বাজতে শুরু করেছে দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে। এমন মন্তব্য করেছেন রংপুরের হারাগাছের বিএনপিকর্মী সাইফুল হক, রংপুর মহানগরীর গুপ্তপাড়ার মফিদুলসহ একাধিক তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, দলের চেয়ারম্যানের রংপুরের এই আকস্মিক সফর সনাতনধর্মীদের মাঝে শুধু আশাজাগানিয়ার সুর নয়। এর মাধ্যমে রংপুরের মানুষের কাছে শুধু নয়, দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একটি নতুন বার্তা দিয়ে গেলেন। সেটি হলো সব ভেদাভেদ ভুলে এখন দল গোছানোর সময় জরুরি। মানুষের সুখে-দুঃখে একাকার হয়ে দলের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া।
সাবেক সংসদ-সদস্য ও জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, বড় বড় দলের মাঝে অনেক নেতাকর্মীর সংমিশ্রণ হয়। তাই নানা অসন্তোষ থাকতে পারে। এটিই স্বাভাবিক। আমরা দলের চেয়ারম্যানের রংপুর সফরের পরে রংপুর নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মূল্যায়ণ শুরু করেছি। এতদিন রংপুর ছিল অবহেলিত উন্নয়নবঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রী রংপুরের প্রতি নজরদারি শুরু করেছেন। আমরা তাই চেয়ারম্যানের সেই কাজের সারথী হতে বিভেদ ভুল কাজ করে যাব।
দলের মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর নিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের প্রতি অনেক বেশি শুরুত্ব দিয়ে নজরদারি করছেন। অতীতে কোনো সরকারপ্রধান তা করেনি। তাই রংপুরের রাজনীতিতে সবসময় একটি বিপরীত স্রোতের রাজনীতি বিদ্যমান ছিল। দলের চেয়ারম্যান সেই বার্তা বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয়। তাই তিনি রংপুরকে সারা দেশের সাথে সমউন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে চাইছেন। তাই এখন আমাদের সময় হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে রংপুরের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারার রাজনীতি উপহার দেয়া। এ জন্য দলের ভেতর যে সব অসন্তোষ বা বিরোধ আছে, তা এখন মিটিয়ে নিয়ে আমরা আগামী কাজ করতে চাই। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভালো ফলাফল উপহার দিতে চাই। দলের নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত হয়েছে।
মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী ডনও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরের ফলে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে এবং দলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উন্নয়নে বেশি নজর দিয়েছেন, তাই আমাদের এখন নৈতিক দায়িত্ব রংপুরে বিএনপির শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি দাঁড় করানো।
