রাজশাহীতে আইনি পদক্ষেপের নজির কম
নগরে নকশাবহির্ভূত ভবনের ছড়াছড়ি
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকার বাসিন্দা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন আরডিএতে। এর অথরাইজড শাখা থেকে ভবন মালিককে পাঠানো হচ্ছে নোটিশ। শুনানির পর অবৈধ নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে অথরাইজড শাখা চিঠি পাঠাচ্ছেন ভবন মালিকদের। কিন্তু বাস্তবে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না নগর উন্নয়নের বিধিবদ্ধ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। শুধু চিঠি পাঠিয়েই তারা অবৈধ ইমারত নির্মাণ বন্ধে দায় সারছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর রানীনগর আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. আজাহার আলী ২০০৮ সালে আরডিএর অথরাইজড শাখা থেকে তিন তলা ভবনের নকশার অনুমোদন নেন। পরে তিনি তিনতলা স্থলে চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়া নকশা অনুযায়ী ভবনে বিভিন্ন দিকে যে পরিমাণ জায়গা খালি রাখার কথা সেটাও তিনি রাখেননি। এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দারা আরডিএতে অভিযোগ করলে ভবন মালিককে নোটিশ করেন অথরাইজড শাখা। শুনানি শেষে তৎকালীন অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ভবনের বর্ধিত তলা ও অংশ ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিশ দেন। পাশাপাশি বোয়ালিয়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নেসকোকে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। কিন্তু গত এক বছরেও অথরাইজড শাখা থেকে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাখা হয়নি কোনো খোঁজখবরও। ভবন নির্মাণ করে মালিক দিব্যি সেই ভবনে নিজে বসবাস করছেন এবং ভাড়া দিয়েছেন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে এমন ঘটনা একটি দুটি নয়। অসংখ্য ক্ষেত্রেই আরডিএর নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয়। একজন বাসিন্দা বলেন, আরডিএ একটি নখদন্তহীন বাঘ। তাদের হাতে আইন আছে। ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও তারা শুধু নোটিশ জারি করেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ১৩তলা পপুলার ডায়াগনস্টিক ভবন নির্মাণকালে আশেপাশের কয়েকটি ভবনে ফাটল ধরে। ধসে পড়ে একটি আবাসিক হোটেলও। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ পপুলার ভবনের নকশা বাতিল করে আরডিএ। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুপলার কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের শর্তে নকশা পুনর্বহালের আবেদন করে। ফলে আরডিএর অথরাইজড শাখা পপুলারের নকশা পুনর্বহাল করে। ২০২২ সালে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে সেটি চালু হলেও আশপাশের ভবন মালিকরা এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। এই বিষয়ে আরডিএ থেকে আর কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ২০০৮ সালে রাজশাহী অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণের অভিযোগে ৫৮ জন ভবন মালিককে নোটিশ দিয়েছিল আরডিএ। কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫৭টি। প্রতি মাসেই অবৈধ নির্মাণসংক্রান্ত অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে আরডিএতে। নোটিশ জারি ও শুনানি করে ভবন মালিককে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মামলা বা অবৈধ কাঠামো অপসারণ করার উদ্যোগ তেমন দেখা যায় না। মঙ্গলবার নগরীর তেরখাদিয়ার একটি বহুতলের ছাদে অবৈধভাবে নির্মিত সুইমিংপুল অপসারণে গিয়ে ভবন মালিকের বাধার মুখে পড়ে আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, অবৈধ স্থাপনা ও ইমারত আইন লঙ্ঘন করে নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন থাকলেও নানান সীমাবদ্ধতার কারণে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সম্প্রতি নগরীর সিরোইল এলাকায় অবস্থিত আরডিএর মালিকানাধীন গোধূলি মার্কেটে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে একজন দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে সংস্থার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। অবৈধ নির্মাণ ও স্থাপনা অপসারণে কার্যকর আইনি ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণে গড়িমসি ও অপারগতার বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড
অফিসার রাহেনুল ইসলাম জানান, ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করে বাড়ি ভবন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পেলে আমরা ভবন মালিককে নোটিশ করি। অন্য পদক্ষেপও নেওয়া হয়। জনবল সংকটের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু সদিচ্ছার অভাব বা অপারগতার কোনো বিষয় এখানে নেই।
