চট্টগ্রামে লাগামহীন ভোগ্যপণ্যের দাম
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। প্রায় বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গোয়েন্দা নজরদারি করেও পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না প্রশাসন। নিত্যপণ্যের মধ্যে ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ বেশির ভাগ পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত সংস্থা ও কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিনই তারা অভিযান পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও কাজ হচ্ছে না। সরবরাহ সংকট ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুদ্ধ ও সংঘাতে অজুহাতে বাড়াচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোজ্যতেল কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকার কারণে পাইকারি বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। শুক্রবার প্রতি মন (৩৭.৩২ কেজি) সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকায়। এ দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭ হাজার ৪০০ টাকা। পাম অয়েলের মন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৫৮০ টাকা। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৬ হাজার ৫০০ টাকার কম।
এছাড়া মৌসুমের ওপরও নির্ভর করে খোলা পণ্যের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলে দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু দেশের বাজারে এর প্রভাব নেই। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা হলে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকার বেশি দামে। আবার চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে ভোজ্যতেলের দাম আরও বেশি। নগরীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাইকারি খুচরা বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। পাইকারি বাজারে ভালোমানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৭ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। যা তিন দিন আগেও ছিল ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা। আর একটু নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে ৪৫ টাকা দরে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বেড়েছে চালের দাম। প্রতি কেজি চালের দামে ২-৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাক্তাই চালপট্টিতে পাইকারি বাজারে মোটা সিদ্ধ চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। একইভাবে প্রতি বস্তায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে মানভেদে মিনিকেট আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। দিনাজপুরী পাইজাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। যা আগে ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকার কাছাকাছি। কাটারিভোগ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকার বেশি দামে।
নগরীর কাঁচাবাজারে হঠাৎ বেড়েছে আদা, রসুন ও লেবুর দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চীনা আদা কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া এই আদা শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। একই সঙ্গে চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং দেশি রসুনের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী কামরুল হুদা জানান, প্যাকেটজাত আটার দামও বেড়েছে। বর্তমানে এ আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও এসব আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। অর্থাৎ ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে ময়দার দামও। বর্তমানে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চট্টগ্রামে মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়ছে মাছের দাম। ফলে পাঙ্গাশ মাছ কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, তেলাপিয়া মাঝারি ও বড় সাইজের কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামেও তেমন স্বস্তি নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম কিছুটা স্থিতিশীল। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। প্রতি কেজি সিমের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। এছাড়া জাতভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা, ঝিঙা ও কচুমুখির দাম কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
