Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

বান্দরবানে সার ডিলার নিয়োগ

পার্বত্য মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্য

Advertisement

Icon

বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় চৌত্রিশটি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় নতুন সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকার ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একজন একান্ত সহকারী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপির ঘনিষ্ঠ একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এই ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। পার্বত্য মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে একেকজন সার ডিলার আবেদনকারীর কাছ থেকে চক্রটি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুস নিয়েছে। এছাড়া মনিটরিং কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে বাদপড়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বিবেচনায় চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করেছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সার সংকট সামাল দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সে হিসাবে বান্দরবানে ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ছত্রিশজন ডিলার নিয়োগের আবেদন নেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়ন এবং থানচি উপজেলার তীন্দু ইউনিয়ন ও রেমাক্রী ইউনিয়ন তিনটিতে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। কোনো কোনো ইউনিয়নে একাধিক ও কয়েকটিতে দুয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই করে তেত্রিশটি ডিলারের জন্য ৯৫টি আগ্রহী সার ডিলারের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে থেকে দুটি পৌরসভায় ২ জন এবং একত্রিশটি ইউনিয়নে ৩১ জন ডিলারকে প্রাথমিকভাবে ৩ মাসের জন্য অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। এই নিয়োগ ঘিরেই চলছে ঘুস ও তদবির বাণিজ্য।

সরকারি নিয়মে ডিলারশিপের আবেদনের জন্য ফেরতযোগ্য জামানত ১০ হাজার টাকা, কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের দিতে হচ্ছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকায় নামের তালিকায় এক বা দুই নম্বরে রাখার জন্য ক্ষেত্র বিশেষে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিন্ডিকেট হোতারা ঘুস নিয়েছেন দাবি ভুক্তভোগীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সারের পুরাতন ডিলার অভিযোগ করে বলেন, চক্রটি মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কারও কারও কাছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস নিয়েছেন। কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীও ত্রুটিপূর্ণ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের আবেদনও বৈধ হিসাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে অর্থের বিনিময়ে। পৌরসভার স্থানীয় একজন আবেদকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের একজন সদস্য ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে যাচাই-বাছাইয়ে বাদপড়া সদর পৌরসভার ডিলারের আবেদনকারী একজনের নাম প্রভাব কাটিয়ে পুনরায় তালিকায় দুই নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই আবেদকারীকে অবৈধভাবে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুরাতন ডিলার হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি এক নম্বরে তালিকাভুক্ত থাকার পরও আমাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে তালিকার দুই নম্বর আবেদনকারীকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য ও জেলা কৃষকদলের সভাপতি ইয়াছিনুল হক রিপন বলেন, ঘুস বাণিজ্য বা তদবিরের সঙ্গে কৃষকদলের কারোর জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে ১০ সদস্যের মনিটরিং কমিটি কাজগুলো করেছেন। তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরও অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা দক্ষতা দেখাতে না পারলে ডিলারশিপ বাতিল করা যাবে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এসএম হাসান বলেন, কিছু কিছু অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো নিয়ে জেলা মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। ঘুস বাণিজ্য বা প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি উপজেলা মনিটরিং কমিটি বলতে পারবে। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আসেনি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দেড় মাসে ১০ চুরি শাহ আমানতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

শাহ আমানতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

পাখির আপন ঠিকানা কুমিল্লার হোসেনপুর

পাখির আপন ঠিকানা কুমিল্লার হোসেনপুর

থমকে আছে সাজেক সংকটে খাগড়াছড়িও

থমকে আছে সাজেক সংকটে খাগড়াছড়িও

বান্দরবানে সার ডিলার নিয়োগ পার্বত্য মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্য

পার্বত্য মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম