Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

আনারকলি চাষে ভাগ্য বদলের আশা

Advertisement

Icon

আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি চাষ শুরু করেছেন। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তার এ উদ্যোগে এখন গাছে গাছে ফল ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ফল বিক্রির বেশ সাড়া পাচ্ছেন তিনি। এভাবে ভবিষ্যতে তিনি বড় পরিসরে চাষাবাদ ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

ভূঞাপুর পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে সোহেল আকন্দ বিদেশে যাওয়ার আশায় এবং চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। এরপর তিনি নিজে কিছু করার প্রত্যয়ে কৃষি কাজের উদ্যোগ নেন। প্রায় ছয় মাস আগে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক চাষির কাছ থেকে তিনি মাত্র ৮০০ টাকায় কয়েকটি প্যাশন ফ্রুটের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এর চাষ শুরু করেন। শুরুতে গাছে ফুল এলেও ঝরে পড়ত। পরে বিভিন্ন জনের পরামর্শে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। বর্তমানে গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরেছে।

সোহেল জানান, আকারভেদে প্রতিটি ফল ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এ ছাড়া প্রতি কেজি ফল বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। এক কেজিতে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি ফল পাওয়া যায়। ফেসবুকে ফলের চাহিদা তৈরি হওয়ায় পরিচিতজনসহ বিভিন্ন ক্রেতা তার কাছ থেকে ফল কিনছেন। বাড়ির উঠানে গড়ে তুলেছেন একটি ছোট নার্সারি, যেখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলজ ও বনজ গাছের চারা।

সোহেল বলেন, প্রথমে কক্সবাজারে গিয়ে প্যাশন ফ্রুটের স্বাদ নিই। ফলটি ভালো লাগায় নিজের এলাকায় চাষ করার ইচ্ছা জাগে। ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করতে আমাকে অনেক ঘুরতে হয়েছে। পরে বিশ্বস্ত একটি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। শুরুতে এর চাষাবাদ সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। ফুল ঝরে পড়াসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার উৎপাদিত ফলের জন্য ফেসবুকে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। পরিচিত বন্ধু-বান্ধবেরাও ফল চাইছেন। বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভিড় করছে এই আনারকলি ফলের বাগান দেখতে। অনেকে চারাগাছ নিতেও ইচ্ছুক। আমাদের এলাকায় এই ফল নতুন হলেও এর চাহিদা রয়েছে। এখন অল্প পরিসরে চাষ করছি। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে প্যাশন ফ্রুট চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আমিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে এই ফল তেমন দেখা যেত না। সোহেলের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। সে শুধু ফল বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চারা উৎপাদন করতেও উদ্যোগ নেয়। তাতে এলাকার অন্য তরুণেরাও এ চাষে আগ্রহী হবে। কৃষির মাধ্যমে বেকার তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।’ ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিন আনারকলির বাগান পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সোহেলকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ফলের বাগান সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজশাহীতে আইনি পদক্ষেপের নজির কম নগরে নকশাবহির্ভূত ভবনের ছড়াছড়ি

নগরে নকশাবহির্ভূত ভবনের ছড়াছড়ি

আনারকলি চাষে ভাগ্য বদলের আশা

আনারকলি চাষে ভাগ্য বদলের আশা

চট্টগ্রামে লাগামহীন ভোগ্যপণ্যের দাম

চট্টগ্রামে লাগামহীন ভোগ্যপণ্যের দাম

বরিশাল শিশু হাসপাতাল নির্মাণের নয় বছর পরও তালাবদ্ধ

নির্মাণের নয় বছর পরও তালাবদ্ধ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম