থমকে আছে সাজেক সংকটে খাগড়াছড়িও
অস্থিরতা নিরসনে সংলাপ কমিটি
Advertisement
সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি ও সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাঙামাটির সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ ও নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে পাহাড়ে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাজেক পরিণত হয়েছে পর্যটকশূন্য জনপদে। চার দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির সামগ্রিক পর্যটনশিল্পেও। হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহণ মালিক, চালক ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
চলমান সংকট নিরসনে অবশেষে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। রোববার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি সংলাপ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডিসি নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ-সদস্য দীপেন দেওয়ান। সভায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার জন্য সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক ও হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের তিন নেতা-অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, শান্তি বিজয় চাকমা ও জ্যোতির্ময় চাকমা কেরোলকে নিয়ে সংলাপ কমিটি গঠন করা হয়।
আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, সাজেকে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা যেন আর বড় না হয়, সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, তাদের সঙ্গে বসে দ্রুত এর সমাধান করা দরকার।
কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান বলেন, আমরা দ্রুত সময়ে আলোচনার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান হবে। অবরোধের কারণ ও ৫ দফা দাবি : সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, এলাকায় জেএসএস (সন্তু লারমা) সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতায় স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকা থেকে এসব সশস্ত্র সদস্য অপসারণসহ ৫ দফা দাবিতে মূলত এই অবরোধ চলছে। ২২ অক্টোবর উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে ৭০ জন আহত হওয়ার দাবি করে তারা। তখন আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচটি সংগঠন সাজেকবাসীর ৫ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিরীহ মানুষের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দাবি পূরণের আহ্বান জানিয়েছে।
পর্যটকশূন্য সাজেক, অর্থনীতিতে ধস : টানা অবরোধের কারণে সাজেক ও খাগড়াছড়ির পর্যটন অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাজেকগামী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন চালক ও শ্রমিকরা। সাজেকের জিপচালক ইব্রাহিম জানান, গাড়ি বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ; সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল জানান, পর্যটন মৌসুমে সাজেককে ঘিরে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হতো, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ।
খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকরা সাজেকে যেতে না পেরে ফিরে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরের ৪৩টি হোটেলে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
অবরোধের খবর না জেনে খাগড়াছড়িতে আসা পর্যটক শায়লা শারমিন ও ফয়সাল আরেফিন জানান, সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অন্য গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। পাহাড়ে কিছুদিন পরপর এমন অস্থিরতার কারণে পর্যটকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
